দুইশ’ বছর আগে জোঁক চাষে ‘ইউরোপের রাজধানী’ হিসাবে খ্যাতি ছিল যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তখন ব্রিটেনে প্রতি বছর চিকিত্সার জন্য চার কোটি ২০ লাখের বেশি জোঁক ব্যবহার করা হতো। উনিশ শতকেই এ খাত থেকে বছরে আয় হতো ১০ লাখ পাউন্ড, যার এক চতুর্থাংশের যোগান দিত ওয়েলস। চিকিত্সায় ব্যবহার করা হতো এসব জোঁক। মাঝখানে বেশ কিছু সময় জোঁকের চাহিদা না থাকলেও আবারো সেই জোঁক চাষ শুরু করেছে ওয়েলস। এখন ইউরোপের বিভিন্ন হাসপাতালে বছরে ৬০ হাজার জোঁকের চাহিদা রয়েছে।—খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকমের।
চিকিত্সকরা রক্তনালী বা হূদযন্ত্রে রক্ত জমাট বাঁধা, হূদযন্ত্রে রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়া, পেশী সংকোচন ও অর্শের মতো রোগের চিকিত্সায় জোঁক ব্যবহার করেন। এছাড়া বাত, আঘাতে সৃষ্ট ব্যথা, মাংসপেশীর ব্যথা বা মাংসপেশী ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সারাতেও জোঁক ব্যবহার করেন চিকিত্সকরা।
বায়োফার্ম লিচেসের কার্ল পিটার্স-বন্ড বিবিসিকে বলেন, জোঁকের তিন জোড়া চোয়ালে তিন শ’র বেশি সরু দাঁত আছে, যা দিয়ে তারা মানুষের দেহে লেগে থাকে। নির্বিঘ্নে রক্ত চুষে নিতে জোঁকের মুখ থেকে এক ধরনের শক্তিশালী তরল নিঃসৃত হয়, যা মানুষের শরীরে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে। জোঁকের এই অসাধারণ ক্ষমতার কারণে মাইক্রোসার্জারিতে জোঁক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ভাঙা আঙুল বা হাড় জোড়া লাগানোর মতো জটিল অস্ত্রোপচার এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
বড় ধরনের দুর্ঘটনায় ধমনী ক্ষতিগ্রস্ত হলে আঘাতপ্রাপ্ত অঙ্গে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। আর রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে শরীরের ঐ অংশের কোষের মৃত্যু ঘটা শুরু হয়। এসব ক্ষেত্রে জোঁক ব্যবহার করলে লম্বা সময় রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রেখে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়।
