নির্বাচন নিয়ে বড় দু’দল একে অন্যকে অভিযুক্ত করে যেভাবে বক্তব্য রাখছে তা ভালো মনে হচ্ছে না। নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশ যে গভীর সংকটে পড়েছে, সেই সত্যটি ক্ষমতাসীনেরা উপলব্ধি করতে না পারলেও সাধারণ মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। সুতরাং এবার দু’দল ক্ষান্ত হোন- অনেক হয়েছে।
আইরিন সুলতানা (সন্জু)
ধুপপুর, মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম
প্রধানমন্ত্রীর এক চুলও না নড়ার জবাবে বিরোধী দলীয় জোটপ্রধানের বক্তব্য শতভাগ সমর্থনযোগ্য। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ দম্ভ ও অহংকারের চরম প্রদর্শনীতে মগ্ন। নির্দলীয় সরকারের পক্ষে জনগণের দাবি পাশ কাটিয়ে যেনতেনভাবে নির্বাচনের চেষ্টা জনগণই প্রতিরোধ করবে। প্রার্থনা করি যেন তাদের সুমতির মাধ্যমে দেশ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়।
মো. ফখরুল ইসলাম টিপু, সেনবাগ, নোয়াখালী
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যে বক্তব্য রেখেছেন তার সাথে আমি একমত। অন্যদিকে সরকারি দলের নেত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন আমি মনে করি তাদের দুর্নীতির পাহাড় বাতাসে উড়ে যাওয়া উচিত।
এমডি ইলিয়াস, গুলশান-২, গোলচত্বর, ঢাকা
রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত। পরস্পর হুমকি-হুঙ্কার দিচ্ছে। সর্বত্র শোনা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচন করবে। পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে পরাজয়ের পর দুঃখ-কষ্ট, বেদনায় ব্যথিত। এ সমস্ত কারণে তারা নির্বাচনে পরাজয় বরণ করবে। সেজন্য তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা দিতে চাচ্ছেন না। তবে আমরা আশা করবো বিষয়টি অতি শীঘ্রই সমাধান হবে।
শাহীন, মহাখালী, ঢাকা
আমাদের বড় দু’দলের নেত্রী চুল নিয়ে যেভাবে চুলোচুলি রাজনীতি শুরু করেছেন তাতে বর্তমান ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মের প্রেমিকারা টাক মাথায় পাটের রশি দিয়ে তাদের পছন্দের ফুল বেঁধে দেয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় খুঁজে পাবে বলে মনে হয় না। আমাদের প্রাক্তন রেলের কালো বিড়াল গুপ্ত দাদা এবার সাদা বিড়াল হয়ে দু’নেত্রীকে হেদায়েত করে বলেছেন ‘চুলোচুলি না করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কোলাকুলি করতে’। দাদার প্রতি আমার আহ্বান এটি যদি সত্যি সত্যি আপনার মনের কথা হয়ে থাকে তবে এ ব্যাপারে বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণ করুন। আপনি রাজনীতিতে সংঘাত এড়াতে ও তত্ত্বাবধায়ক বহাল রাখতে মত দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নেত্রীর ধমক খেয়ে উল্টোপাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন। এবারও তাই আবার করবেন নাতো?
মো. লুত্ফুর রহমান, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধান বহির্ভূত নির্বাচনকালীন সরকারের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন তা সঠিক বলে আমি মনে করছি। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যা হবে সংবিধান মোতাবেকই হবে বলে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি তো বলেছেন, জনগণের ভোট তো আমরা চুরি করতে যাবো না। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ইনশাআল্লাহ নির্দিষ্ট সময়ে সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আবদুল মালেক মিয়া, মিরপুর, ঢাকা
যত কথাই হোক না কেন। বিরোধী দলের একটি ছোট দাবি- তত্ত্বাবধায়ক বা অন্য যে নামেই হোক নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন। আমরাও তাই মনে করছি।
সোহাগ, নবাবগঞ্জ, ভাগলপুর লেন, ঢাকা
বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “আন্দোলনের বাতাস শুরু হলে চুল তো থাকবেই না। অস্তিত্বেও টান পড়তে পারে। জনগণের আন্দোলনের বাতাসে চুল এলোমেলো হয়ে যাবে।” আমরা মনে করি এখনও কিছু সময় আছে জনগণের কাছে নিজেদের যাচাই করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা দিন। এতে করে নিজেদের সম্মান আরো বৃদ্ধি পাবে।
শিশির, আজিমপুর, ঢাকা
জনগণ কি নিরাপদে বা স্বস্তিতে আছে? নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, মানুষের মধ্যে সর্বত্র আতঙ্ক, উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা আজ চরমে। সব মিলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কতটুকু ফলপ্রসূ হবে জনগণ সেটাই দেখছে। বিরোধী দলের একমাত্র দাবি তত্ত্বাবধায়ক আর ক্ষমতাসীন দল বলছে সংবিধান অনুযায়ী আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাহলে এই দু’য়ের মধ্যে আমরা যারা সাধারণ মানুষ তারা কোথায় যাবো?
মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল), আরাপপুর, ঝিনাইদহ
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংবিধান থেকে একচুলও নড়বো না। অন্যদিকে বিরোধী দল বলছে, আন্দোলনের বাতাসে সব চুল উড়ে যাবে। বড় দু’দলের বক্তব্যে আজ নানা রকম আলোচনা-সমালোচনা উঠে এসেছে। তাই কথা হচ্ছে, দু’দল একসঙ্গে বসে একটি সমঝোতায় আসুন এবং দু’জনই অনড় অবস্থান থেকে সরে বসুন।
মো. শহীদুল ইসলাম (রয়েল)
নিশিন্দারা মধ্যপাড়া, বগুড়া
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য রেখেছেন, আমরা মনে করি ঠিক বলেছেন। সংবিধান অনুযায়ী সবকিছু হবে। দেশ চলবে। সংবিধানের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মমত্ববোধে জনগণের খুশি হওয়ারই কথা।
মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম
শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা
বাসা থেকে বের হলে বাড়িতে ফিরবো এমন নিশ্চয়তা এখন তেমন নেই। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও নিজ বাসায় স্ত্রীসহ খুন হচ্ছে। এরকম অনেক কিছু মিলে মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দেশে দরকার একটি সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। যার ফলে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করে।
মুন্সী মো. ওয়াহিদউল্লাহ, ফেনী, নোয়াখালী
আমরা আশা করছি বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন নয়। নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় ও তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায়। আমাদের দুদলের প্রতি অনুরোধ- এখনই আপনারা সংলাপে বসে ঠিক করে নিন। আমরা আর দেশে ১/১১ বা সংঘাতময় পরিস্থিতি দেখতে চাই না।
মারুজ্জামান, খিলগাঁও, ঢাকা
বিএনপি আন্দোলন চায় না, শান্তি চায়, সবার অংশগ্রহণে অবাধ ও সুন্দর নির্বাচন চায়। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দুদলের জনপ্রিয়তা যাচাই করা দরকার।
মো. সেলিম, মহাখালী, ঢাকা
ফখরুদ্দীন-মইন সরকারের কোন তত্ত্বাবধায়ক কিংবা সাংবিধানিক সরকার ছিল না যেটা ছিল একটি অসাংবিধানিক সরকার। ১৯৯৫-৯৬ সালে সংবিধান জনগণের স্বার্থে বিএনপি মেনে নিয়েছিল। কাজেই এখন দরকার বর্তমান সরকারেরও এমন উদারতা দেখানো।
সৈয়দা পারভীন সুলতানা, ঝিনাইদহ
নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশ যে গভীর সংকটে পড়েছে সেই সত্যটি ক্ষমতাসীনরা উপলব্ধি করতে পারলেও সাধারণ মানুষ এখন অনেক অস্থিরতার মধ্যে আছে। তাই দুদলের নেত্রীদ্বয়কে বলছি- এবার আপনারা এক টেবিলে বসুন, অনড় অবস্থান থেকে সরে আসুন।
কাউছার আকন্দ, মতিঝিল, ঢাকা
খালেদা জিয়া কেবল বিরোধীদলের নেতা নন তিনি তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর কাছে এ ধরনের আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। সাধারণ মানুষ তো বটেই, অন্যরা ভালো মনে করছেন না। বিরোধী দলীয় নেত্রী আন্দোলনের বাতাসে সব চুল উড়ে যাবে বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তা ঠিক হয়নি। তার আচরণ সংযত হওয়া দরকার।
মো. এস কে এম রমিজউদ্দিন
প্রশিক্ষা, প্রধান কার্যালয়, মিরপুর
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে ভাষায় কথা বলেছেন তা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। সেটা হচ্ছে জিঘাংসার ভাষা। দেশের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে আমরা এ ধরনের ভাষা আশা করি না। সংযতভাবে কথা বলার আহ্বান জানাচ্ছি।
মো. আবদুর রশিদ, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ
গত ১৯ আগস্ট বিরোধী দলীয় নেত্রী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বলেছেন তাদের বাতাসে আওয়ামী লীগের চুল পড়ে যাবে। তিনি আর কতজনের জীবন পুড়িয়ে দেবেন জঙ্গি, জামায়াত, হেফাজতের সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকতে রাজশাহীর বাগমারায় জঙ্গি সংগঠনের হোতা বাংলা ভাই বাহিনীর তাণ্ডব সৃষ্টি করে রাজশাহী অঞ্চলসহ সারাদেশের স্বজনহারা ব্যক্তিরা এখনো কাঁদছে। জনগণও আপনাকে চাচ্ছে না। তাই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে জনগণকে অবশ্যই নৌকায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করাই হবে আগামীদিনের মঙ্গল।
ফারুক আহমেদ, বাগমারা, রাজশাহী
প্রধানমন্ত্রীর জেদ এবং একগুয়েমিপনা দেশকে এক চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলার চেষ্টা করেছেন যে তিনি সংবিধানের বাইরে কিছুই করবেন না। নির্দলীয় সরকারের বিল এনে সংসদে পাস করলেও তো সেটা সাংবিধানিক হবে। সংবিধান জাতির জন্য ও দেশের জন্য, আমরা সংবিধানের জন্য নই। সংবিধান যেখানে ১৫ বার সংশোধন করা হয়েছে সেখানে না হয় আরো ১ বার করা যেতে পারে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের জরিপে এটাই প্রতীয়মান হয় যে দেশের শতকরা ৮০-৯০ ভাগ মানুষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। বেগম খালেদা জিয়া তার অধীনে নির্বাচন চান না। তাহলে শেখ হাসিনাকে তার অধীনে নির্বাচনের জন্য জেদ করছেন। উদ্দেশ্য অবশ্যই ভালো নয়।
শাহ আলম খান, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জনগণের সমস্যা সমাধানের যত না সচেষ্ট তার চেয়ে অধিক তত্পর পরস্পরের প্রতি বিরোধপূর্ণ বক্তব্য প্রদানে। সম্প্রতি বিরোধী দলীয় নেত্রী যে ভাষায় গণআন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তাতে দেশের বিরাজমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বক্তব্য দেশ ও সমাজের জন্য কখনো কল্যাণ বয়ে আনবে না। বরং দুদল আলোচনায় বসে নির্বাচনের একটা রূপরেখা তৈরিতে ঐকমত্যে পৌঁছাবেন- নেতৃবৃন্দের কাছে জনগণের এটাই প্রত্যাশা।
সুফিয়া রহমান
মোহাম্মদ হাউজিং, মোহাম্মদপুর, ঢাকা ১২০৭
আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের কি হয়েছে বুঝি না। কিছুদিন আগে তাঁরা দেশবাসীকে দেখিয়েছেন সাপের খেলা। এবার শুরু করেছেন চুলের খেলা। ক্ষমতার উচ্চাসনে থেকে কিভাবে এমন হাস্যকর কাণ্ড করতে পারেন সুশীল সমাজ তা বোঝে না। ছোটবেলায় পড়েছি পজিশন মেক্স এ ম্যান পারফেক্ট; কিন্তু উনারা আর কবে পারফেক্ট হবেন? বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে বলেছেন তাঁদের সিদ্ধান্ত থেকে তাঁরা এক চুলও নড়বেন না আর বিরোধ দলীয় নেত্রী বলেছেন, জনগণের আন্দোলনে সব চুল উড়ে যাবে। আসলে এ চুল যে মাথার চুল নয় তা সবাই জানে। এ চুল তাদের অহংকার ও দাম্ভিকতার বহিঃপ্রকাশ। অতীতে এমন দাম্ভিকতা ও প্রহসনের নির্বাচন আমরা দেখেছি। সত্য ও ন্যায়ও জনগণের চাওয়ার কাছে ব্যর্থ হয়েছে তাদের সকল একগুয়েমি সিদ্ধান্ত। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা অতীত থেকে শিক্ষা নেবেন না, ক্ষমতায় গেলেই তাঁরা বেমালুম ভুলে যান দেশ ও জনগণের প্রতি তাঁদের দায়িত্বের কথা, উপরন্তু আক্রান্ত হন ক্ষমতায় টিকে থাকা ও ফিরে পাওয়ার ভাইরাসে।
ডা. মর্জিনা আক্তার
বারিধারা পাইলস কিউর সেন্টার, ঢাকা
বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না এমন একটি বিশ্বাস যখন জনমনে বিরাজমান সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলছেন, তাদের অবস্থান থেকে এক চুলও নড়বেন না। অর্থাত্ সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক আনবেন না। তাঁরা আদালতের দোহাই দিচ্ছেন। আদালত দেশ পরিচালনা করে না। দেশ পরিচালনা করে সরকার। তাহলে সংবিধানের জন্য কি দেশ না দেশের জন্য সংবিধান? সংবিধান বা আইনের জন্য জনগণ নয়। জনগণের জন্যই আইন ও সংবিধান। তাই সংবিধান বা আইনের দোহাই দিয়ে পার পাওয়া যাবে না। জনগণ একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। জনগণের বদ্ধমূল ধারণা যে, কোন দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন কখনোই হতে পারে না। এ প্রসঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য যথার্থই হয়েছে। সরকারকে এ বিষয়ে আরও নমনীয় হতে হবে।
মো. আবদুল্লাহ আল মামুন
সারিয়াকান্দি, বগুড়া
বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সঠিকভাবে দেশ চালাতে পারেননি। দুইবার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতায় থেকে দেশে দুর্নীতি, দুঃশাসন, জঙ্গিবাদ আর অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন। দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন করতে পারেননি। আর বিরোধী দলে থেকে বিরোধী নেত্রীর ভূমিকায়ও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। বিগত পাঁচ বছরেও সংসদে একজন বিরোধী দলীয় উপনেতা নিয়োগ দিতে পারেননি। সংসদে বিরোধী দলের যে অধিকার তাও প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। বর্তমান সরকার বিভিন্ন সময় নানা ইস্যু তৈরি করলেও তিনি সঠিক নেতৃত্বের অভাবে ফায়দা নিতে পারেননি। হরতাল দিয়ে দেশের মানুষকে জিম্মি করেছেন শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে অথচ দেশের মানুষের অনেক সমস্যা ছিল। সরকারেরও অনেক ব্যর্থতা ছিল। দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে পারেননি। এমনকি দেশের জনগণের স্বার্থে বিরোধী ১৮ দলীয় জোটের নেত্রী হিসাবে চেয়ার দখল ছাড়া তাঁর কোন সফলতা দেখছি না। তাহলে খালেদা জিয়ার মুখে “চুল উড়ে যাবে” ছাড়া ভাল কথা দেশবাসী আশা করেন না।
খোলা মনে দুই নেত্রীর কাছে বিনীতভাবে একটি প্রস্তাব রাখছি- দয়া করে আপনারা দু’জন ক্ষমতা ছেড়ে দিন। দলে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করুন। আপনাদের যথেষ্ট বয়স হয়েছে। দেশের জন্য অনেক করেছেন। এবার পরকালের সঞ্চয় বৃদ্ধি করুন।
মো. আবু সুফিয়ান, ৪২৩/সি খিলগাঁও, ঢাকা
নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, তত্ত্বাধায়ক সরকারের অধীনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা “আগামীতে যা হবে সংবিধান অনুযায়ীই হবে। সংবিধান থেকে এক চুলও নড়ব না” প্রত্যয় ব্যক্ত করার পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া তাঁর জবাবে “আন্দোলনের বাতাসে সব চুল উড়ে যাবে” বলে মন্তব্য করেছেন। মূলত দেশ ও জাতি আজ বিভক্তির রাজনীতিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। নির্বাচন প্রশ্নে বিভক্তি, ধর্মীয় প্রশ্নে বিভক্তি, জাতিসত্তার প্রশ্নে বিভক্তি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে বিভক্তিসহ সর্বত্র ও সর্ব বিষয়ে বিভক্তির ডামাডোলে জাতি আজ দিশেহারা। অথচ এই বিভক্তির জোয়ারে তিউনিসিয়ায় সৃষ্ট আরব বিশ্বের বসন্ত আজ ডুবুডুবু এবং সংশ্লিষ্ট জনগণের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা সর্বজনবিদিত। তারপরও আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দের হুঁশ হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুলে গেলেও জনগণ ভুলে যায়নি যে, ইতিপূর্বে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পদ্ধতি নির্ধারণে শেখ হাসিনা স্বয়ং তাঁর দলের সাংসদ সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ অন্যদের দিয়ে যে কমিটি গঠন করেছিলেন সেই কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। অথচ সেই রিপোর্ট কী করে উল্টে গেলো- জাতি এমনকি স্বয়ং কমিটির সদস্যবৃন্দ পর্যন্ত আজও তা জানেন না। মহামান্য আদালতের রায়ের উপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী যে দৃঢ়তা দেখাচ্ছেন তার সারবত্তা খুঁজলে দেখা যায়, ঐ রায়ের খসড়াতে আগামী দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত রায়ে কী করে তার অবলুপ্তি ঘটলো জাতি তাও জানতে পারেনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজ যে বিচারক ও আদালতের দোহাই দিচ্ছেন সেই আদালত ও বিচারকদের বিরুদ্ধে তাঁর ইতিপূর্বেকার সরকারের আমলে লাঠি মিছিল করা হয়েছিল। সেই আমলে লাঠি মিছিল আর এই আমলে মাথায় তুলে নেয়ার রহস্য যদি জাতি জানতে চায় তাহলে খুব অন্যায় হবে কি?
ভুইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
নবাবপুর, ওয়ারী ঢাকা ১২০৩
সম্প্রতি অনেক বিষয় জাতি অবলোকন করছে, কিছুদিন আগে তেঁতুল তত্ত্ব দেশে ঝড় তুললো, তার রেশ না কাটতেই, পরবর্তী আকর্ষণে ‘চুল তত্ত্ব’ এসে উপস্থিত। গণভবনে আয়োজিত পাটের জীবন রহস্য আবিষ্কারের বিষয়টি জনগণকে জানানোর জন্য জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে যা কিছু হবার তা সংবিধান মোতাবেকই হবে। এর থেকে তিনি একচুলও নড়বেন না। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেন, বেশি আস্ফাালন করবেন না, লাফালাফি ভাল নয়, জনগণের আন্দোলনের বাতাসে একচুল কেন সব চুল উড়ে যাবে। চুলের সাথে সাথে অস্তিত্ব রক্ষাও কঠিন হয়ে উঠবে। এই চুল তত্ত্ব তথা চুলোচুলির বিষয়টি উদ্ভব হয়েছে সরকারপ্রধান ও বিরোধী দলীয় প্রধানের পারস্পরিক তির্যক বাক্যবাণে। আসলে একটা সুবিধা মাটি চাপা দিতে হাজারও অসুবিধার সৃষ্টি হয়, অধুনা দুই নেত্রীর কথার ঝাঁঝে তা বোঝা যায়। জনগণ যদি সকল ক্ষমতার উত্সই হয়ে থাকে এবং সেই জনগণের শক্তি একত্রিত হয়ে আন্দোলনের গতি নির্ধারিত হয়, তাহলে যদি পাহাড়ও নড়ে যায়, চুল তো নস্য। কিন্তু এগুলো দেশ ও জাতির জন্য হিতকর নয়। আজকের এই ধনুর্ভঙ্গ পণ সৃষ্টি হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিদায় করার মাধ্যমে। আদালতের রায়ে বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছিল, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় গণতন্ত্র রক্ষার একটি মহাষেধক যা রাজনীতিকদের একে অপরের প্রতি আস্থা সৃষ্টিরও সহজ পথ। শুধুমাত্র দলের স্বার্থ রক্ষায় ষোল কোটি জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে পদদলিত করে চলতেই রাজনীতির জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জটিল আবর্তে রাজনীতি আটকে পড়ে চুল নড়া-নড়ির মতো দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। যেদেশে সরকার চুল পরিমাণ ছাড় দিতে রাজি নন, সেখানে ক্ষমতায় থাকা সরকারের অধীনে কিভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব? চুল পরিমাণ ছাড় দিতে চান না বলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। কেউ সিঁদুরে আমের লাল দিকটা খাওয়ার স্বার্থকেন্দ্রিক আবদার না করতে পারে, তার জন্যেই দরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। রাজনীতিকদের কচলানিতে রাজনীতি এতটাই তেতো হয়েছে যে, আমরা আশঙ্কিত হচ্ছি, শেষাবধি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে বিধাতার কাছে দেবদূত চেয়ে জাতীয় আবদার না করে বসি।
মুরাদ হোসেন
মধুখালী, ঝিকর গাছা, যশোর
হঠাত্ কেন আমাদের কেশবতী দু’নেত্রী চুলের দিকে মনোযোগী হলেন? একবার বলবেন ‘সাপ’ নিয়ে এখন আবার ‘চুল’! তারা কি জনগণকে ‘সাপ লুডু’র ছকে ফেলতে চান ? বন্ধ হোক সাপ খেলা আর চুলোচুলি। কেননা চুল পরিমাণ নড়বার সুযোগ ছাড়া রাজনীতি অচল। ফিরে আসুক রাজনৈতিক সুস্থতা , দূর হোক বেফাস কথকতা- এটাই জনগণের প্রত্যাশা।
অধ্যাপক মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ,
কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর ১৭৩০
বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সে হিসেবে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করতে হবে; কিন্তু এর আগেই একে অন্যকে যেভাবে ‘চুলোচুলি’ সম্বোধন করে কথা বলছেন তা ঠিক নয়। আশা করি, এটা থেকে বিরত থাকবেন।
সৈয়দা নাসরিন সুলতানা
ম্যানি সাইড, নিউইর্য়ক
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বিরোধী দলীয় নেত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি একজন ক্ষমতাসীন ব্যক্তি এবং অন্যদিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা। তাকে এভাবে ‘চুল উড়ে যাবে’ সম্বোধন করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, একজন বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে তা ঠিক হয় নাই। বরঞ্চ ওনার উচিত ছিল তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো।
হোসনে আরা করিম, এনায়েতগঞ্জ লেন, ঢাকা
আন্দোলনের বাতাসে সব চুল উড়ে যাবে- বিরোধী দলীয় নেত্রী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা যথার্থ হয়েছে। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় শেখ হাসিনা নাকচ করে দিয়েছে। বিরোধী দল তাদের সর্বশেষ আন্দোলন-কর্মসূচি অপেক্ষাকৃত নমনীয় রেখেছে। হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি না দিয়ে তারা শুধু কয়েকটি স্থানে জনসভার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
সাধারণ মানুষ এখন মেনে নিতে পারছে না তাদের এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাকচ ঘোষণা। বিরোধী দল জানে সংঘাতের রাজনীতিতে সরকার পতন সম্ভব নয়। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই বাড়ে। তাই আমরা মনে করছি, প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন তা অতি শীঘ্রই তুলে নেবেন। তা না হলে আমরাও মনে করি, নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের বাতাসে চুল তো থাকবেই না অস্তিত্ব নিয়েও টানাটানি পড়ে যাবে।
লাড্লা, পিলখানা, ঢাকা
সব চুল উড়ে যাবে/ যে এ কথাটি বলছে
সে কেন নিজের মাথায় / চুল রং-কালি করছে?
নিজের দোষ গোপন করে / পরের দোষত্রুটি খুঁজছে
বাহ্! বাহ্! কী চমত্কার / গণতন্ত্রের ফুত্কার
বাহ! বাহ! কী চমত্কার! /জনগণকে ধোঁকায় ফেলে
ক্ষমতা পাওয়া কী দরকার? /বলি এখনো সময় আছে
এতদিন যা করেছেন /তা সবি মিছে
আসন্ন নির্বাচনে সরি-ক্ষণ /দেশবাসী তা প্রত্যাশা করছে।
আলহাজ্ব মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)
হাউজিং স্টেট, রাজশাহী ৬২০২
বিরোধী দলীয় নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর চুল নিয়ে আলোচনা চলছে সেটা দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই দুই মহিলা এতো নিচে নামতে পারে তা আমাদের কল্পনায় ছিল না। দুই জনকে বলছি, চুলোচুলি বাদ দিয়ে দেশকে ভালোবাসতে শিখুন।
সৈয়দ হায়দার আলী, মহাখালী, ঢাকা
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন হলে দেশের জনগণ শান্তি পাবে। আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন চাই।
আমিন উদ্দিন, রাঙামাটি
বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আন্দোলনের বাতাসে সব চুল উড়ে যাবে বলে বক্তব্য দিয়েছেন । তিনি যদি চুল উড়াতে চান, সে ক্ষেত্রে দেশের মানুষের ভোগান্তি নিয়ে আসতে হবে, তা-না হলে চুল উড়ানো সম্ভব নয়।
মো. ইউনূস খান, দক্ষিণ বাড্ডা, গুলশান, ঢাকা
বেগম খালেদা জিয়া যা বলেছেন তা আমি সমর্থন করি। কারণ সরকার বিরোধী দলসহ জনগণের চাওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিচ্ছে না। নির্বাচনের মাত্র ২ মাস বাকি; কিন্তু এখনো সরকার জনগণের কাতারে আসছে না। বিরোধী দলের গণআন্দোলন করা উচিত। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সাপেক্ষে বেগম খালেদা জিয়া যা বলেছেন তার সাথে আমি একমত।
সাদীক বিধান, গাজীপুর
বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলীয় নেত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন সেটার সাথে আমি একমত প্রকাশ করছি। মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টিও বলেছে, একদলীয় নির্বাচনে তারা যাবে না। এক দলীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না বলে আমরা মনে করি।
মাসুম আহম্মেদ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
বিরোধী দল ইতিমধ্যে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। এই অবস্থায় আলোচনার মাধ্যমে সরকার ও বিরোধী দল একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে দেশে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা সামাল দেয়া কঠিন হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। সুতরাং বড় দুই দলের একে অন্যকে বক্তব্য দেয়া অবস্থান বন্ধ করে সাধারণ মানুষের কাছে ফিরে যান এবং জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের পরিষ্কার করুন।
হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী
কবির হাট, নোয়াখালী
সংঘাতে রাজনীতিতে সরকারের পতন ঘটবে না। এতে শুধু জনদুর্ভোগই বাড়বে। সরকারের মেয়াদ বেশিদিন নেই। তাদের এখন উচিত, বাকি দিনগুলো শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে কাটানোর জন্য রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা। যেহেতু সংঘাতে কোন লাভ নেই তাই সব শ্রেণী-পেশার মানুষের এ মনোভাব তাদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে।
নীলুফা আক্তার, টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা
দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রধান যেভাবে চুল ছেঁড়াছেঁড়ির বক্তব্য প্রদান করছে এতে এটা স্পষ্টই লক্ষ্য করা যাচ্ছে সামনে জাতির ভাগ্যে রয়েছে ভয়ঙ্কর সংকট। এ দুটি রাজনৈতিক দলের প্রতি জানাই ধিক। দেশের চরম ক্রান্তিলগ্নে এ দুটি প্রধান দল চুল নিয়ে যুদ্ধ করে। তবে আশার আলোর চেয়ে নিরাশার পাল্লাটাই হয়তো বেশি হবে। তবু ভবিষ্যতের অপেক্ষায় রইলাম।
মো. সাইদুর রহমান
কলাপাড়া, পটুয়াখালী
জনগণের ভোটের দ্বারাই একজন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়। আগামী নির্বাচনে জনগণই ভোটের মাধ্যমে চুল ছিঁড়বে। নেতা-নেত্রীদের বাচনভঙ্গি ও কথা বলার শালিনতা থাকা উচিত।
ফৌজিয়া মুন্নী, পল্লবী, মিরপুর ঢাকা,
রমণীর সৌন্দর্য চুলে আর রাজনীতির সৌন্দর্য আলোচনায়। চুল নিয়ে টানাটানি নয় বরং আলোচনার টেবিলে বসে সংঘাত ঠেকাবেন দুই নেত্রী। মাথার চুল মাথায় থাক, গণআন্দোলনের বাতাসে বিরাজ করুক শান্তি এটাই সকলের কাম্য।
কামরুল ইসলাম, বড়লেখা, মৌলভীবাজার
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া মাঝে মাঝে ভদ্রভাষায় খুব গরম কথা বলেন। সমস্যাটি হচ্ছে তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা আন্দোলন করতে জানে না। দল ক্ষমতায় গেলে মাল কামাতে পারবে এই আশায় তাঁর দলের অনেক নেতা মুখে শুধু জিয়া জিয়া শ্লোগান দেয়। কাজের বেলায় কিছুই না। যদি বিএনপির কর্মীরা আন্দোলন করতে জানতো তাহলে আজ শেখ হাসিনার মুখ থেকে এমন কথা শোনা যেতো না।
সাইফুল ইসলাম তানভির, মোড়েলগঞ্জ, বাগেরহাট।
১৯ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়া স্বেচ্চাসেবক দলের অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন গণআন্দোলনের বাতাসে সব চুল উড়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে বুদ্ধিদীপ্ত মানুষের মাথায় চুল থাকে না, অনেকের মাথায় টাক পড়ে যায়। মানুষ চুল থেকে বুদ্ধির মূল্য দেয় বেশি। দেশবাসী নেতা-নেত্রীদের বক্তব্যে আশা করে সত্ পরামর্শ ও গঠনমূলক বিষয়বস্তু। দেশে গণআন্দোলন সৃষ্টি করে চুল নিয়ে চুলোচুলি করলে কারও মঙ্গল বয়ে আনবে না। সাধারণ মানুষ শান্তিপ্রিয় আর দলগুলোকে শান্তি রক্ষা করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
আশা এলিজাবেত গোমেজ
লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা ১১০০
গণআন্দোলনে সব চুল উড়ে যাবে প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের বক্তব্য সাধারণ জনগণকে খুবই মর্মাহত করেছে। মুখে শুধু কথা বলার জন্য নয়, কিছু কথা গিলে ফেলতে হয়। তাই প্রবাদ বাক্যটি দেশের প্রধান দুটি দলের নেত্রীদ্বয়ের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সংবিধান থেকে একচুলও নড়বে না। কথা শুনে মনে হয় দুজনই বাংলাদেশের মালিকানা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। যে যার মতো বলে যাবেন, শাসন করে যাবেন। দেখারও কেউ নেই বলারও কেউ নেই। কথায় কথায় বিএনপি বলে আওয়ামী লীগের অত্যাচারের জবাব দেবে জনগণ, আবার আওয়ামী লীগ বলে বিএনপির অত্যাচারের জবাব দেবে জনগণ।
নূরুল হক, নালিতাবাড়ী, শেরপুর
এদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য বড় দু’দলের দুই নেত্রীর মধ্যে সামান্যতম সহিষ্ণুতা নেই। ফলে সরকার প্রধান বলেন “একচুলও নড়ব না”। আর বিরোধীদলের নেত্রীও জবাব দেন, আন্দোলনের বাতাসে সব চুল উড়ে যাবে। মাঝখানে হতভাগ্য স্বাধীন দেশের জনগণকে তাদের সৃষ্ট সকল ধরনের নৈরাজ্যের শিকার হতে হয়। আজ দু’নেত্রীর কাদাছোড়াছুড়িতে লক্ষ কোটি কিশোর যুবক বড় হবার স্বপ্ন দেখার পরিবর্তে মাদক নেশায় মত্ত। দু’নেত্রীর কারণে রাজনীতি-অর্থনীতি সংস্কৃতির অঙ্গন সমৃদ্ধ হবার পরিবর্তে সকল মৌলিক ক্ষেত্রে কালো অধ্যায় জেঁকে বসতে শুরু করেছে। দেশের জনগণকে অবশ্যই এর পরিবর্তন আনতে হবে।
আবু তাহের বকুল
১৫ দিননাথসেন, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা
তেঁতুল তত্ত্বের পর এবার এসেছে চুল তত্ত্ব। এই তেঁতুল এবং চুলের মহিমা কীর্তন করে দেশের জনগণের কোন উপকার হবে না। চুলের অসাধারণ মহিমা নিয়ে কবি জীবনানন্দ দাশ কবিতায় সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন। তারপরও আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা ভিন্ন অর্থে, ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন গৌরবে চুল নিয়ে চুলো-চুলি শুরু করেছেন। এতে করে সমাজের আদৌ মঙ্গল আসবে বলে মনে হয় না। আমাদের কথা- দেশ ও জনগণের স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির লক্ষ্যে চুল পরিমাণ নড়লে ক্ষতি নেই। আর সব চুল বাতাসে উড়ে যাবে এমন আন্দোলনও আমাদের কাম্য নয়। কারণ আন্দোলনের মাধ্যমে চুল উড়ে গেলে জনগণের কোন কল্যাণই সধিত হয় না। বরং যাদের চুল উড়ে যায় তাদের পরচুলা ব্যবহার করতে বাজারে যেতে হয়। এটি জনগণের কাঙ্ক্ষিত নয়। বরং নকল এবং আসল চুল রাজনীতি থেকে বাদ দিয়ে জনগণের কল্যাণে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় বড় রাজনীতিবিদদের আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই লক্ষ্যে আমাদের দাবি চুল যেখানে আছে সেখানে থাকুক বরং আন্দোলন এমনভাবে হবে যাতে করে দেশের দশের এবং সমাজের শতভাগ কল্যাণ বয়ে আছে।
ওয়াহিদ মুরাদ
স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর
বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন আন্দোলনের চাপে চুল উড়ে যাবে। জানি না তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন। তবে বলতে পারি স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক বলতে আওয়ামী লীগকে বোঝায়। নকল চুল নকল জন্মদিন আওয়ামী লীগের কারও মধ্যে নেই। তাই উড়ে যাবারও আশঙ্কা নেই।
এ জেড এম খাইরুল হুদা রাসেল
ধুমসাহাদ্দা, ফেনী
