সরকারি চাকরিতে কোটা বিতর্ক

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৩, ২১:১০
দুর্নীতিবান্ধব পরিবেশে কোটা পদ্ধতির সংস্কার হিতে বিপরীত হতে পারে পৃথিবীর অনেক দেশেই কোটা ব্যবস্থা রয়েছে এবং বাংলাদেশেও কোটা ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সরকারি চাকরিতে মেধার চেয়ে কোটার আধিক্য থাকে সেখানেই আমার আপত্তি। কোটা থেকে ৫৫ শতাংশ আর বাকি সবাই ৪৫ শতাংশ! কি এক অদ্ভুত কাঠামো। মনে হয় একমাত্র বাংলাদেশেই এটা সম্ভব। কোটা ব্যবস্থা প্রণয়নের সময় মনে করা হয়েছিল, প্রতিটি নিয়োগ শতভাগ স্বচ্ছ হবে। কোথাও কোনো দুর্নীতি হবে না। বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা অনুসরণ করে সবচেয়ে উপযোগী প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়া হবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল উল্টো। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা ইত্যাদি করতে গিয়ে প্রায় প্রতিটি নিয়োগেই উপযুক্ত প্রার্থীরা নির্বাচিত হতে পারেননি। ফলে কোটা ও মেধা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবস্থাটা এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, কোটা হোক মেধা হোক- উপযুক্ত প্রার্থীরা নিয়োগ পাবেন না, যদি স্বজনপ্রীতি অথবা দুর্নীতির আশ্রয় না নেন। চাকরি প্রার্থীরা আন্দোলন করছেন কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য। এটা স্বাভাবিক। কারণ মেধার চেয়ে কোটা কখনই বেশি হতে পারে না। কিন্তু এই আন্দোলনটা যদি দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগের জন্য হতো তাহলে আরো বেশি অর্থবহ হতো। মিঠুন রেজাউল হান্নান যোগাযোগ ও গণমাধ্যম শিক্ষা বিভাগ ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ-ইউডা ধানমন্ডি, ঢাকা কোটা ব্যবস্থা :দক্ষ প্রশাসনের অন্তরায় দক্ষ প্রশাসন একটি দেশের প্রাণ। এর কেন্দ্রে থাকেন মূলত দক্ষ আমলাগণ। দক্ষ ও মেধাবী আমলা ছাড়া দক্ষ প্রশাসন অচিন্ত্যনীয়। দক্ষ প্রশাসনের প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি অনুভূত হয় যখন কোন দেশের অধিকাংশ মন্ত্রীরই দক্ষতার অভাব থাকে। তাই বাংলাদেশের মতো দেশে দক্ষ প্রশাসনের প্রয়োজনীয়তা উন্নত দেশের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। কিন্তু স্বাধীনতার পর হতে এ পর্যন্ত আমরা কী দেখছি? সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ ভাগ আর মেধা ৪৪ ভাগ। মেধার চেয়ে কোটার প্রাধান্য বেশি! কোটা হলো ব্যতিক্রম আর মেধা হলো স্বাভাবিক। ব্যতিক্রম স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি- এমন নজির বোধ হয় বাংলাদেশের মত হতভাগাদের দেশ ছাড়া আর কোথাও নেই। তাই, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার মত দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য, প্রশাসনে মেধাবীদের নিয়োগ দান ও কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে-কোটা নয় মেধাবীদের সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়ার জন্য সরকার ও পিএসসি-কে অনুরোধ জানাচ্ছি। মো. সাইদুর রহমান চয়ন মার্কেটিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোটা পদ্ধতির সংশোধনী আনা হোক নিম্নোক্ত উপায়ে কোটা পদ্ধতির সংস্কার করা হোক, যেমন বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০% এটাকে কমিয়ে ১২% করা হোক। কারণ, সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাগুলোর পর দেখা যায় যে, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০% পরিপূর্ণ হয় না, ফলে বছরের পর বছর আসনগুলো শূন্য হয়ে পারে থাকে আর প্রকৃত মেধাবীর চাকরির জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। জেলা কোটা ১০% এটাকে কমিয়ে ৫% উপজাতিদের সংখ্যা তুলনায় ও শিক্ষার হার তুলনায় ৫% একটু বেশি হয়ে যায় তাই এটাকে কমিয়ে ৩% করা হোক। প্রতিবন্ধী কোটা ১% থেকে ২%-এ উন্নতি করা হোক। কারণ পৃথিবীতে তারা অনেক অসহায় তাই তাদের প্রতি খেয়াল রাখা আমাদের মানবিক কর্তব্য। তাহলে সংশোধনীটা হলো এরকম যে, কোটা ৩২% আর মেধাবী ৬৮%। যদি উপরোক্ত উপায়ে কোটা পদ্ধতির সংশোধন আনা হয় তাহলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস শাহবাগ চত্বরে কোটা পদ্ধতি নিয়ে আর কোনদিন তৈরি হবে না মেধাবীদের গণ-আন্দোলন মঞ্চ, হবে না আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাথে মেধাবীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং দেশও বঞ্চিত হবে না মেধাবীদের উন্নত সেবা থেকে। আহমেদ ইকবাল বিএসএস ১ম বর্ষ কবি নজরুল গভ. কলেজ, ঢাকা সরকারি ও বেসরকারিভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হলে বাংলাদেশে কোটা বিতর্ক বন্ধ হবে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করলে দেখা যায় যে কর্মসংস্থানের তুলনায় বেকার যুবকের সংখ্যা অনেক বেশি। যদি সরকারি ও বেসরকারি-ভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা যায় তাহলে আমার বিশ্বাস বেকার সমস্যা সমাধান হবে। দেশের যুবক সম্প্রদায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্রুত অগ্রসর হবে এবং বিভিন্ন আন্দোলন থেকে দেশকে মুক্ত রাখা সম্ভব। আর সরকারি চাকরিতে যে কোটার বিতর্ক চলছে তা বন্ধ হবে। কোটা প্রথা হলো বিশেষ কিছু ব্যক্তিকে সম্মান প্রদান করা। যারা বেশির ভাগ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং কিছু প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য যেসব বিষয় কোটা প্রথা রয়েছে তারাও সম্মানের অধিকারী। স্বাধীনতার সম্মান রক্ষা এবং মুক্তিযোদ্ধা যারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে তাদের সম্মানে কোটা প্রথা থাকা উচিত। অনেকে মনে করে কোটা প্রথার কারণে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে চাকরি থেকে। সত্যি প্রকৃত মেধাবীরা ভাল চাকরি করে জীবন অতিবাহিত করছে। কেউ ছন্নছাড়া জীবন অতিবাহিত করছে না। তবে বাংলাদেশের তরুণ সম্প্রদায়ের কথা চিন্তা করে সরকারি ও বেসরকারিভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা উচিত। মো. আব্দুর রহমান সুমন বিএসএস, সরকারি তোলারাম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন