কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের প্রয়োজন
স্বাধীনতার পর হতে আজ পর্যন্ত কোন বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত কোটা ১৩.০৮%-এর বেশি পূরণ হয়নি। তাহলে ১৩%-এর বেশি কোটা রাখার যৌক্তিকতা কি? নারী কোটা ও জেলা কোটার প্রয়োজনীয়তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সংখ্যা প্রায় সমান। তাছাড়া কোটার মাধ্যমে নিয়োগদানের ফলে প্রশাসন কোটাধারী ও মেধাবী— দু’টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। যা প্রশাসনের গতিকে স্তিমিত করবে। প্রশাসনকে দক্ষ করতে হলে প্রশাসনে কোটামুক্ত নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। সমাজের অনগ্রসর শ্রেণীর উপযুক্ত প্রতিনিধিত্বের জন্য প্রয়োজনে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কোটা রাখা যেতে পারে। যাতে তারা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়ে নিজেদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের চাকরির যোগ্য করে তুলতে পারে। তাই, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার মত দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য, প্রশাসনে মেধাবীদের নিয়োগ দান ও কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে— কোটা নয় মেধাবীদের সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়ার জন্য সরকার ও পিএসসিকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
মো. সাইদুর রহমান চয়ন
মার্কেটিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
০০০০০
কোটা পদ্ধতি চির বিলুপ্ত করা হোক
প্রত্যেক মা-ই তার সন্তানকে ভালোবাসে, কাউকেই কম নয়। কিন্তু সকল সন্তানকে মা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে দেয় না। কিন্তু কেন? সোজা উত্তর হলো মেধার জন্য। ঠিক একই রকম দেশ-মাতৃকার জন্য মমতার দিক দিয়ে সবাই সমান কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য নয়। গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য মেধাবীদেরই প্রাধান্য দেয়া উচিত এবং বাঞ্ছনীয়।
মোহাম্মদ ইয়াহইয়া
বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট,
মার্কেটিং বিভাগ (৪র্থ বর্ষ),
লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট
০০০০০
কোটার সময়সীমা থাকা প্রয়োজন
কোটা পদ্ধতি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে অযথাই বিতর্ক হচ্ছে বলে মনে করি। অনেকেই কোটা পদ্ধতি তুলে দেয়ার কথা বলছেন। তারা এই পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছেন না। সমাজের পিছিয়ে-পড়া জনগোষ্ঠিকে প্রাধান্য দেবার জন্যই এই পদ্ধতি। সারাবিশ্বেই কোটা পদ্ধতি চালু আছে। পত্রিকা মারফত যেটা জানতে পারছি- কোন বছরই কোটা পরিপূর্ণ হচ্ছে না যার জন্য অনেক পদ খালি পড়ে থাকছে। কথা হলো তাহলে আসন সংখ্যা না কমিয়ে কেনো উল্টোটা করা হচ্ছে? অথবা যখন কোন পদ খালি থাকছে তখন মেধাতালিকা অনুযায়ী অন্য প্রার্থীকে কেনো সুযোগ দেয়া হচ্ছে না? যারা মুক্তিযোদ্ধা কোটার সমালোচনা করছেন তারা ঠিক এতটা কঠোর না হলেও পারতেন। ৩০ ভাগের স্থানে ৫ কিংবা ১০ ভাগ কোটা রাখার প্রস্তাব করা যায়। একইসাথে এই কোটার অবশ্যই সময়সীমা নির্ধারণ থাকা প্রয়োজন।
মাকসুদ আলম মাসুদ
আইন বিভাগ,
প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ঢাকা
০০০০০
কোটা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে
স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত আমাদের দেশে কোটার সঠিক ব্যবহার হয়নি। ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়েছে (১২-১৩%), নারী কোটারও একই অবস্থা। এসবের পেছনে যুক্তি হচ্ছে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ার। তাহলে আমার প্রশ্ন- ৫৬% কোটা রাখার মানে কী? এবং যোগ্য প্রার্থীর অভাবে ফাঁকা হওয়া আসনগুলো যায় কোথায়? কেনইবা অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীদের চরম অবস্থার মধ্যে রাখা হচ্ছে? সর্বশেষ ৩৪তম বিসিএস প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় কোটা প্রয়োগের মধ্যদিয়ে নতুনভাবে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে যা কেউ আশা করেনি। সর্বশেষে আমি কোটা ব্যবস্থার অন্তরালে ফাঁকা আসনগুলোর রাজনৈতিকভাবে ব্যবহূত হওয়ার প্রতিবাদ জানাই এবং এই ব্যবস্থার সময়োপযোগী সমাধান চাই যার মধ্যদিয়ে কোটা ব্যবস্থা সম্পর্কিত বিতর্কের অবসান হবে।
হাসিবুল্লাহ
লোক প্রশাসন বিভাগ, ২য় বর্ষ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
০০০০০০
চাকরির ক্ষেত্রে সম্মান বা সহানুভূতি নয় বরং যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেয়া উচিত
কোটা ব্যবস্থা মেধা বা যোগ্যতাকে অবমাননা করছে। শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই মেধা যাচাইয়ের বিভিন্ন অগ্নিপরীক্ষা পাড়ি দিতে হয়। এরকম অগ্নিপরীক্ষা পাড়ি দিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ করে মানুষ তাদের জীবনের পথ বেছে নেয়। বলা হয়ে থাকে এটা হচ্ছে ফসল ঘরে তোলার সময়। নিজের জমিতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কেউ নিশ্চয়ই চাবে না যে অল্প পরিশ্রম করা ব্যক্তির চেয়ে কম ফসল তার জমিতে ফলুক। এরকমভাবে কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে মেধাবীদের যোগ্যতাকে হেয় করা হচ্ছে। চাকরির ক্ষেত্রে সম্মান বা সহানুভূতি নয় বরং যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
মো. আসাদুজ্জামান রাসেল
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু
