কোটা পদ্ধতি হয়তো বাতিল নতুবা সংস্কার করা উচিত
আমাদের দেশে যদিও সংবিধানের ২৯নং ধারার ৩নং অনুচ্ছেদে কোটা পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। এই কোটা ব্যবস্থা BCSসহ সরকারি চাকরিতে ৫৫% আর মেধাবী ৪৫ শতাংশদের নিয়োগ দিয়ে চলেছে পিএসসি। আমি মনে করি একটি স্বাধীন দেশে মেধাবীদের বঞ্চিতকারী কোটা পদ্ধতি থাকা উচিত নয়। আর মুক্তিযোদ্ধা কোটা, নারী কোটা, জেলা কোটা, আদিবাসী কোটা এগুলো বাতিল করা উচিত। অবশ্য এ কোটা পদ্ধতি তাদের জন্য দরকার যারা প্রতিবন্ধী। যদি কোটা পদ্ধতি বাতিল না-ই করা যায় তবে এমনভাবে সংস্কার করতে হবে তা যেন আপামোর জনতার সহনশীলতার মাত্রাকে অতিক্রম না করে। আর যদি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি রাখতেই হয়, তবে তা যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে এবং সেক্ষেত্রেও প্রার্থীদের সুযোগ দিতে হবে মেধার ভিত্তিতে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে মেধাবীদের মূল্যায়নের কোন বিকল্প নেই। সুতরাং আমাদের সোনার বাংলাদেশকে উন্নতির স্বর্ণশিখরে নিয়ে যেতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের কোন বিকল্প নেই। আর এটাই আমাদের সকল ছাত্র-ছাত্রীর প্রাণের দাবি।
মো. আবুবক্কর সিদ্দীক
এমবিএ, আইবিএ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
===
শুধু মেধাকে প্রাধান্য ও কোটা বিলুপ্ত কি আদৌ উচিত
বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ। কোটা বিরোধীরা মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ নানা কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা এদেশ স্বাধীন করেছেন। এদেশ স্বাধীন হবার সময় একদল পাকিস্তানি, একদল বাংলাদেশি এবং একদল ভীরু নিরপেক্ষ ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় একটি বুলেট এসে মুক্তিযোদ্ধার জীবন নিয়ে যেতে পারে এমন ভয়াবহ মুহূর্তে দেশের স্বার্থে জীবনকে তুচ্ছ করে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে এদেশ এনেছেন এবং স্বাধীন করেছেন শত্রু থেকে। অপরদিকে একদল যারা পাকিস্তানি পক্ষের রাজাকার ছিল এবং আর একদল ভীরু নিরপেক্ষ ছিল যারা কিছু করেনি বা পালিয়েছে। এখন সেই কষ্টার্জিত বাংলাদেশে যদি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, রাজাকারের সন্তান, ভীরুর সন্তান পরীক্ষা দেয় সরকারি চাকরিতে, যে সরকার হোক না কেন চাকরি হতো না মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ না করলে, শুধু মেধা দিয়ে কি ঐ চাকরিতে রাজাকার বা ভীরুর সন্তানদের থাকা উচিত। ৭০ ভাগ ঐ রাজাকার এবং ভীরুর সন্তানদের, ৩০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের তাও সহ্য হয় না ঐ মেধাবী ও মেধাবী নামধারী রাজাকার, ভীরু কাপুরুষের সন্তানদের।
আপন মাহমুদ
বাংলা বিভাগ, মাস্টার্স,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
===
কোটা সাংবিধানিক অধিকার, সহানুভূতি
নয়
সংবিধানের ২৯-এর ৩নং অনুচ্ছেদে কোটার কথা বলা হয়েছে। অথচ স্বীয় স্বার্থ হাসিল করার জন্য কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল এ অনুচ্ছেদ অস্বীকারসহ রাস্তাঘাট অবরোধ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর চালাচ্ছে। সংবিধান প্রণয়ন কমিটিতে যে ৩৪ জন সদস্য ছিলেন তারা নিশ্চয়ই আইন বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী ও জ্ঞানী ছিলেন; তারাই সবকিছু বিবেচনা করে কিছু কোটা সংরক্ষণের প্রয়োজন আছে বলেই সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেন। বাংলাদেশের মত পৃথিবীর কোন দেশই সরাসরি যুদ্ধ করে স্বাধীনতা লাভ করেনি। তাই মুক্তিযোদ্ধা কিংবা তাদের সন্তানদের জন্য কিছু কোটা থাকা কারো মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে না। তাছাড়া এ মুক্তিযোদ্ধা কোটা দেশের ভবিষ্যত্ যুদ্ধকালে মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। কারণ মানুষ ভাববে যুদ্ধ করলে সম্মান বা সুবিধা পাওয়া যাবে। মুক্তিযোদ্ধা সনদ থাকলেই চাকরি পাওয়া যায় না; কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। তারাও কম মেধাবী নয়। কারণ তাদেরও নির্বাচনী, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। মেধাবীরা যেখানে ৬০%-৬২% নম্বর পেয়ে ক্যাডার হয়: সেখানে মুক্তিযোদ্ধা কোটারা ৫৫%-৫৭% নম্বর পেয়ে ক্যাডার হয়। তাই তারা মেধাবী নয় এটা বলা সমীচীন নয়। শুধু আমাদের দেশেই নয় পৃথিবীর অন্যান্য দেশে কোটা পদ্ধতি রয়েছে। যাদের আত্মত্যাগে আমরা মহান স্বাধীনতা তথা দেশ পেয়েছি; তাদের অবদানের কথা ভুলে গেলে চলবে না।
মো. রাসেল বিশ্বাস
এমবিএ ৩য় ব্যাচ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
==
সব কোটার সংস্কার করতে হবে
তালিকার বাইরেও অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। যারা সেবা দিয়ে, মেধা দিয়ে, শ্রম দিয়ে দেশকে স্বাধীন করতে ভূমিকা রেখেছে। কোটাও নেই। কোটার মাধ্যমে কি বোঝানো হচ্ছে যে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের মেধা নেই; কোটার সাহায্যে তাদের নিয়োগ দিতে হবে? দেশ রক্ষায় যে প্রস্তুত, সে রক্তে মেধাও রয়েছে। আমার বাবা যদি কোন মহত্ কাজ করে তবে আমি খুব বেশি গর্ববোধ করতে পারি; মেধাবী তো আর হতে পারি না? আমি যুদ্ধ করে মাকে মুক্ত করলাম এতে আমার সন্তান বা নাতি-নাতনির বাহাদুরি কোথায়? বুঝি না। যাই হোক সংকট সমাধানের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি সহায়তা প্রদান এবং মেধার সঠিক মূল্যায়ন করা দরকার। শুধু মুক্তিযোদ্ধা কেন, সব ধরনের কোটার যুক্তিযুক্ত সংস্কার করতে হবে। করুন প্লিজ।
মো. হাসিবুল ইসলাম,
ইংরেজি বিভাগ, বি.এ (সম্মান),
বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
