পাকিস্তানে বন্যায় ৭৭০ গ্রাম প্লাবিত, ১০৮ জনের মৃত্যু

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৩, ২০:২৪
ভারি মৌসুমী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যায় পাকিস্তানের প্রায় তিন লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত দুই সপ্তাহের বন্যায় এখন পর্যন্ত ১০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। পাকিস্তানের মুলতান, কামোকে ও জংয়ের প্রায় ৭৭০টির মতো গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। পাঞ্জাবের নতুন নতুন এলাকায় বন্যার আশংকা করা হচ্ছে। -খবর ডন অনলাইন ও এএফপির। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের মতে, ভারত আরো এক লাখ ১৪ হাজার কিউসেক পানি সুটলেজে ছেড়েছে। গতকাল সোমবার এই পানি গান্দা সিংওয়ালাতে পৌঁছে। বন্যার কারণে এসব এলাকার ফসল, ঘরবাড়ি, গবাদিপশু ও মানুষের সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ২৪২৭টি ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। এদিকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বন্যাদুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশু ও নারীদের বিশেষ সুরক্ষা প্রদানের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মৌসুমী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় এ পর্যন্ত পাকিস্তানে ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ। আবহাওয়া বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, আবারো ভারি বৃষ্টিপাত হলে নদীগুলোতে ও এর পার্শ্ববর্তী নগরীতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে। কেননা ভারত ও পাকিস্তানের সবগুলো বাঁধের যে সামর্থ্য তা ভরে গেছে। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন- গত ছয়দিনের বিরামহীন বৃষ্টির কারণে পাঞ্জাবের ভূমি পানিতে সিক্ত। তার মানে আরো বৃষ্টি হলে সেগুলো মাটির উপর দিয়ে বাহিত হয়ে নগরীতে বন্যা সৃষ্টি করবে। গত রবিবার লাহোরে বন্যায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। কাসুরেও অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। গত তিন বছর ধরেই পাকিস্তান মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে। বলা হচ্ছে সরকার বন্যারোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।