রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দেয়ার প্রশ্নই আসে না :পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫৩
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনশেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেন, বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এখানে আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেখানে আমাদের জনসাধারণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারছি না সেখানে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দেয়ার প্রশ্নই আসে না। তবে দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে তাদের ব্যাপারে আমাদের সহানুভূতি রয়েছে। যে কারণে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, চিকিত্সা, খাদ্যসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে এবং রোহিঙ্গারা এ দেশের গ্রামের মানুষের চেয়ে অনেক ভাল আছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার ২৪১৫ জন রোহিঙ্গাকে সে দেশে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশতঃ সে দেশের সামপ্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় ওই সব রোহিঙ্গাদের যথাসময়ে ফিরিয়ে নেয়া হয়নি। তবে এখন সেখানে পরিবেশ শান্ত হয়ে উঠছে তাই ওইসব রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে তাদের সাথে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব রেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গা ছাড়াও দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান নেয়া সমস্ত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনও মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে চাপ প্রয়োগ করেছে। আশা করা হচ্ছে মিয়ানমার সরকার গণতন্ত্রের দিকে এগোচ্ছে তাই রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করবেন। দীপু মনি বলেন, মিয়ানমার, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। তাই এ দেশের ভূখন্ডে রোহিঙ্গাদের জঙ্গি সংগঠনে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। এদের দমন করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সব সময় তত্পর রয়েছে। এমতাবস্থায় আর কোন রোহিঙ্গা গ্রহণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে পৌঁছলে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।