কমলগঞ্জ এলাকায় পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির আওতাধীন বৈদ্যুতিক খুঁটি হইতে ট্রান্সফরমার চুরি হইতেছে, ইহার ক্ষতিপূরণ দিতে হইতেছে বিদ্যুত্ গ্রাহকদের। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির নিয়ম অনুযায়ী ট্রান্সফরমার চুরি হইলে গ্রাহকদের এই মূল্য পরিশোধ করিতে হয়। অসাধু কিছু মানুষ একটি চক্র সৃষ্টি করিয়া এই চৌর্যবৃত্তিতে নামিয়াছে বলিয়া জানা যায়। এই কুম্ভিলক চক্রকে ধরিতে না পারিলে ঐ এলাকায় বিদ্যুেসবায় কোনো উন্নতির সম্ভাবনা নাই।
জানা গিয়াছে, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির অন্তর্ভুক্ত কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের নিয়ন্ত্রণে কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার একাংশে ৮৯০ কিলোমিটার বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইনের আওতায় রহিয়াছে ২১০টি গ্রাম। বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৩৪ হাজার গ্রাহকের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ ব্যবস্থা চালু রাখিতে স্থাপিত পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির খুঁটিতে রহিয়াছে বিভিন্ন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার। ২০১২ সালের জুন হইতে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত এই এলাকার ৩০টি গ্রাম হইতে মোট ১১০টি ট্রান্সফরমার চুরি হইয়াছে। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি ইহার বিপরীতে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দিয়া লিফলেট বিলি করিয়াছে এবং ট্রান্সফরমারে লোহার শিকল পরাইতেছে অথবা নাট ওয়েল্ডিং করিতেছে। কিন্তু চুরি রোধ হইতেছে না।
ইত্তেফাকে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে কেবল কমলগঞ্জের খবর আসিলেও অনুমান করা কঠিন নহে যে, সারা দেশেই এইরকম ঘটনা কমবেশি ঘটিয়া চলিতেছে। অনুসন্ধান করিয়া দেখিতে হইবে এই চৌর্যবৃত্তিতে কাহারা যুক্ত রহিয়াছে এবং তাহারা ঐ ট্রান্সফরমারগুলি কোথায় বিক্রি করিতেছে। বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার অবৈদ্যুতিক খাতে নিশ্চয়ই চলিয়া যাইতেছে না। এইরকম সম্ভাবনা উড়াইয়া দেওয়া যায় না যে, সংশ্লিষ্ট বিভাগেরই কোনো কোনো লোক ইহার সহিত যুক্ত। এমতাবস্থায় লিফলেট বিলি করিয়া তথাকথিত জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে ট্রান্সফরমার চুরি রোধ করা অসম্ভব। বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করা সাধারণ ছিচকে চোরদের পক্ষে সম্ভব নয়। বিদ্যুতের লাইনে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকিলে ট্রান্সফরমার চুরি করিতে গিয়া নিজের বিপদ ডাকিয়া আনাই স্বাভাবিক। অতঃপর এই কথা প্রায় নিশ্চিত করিয়া বলা যায় যে, বিপজ্জনক এই তস্করবৃত্তিতে যাহারা নিয়োজিত রহিয়াছেন, তাহারা বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যাপারে যথেষ্ট অভিজ্ঞ ও দক্ষ। এই অভিজ্ঞ ও দক্ষ চোরদের শনাক্ত করিয়া আইনের হাতে সোপর্দ করিতে পারিলেই কেবল সমস্যার সমাধান হইতে পারে। অভিযোগ রহিয়াছে যে, চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমারগুলোই আবার বিদ্যুত্ বিভাগকেই গছানো হইয়া থাকে। বিদ্যুত্ খাতের নানান দুর্নীতির কথা সর্বজনবিদিত। আর ঐ নিয়মটিই বা কীরকম গ্রহণীয় যে, চুরির ভার গ্রাহকদের বহন করিতে হইবে? উল্লেখ্য, ব্রিটিশ আমলেও কোনো গ্রামে চুরি বা ডাকাতি হইলে পুরো গ্রামবাসীদের দায়ী করিবার অন্যায্য রীতি প্রচলিত ছিল। সেই যাহাই হউক, চুরি রোধে যেমন স্থানীয় প্রশাসনকে সচেষ্ট হইতে হইবে, তেমনি এমন নিয়মনীতি পরিবর্তন করিয়া গ্রাহকবান্ধব করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।
