বাংলা প্রথমপত্র
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন
সিনিয়র শিক্ষক : বাংলা
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা
অর্ধাঙ্গী
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
১. নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
ক.রফিক সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। মূলত তার আয়েই সংসার চলে। তাই সংসার তাকে স্বামী বা প্রভু হিসেবে গ্রহণ করেছে।
খ.স্ত্রীর সূত্রে মজিদ তার শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তির একটা বিশাল অংশের মালিক হয়েছে। তা দিয়েই তার সংসার চলে। মজিদের স্ত্রী এ সংসারের স্বামী বা প্রভু নয় বরং মজিদ সে আসনটি দখল করে আছে।
ক. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? ১
খ.স্বামীর স্থলে ‘অর্ধাঙ্গ’ শব্দ প্রচলিত হলে সুবিধা কী? ২
গ. ‘মজিদ ও রফিক সংসারে সর্বদা নিজেদের স্বামী বা প্রভু মনে করেন’ ‘অর্ধাঙ্গী’ রচনার আলোকে এর স্বরূপ ব্যাখ্যা করো। ৩
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে নারীর অবস্থান নির্ণয় করো। ৪
১ নম্বর প্রশ্নের ‘ক’-এর উত্তর
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
১ নম্বর প্রশ্নের ‘খ’-এর উত্তর
স্বামীর স্থলে অর্ধাঙ্গ প্রচলিত হলে উভয়ই শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে বিকশিত হতে পারবে।
স্বামী শব্দের অর্থ প্রভু, কিন্তু অর্ধাঙ্গ শব্দের অর্থ প্রভু নয়, অর্ধেক অঙ্গ। সমাজ নামক গাড়ির একটি চাকা ছোট এবং অন্য চাকা বড় হলে যেমন গাড়ির গতি সামনের দিকে অগ্রসর হয় না, তেমনই পুরুষ যদি নারীর প্রভু হয় তাহলে উন্নয়নের গতি স্থবির হয়ে পড়ে। একটি শরীরের সুস্থতার জন্যে প্রতিটি অঙ্গই মূল্যবান বিধায় স্বামী বা প্রভু শব্দটির পরিবর্তে অর্ধাঙ্গ শব্দটি প্রচলিত হওয়া উচিত; তাহলে নারীরা নিজেদেরকে দাসী না ভেবে অর্ধাঙ্গী ভাবতে পারবে এবং মানসিক দাসত্ব থেকে বের হয়ে এসে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হবে।
১ নম্বর প্রশ্নের ‘গ’-এর উত্তর
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, নারী সমাজের অর্ধাঙ্গী; কিন্তু আমাদের সমাজে নারীর প্রতি পুরুষের রয়েছে সীমাহীন বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি। উদ্দীপকের মজিদ এবং রফিকের মধ্যেও এ বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ করা যায়।
অর্ধাঙ্গী প্রবন্ধে আলোচিত হয়েছে পুরুষশাসিত সমাজে নারীর কোনো মর্যাদা দেওয়া হতো না। তত্কালীনে পুরুষ মনে করত, নারীরা শিক্ষিত হয়ে উঠলে সমাজ নষ্ট হয়ে যাবে। পুরুষরা নিজেদের কর্তৃত্ব ফলানোর জন্যে নারীকে দাসী হিসেবে ভাবত। পুরুষশাসিত এই সমাজে স্ত্রী তার স্বামীর হাতের পুতুল মাত্র।
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, মজিদ ও রফিক দুজনেই তাদের স্ত্রীদের ওপর সমান প্রভাব বিস্তার করেছে। তারা তাদের স্বামিত্বের অধিকার ষোলো আনায় খাটিয়েছে স্ত্রীদের ওপর। স্ত্রীদের তারা সেবাদাসী হিসেবে গণ্য করেছে। তারা মনে করে, এ সংসারের তারাই প্রভু। আমাদের ওপর কর্তৃত্ব করার অধিকার কারও নেই। যদি তারা তাদের স্ত্রীদেরকে শুধু সেবাদাসী মনে না করে সহচরী ভাবত, তাহলে স্ত্রীদের সমাজে এ অধঃপতন হতো না। উদ্দীপকের এবং প্রবন্ধেরআলোকে বলা যায় নারীকে অবহেলা করা পুরুষের চিরন্তন স্বভাবে পরিণত।
‘ঘ’-এর উত্তর আগামীকাল
