ইরাকের কুর্দিস্তানে সিরীয় শরণার্থীর ঢল

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৩, ২০:৫৪
ইরাকের কুর্দিস্তানে হঠাত্ করে হাজার হাজার সিরীয় শরণার্থীদের ঢল নেমেছে। এদিকে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আজ রবিবার জাতিসংঘ অস্ত্র পরিদর্শক দলের সিরিয়া যাওয়ার কথা রয়েছে। ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দিস্তানে হঠাত্ করে হাজার হাজার সিরীয় শরণার্থীদের ঢল নেমেছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার একদিনেই পাঁচ থেকে সাত হাজার সিরীয় ইরাকে প্রবেশ করেছে। পেশখাবর এলাকায় টাইগ্রিস নদীর ওপরে নতুন পন্টুন সেতু পেরিয়ে বৃহস্পতিবার প্রথমে ৭৫০ জন সিরীয় শরণার্থী কুর্দিস্তানে প্রবেশের পরপরই হাজারো শরণার্থীর ঢল নামে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাই কমিশনার আদ্রিয়ান এডওয়ার্ডস জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার হঠাত্ই হাজার হাজার সিরিয় গণহারে ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ঢুকেছে।’ জানা গেছে, আলেপ্পো, হাসাকাহসহ সিরিয়ার অন্যান্য যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে আতঙ্কিত মানুষজন সপরিবারে নতুন করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাড়ি জমাচ্ছে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে বিশ লাখ সিরীয় পাশের দেশগুলোতে আশ্রয় নেয়। সমপ্রতি দেশটিতে গৃহযুদ্ধ আরো তীব্রতর হয়েছে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ইতোমধ্যে সিরিয়া থেকে দেড় লাখ শরণার্থী ইরাকে পাড়ি জমিয়েছে। গত মে মাসের ১৯ তারিখ থেকে ইরাকের কুর্দিস্তান সরকার ওই রাজ্যের অভ্যন্তরে সিরীয় শরণার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে শুধু আনবার রাজ্যের আল ওয়াহিদ সীমান্ত দিয়ে সিরীয়রা সীমিত আকারে ইরাকে আশ্রয় নিত। ইরাকে সামপ্রদায়িক দাঙ্গা সিরীয় শরণার্থীদের জন্য হুমকি হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আদ্রিয়ান বলেন, কুর্দিস্তান এখন পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। এদিকে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দেশটিতে যাচ্ছে জাতিসংঘ অস্ত্র পরিদর্শক দল। শুক্রবার এক কর্মকর্তা বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় দলটি রবিবার সিরিয়ায় প্রবেশ করবে। ওই অঞ্চলের একজন কূটনীতিকও এ সময়সূচি নিশ্চিত করেছেন। সিরিয়া সরকারের সঙ্গে বিস্তারিত কর্মসূচি ঠিক করা হয়েছে এবং অস্ত্র পরিদর্শকদল শিগগিরই সেখানে যাচ্ছে বলে এর আগে বুধবার জানিয়েছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। দামেস্কের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, দুই সপ্তাহে সিরিয়ার তিনটি এলাকা পরিদর্শন করবে জাতিসংঘ দলটি। জানা গেছে, সুইডিশ অস্ত্র বিশেষজ্ঞ অ্যাক সোলেস্ট্রোমের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে কিনা এবং কারা তা ব্যবহার করেছে তা খতিয়ে দেখবেন অস্ত্র পরিদর্শকরা। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২৮ মাস অতিবাহিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আসাদের সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে এ লড়াইয়ে এক লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।