তিনি কি আইনের ঊর্ধ্বে

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৩, ২১:২৫
স্বরূপকাঠি এখন আতঙ্কের জনপদ। বিশেষ করিয়া হিন্দু জনগোষ্ঠীর নিকট ইহাই রূঢ় বাস্তবতা। কারণে-অকারণে তাহারা হামলা ও নিপীড়নের শিকার হইতেছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইতেছেন না। সর্বশেষ হামলার শিকার হইয়াছিলেন স্থানীয় বঙ্গবন্ধু জোটের নেতা আশিস বড়াল। হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। গত ২৭ জুলাই আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক ইফতার পার্টিতে এই হামলা চালানো হয়। ঘটনাটি ঘটিয়াছে প্রকাশ্যে। হামলাকারীদের সকলেই দেখিয়াছেন। সকলেই তাহাদের চেনেন। অথচ পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয় নাই। একপর্যায়ে আক্রান্ত আশিস বড়াল নিজে বাদী হইয়া মামলাও করিয়াছেন তাহাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু ঘটনার প্রায় ১৯ দিন পরও অভিযুক্তদের কেশাগ্রও স্পর্শ করে নাই পুলিশ। তাহারা বুক ফুলাইয়া দাপটের সাথে ঘুরিয়া বেড়াইতেছেন। অন্যদিকে, মামলা করিবার কারণে আশিস বড়ালকে বাড়িছাড়া হইতে হইয়াছে। সেই সাথে পালাইয়া বেড়াইতে হইতেছে হিন্দু সমপ্রদায়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষকে। প্রতিকার দূরে থাক, বরং আবারও আক্রান্ত হইবার আতঙ্কে দিশাহারা হইয়া পড়িয়াছেন তাহারা। জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ইতঃপূর্বে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র সিকদারের উপরও হামলা চালাইয়াছিল। কিন্তু আইনের আঁচড়টিও লাগে নাই কাহারও গায়ে। আমরা জানিতে ইচ্ছুক যে এতো গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও যাহার নেতৃত্বে এই হামলা হইয়াছিল অদ্যাবধি সেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হইল না কেন? তিনি কি আইনের ঊর্ধ্বে? তবে কি আমরা ধরিয়া লইব যে গ্রেফতারের বিধানটি কেবল ক্ষমতাসীন দলবহির্ভূত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য? ইহা বোধগম্য যে ক্ষেত্রবিশেষে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কোনো কোনো সদস্যের পক্ষপাতদুষ্টতা বা গাফিলতি থাকিতেই পারে। কিন্তু উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইহার দায় এড়াইবেন কিভাবে? পুলিশ প্রশাসন ক্ষমতাসীন দলের ক্রীড়নকে পরিণত হইলে তাহার পরিণতি কতোটা ভয়াবহ হইতে পারে তাহা কাহারও অজানা নহে। এই ধরনের অতি উত্সাহী বা আজ্ঞাবহ কর্মকর্তাদের অপকর্মের দায়দায়িত্ব বরাবরই ক্ষমতাসীন দল বা সরকারকেই বহন করিতে হইয়াছে। দিতে হইয়াছে চরম মূল্য। কিন্তু কেহই সেই অভিজ্ঞতা হইতে শিক্ষা গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া তো মনে হয় না। বরং সকল সরকারের আমলেই ব্যতিক্রমহীনভাবে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হইয়া চলিয়াছে। ভুলিয়া গেলে চলিবে না যে, নৈরাজ্য তো আর অকারণে হয় না। এমনি এমনি তো আর আইন নিজের হাতে তুলিয়া নেয় না শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ। যেইসব দেশ অতীতে নৈরাজ্যকবলিত হইয়াছে কিংবা এখন নৈরাজ্যের দিকে ধাবিত হইতেছে, সেইসব দেশের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হইতে সকলেরই শিক্ষা নেওয়া উচিত। এই ধরনের ছোটখাটো অন্যায়, অবিচার ও অনিয়মের বারুদ জমা হইতে হইতেই একদিন তাহা বিশাল বিশৃঙ্খলার অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হইয়াছে। অতএব, ক্ষমতার দাপটে আইনের স্বাভাবিক গতিকে যাহারা রুদ্ধ করিতেছেন, ইহার ভয়াবহ পরিণতির কথাটিও তাহাদের বিবেচনায় রাখা অত্যাবশ্যক বলিয়া আমরা মনে করি। আমাদের বক্তব্য সুস্পষ্ট। স্বরূপকাঠিকে যাহারা আতঙ্কের জনপদে পরিণত করিয়াছেন অনতিবিলম্বে তাহাদের গ্রেফতার করিয়া বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাইতে হইবে। নিশ্চিত করিতে হইবে দলমত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন