ধীরে ধীরে ইঁদুর দৌড় প্রতিযোগিতা আমাদের নৈতিক মূল্যবোধকে চরমভাবে লাঞ্ছিত করেছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত আধুনিকতা ও যান্ত্রিক জীবনযাপন মানুষকে দুঃখের গহ্বরে নিমজ্জিত করছে। ঐশী রহমান আর তার বন্ধুরা এ দেশেরই সন্তান। তারা যখন অন্যায় পথে পা বাড়ায় তখন তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া ঘুনেধরা অসহনশীল সমাজ ব্যবস্থা একটি বিরক্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি করে থাকে। এই পচনশীল সমাজ ব্যবস্থার আধুনিকতার নামে সত্যিকার অর্থে আধুনিকতার সংজ্ঞাই আমরা ভুলতে বসেছি। আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি করতে যেয়ে অনেকে এত ব্যস্ত হয়ে পড়ছে যে, নিজের সন্তান-সন্ততিকে সময় দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।
ঐশী আজ ঘরে ঘরে আলোচিত নাম। অথচ যদি আমরা আমাদের ঘরের বা আশপাশের প্রতিবেশীদের দিকে তাকাই তবে অবশ্যই ঐশীর মত অনেককে পাওয়া যাবে, যারা ভুল পথে পা বাড়িয়েছে। হয়তো তারা ঐশীর মত মা-বাবাকে হত্যা কিংবা হত্যার ক্ষেত্রে সহায়তা করেনি। কিন্তু অশালীন কর্মকাণ্ডে একদল যেমন বিপথগামী হয়েছে অন্য আরেকদল কিন্তু ভুল পথে সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজি, জঙ্গিবাদী তত্পরতায় লিপ্ত হচ্ছে। বাড়ছে বাবা-মায়ের সাথে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব। গ্রামীণ এলাকায় অনেক সময় মা কিংবা বাবাকে সম্পত্তির জন্য হত্যার কথা শোনা গেলেও ঐশীর মত মা-বাবা দুজনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার চিত্র পাওয়া যায় না। আজ পিতা-মাতারা নিজেরাও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
ব্যক্তিকেন্দ্রিক মানসিকতা, লোভ-লালসা, হঠাত্ করে তথাকথিত বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সুফলের বদলে কুফল যারা গ্রহণ করছে তারা এ সমাজের অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী। একটি সুন্দর দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। অথচ আজ এ কোন বাংলাদেশ আমরা দেখছি। পুঁজির বিকাশ এমন অসাম্যভাবে ঘটছে যে, উদয়াস্ত পরিশ্রম করেও একজন খেতে পারছে না, অন্যদিকে এত বেশি বিনা আয়াসে পেয়ে যাচ্ছে যাতে তারা তাদের প্রচলিত ধ্যান-ধারণা, বিশ্বাসকে গুঁড়িয়ে দিতে চাচ্ছে। ১২ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত বয়সের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে পরিবর্তন আসে। এ সময় মা-বাবাকে সন্তানের সাথে বন্ধুর মত মিশতে হয়। তাদের মনের কথা বুঝতে হয়। তাদের পরিবর্তনের চাহিদাকে কোনটি আয়াসসাধ্য আর কোনটি আয়াসসাধ্য নয় তার মধ্যে বিভাজন করতে হয়। জোর করে যেমন সাধ্যের বাইরে কিছু করা যায় না, তেমনি অতিরিক্ত প্রশ্রয় দেয়াও ঠিক নয়। এক্ষেত্রে মা-বাবাকে বুঝতে হবে সন্তানের চাহিদা কতটুকু, কোনটি পূরণযোগ্য আর কোনটি পূরণযোগ্য নয়। আসলে কোন কোন বন্ধুর সাথে সন্তান মিশছে, তাদের পিতা-মাতা কেমন ধরনের, ব্রোকেন ফ্যামিলির চিলড্রেন কিনা তা বন্ধুত্ব গাঢ় হওয়ার পূর্বেই চিহ্নিত করা প্রয়োজন। নচেত্ বন্ধুত্বের পাল্লায় পড়ে কেউ মাতা-পিতাকে হত্যা করে আবার কেউবা চাঁদাবাজি, নষ্ট রাজনীতির গহ্বরে প্রবেশ করে, কখনো কখনো পরধর্মমত অসহিষ্ণু হয়ে জঙ্গিবাদী তত্পরতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। ভুলে যায় তরুণরাই এদেশের ভবিষ্যত্, উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাদের অনেকেই অবশ্য যোগ্যভাবে বেড়ে উঠছে।
মা-বাবা যখন পারিবারিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষা শৈশবকাল থেকে গেঁথে দিতে ব্যর্থ হয় তখন প্রাথমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলোতে শেখানোর দায়িত্ব শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। দুঃখজনক হলেও বলতে বাধ্য হচ্ছি, পরিবার কিংবা আত্মীয়-স্বজন অথবা হাতেখড়ির বিদ্যালয়ে কোন ধরনের নৈতিকতা ও যার যার ধর্মের ভাল শিক্ষাগুলো দেয়া হয় না। সত্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনেকাংশেই ঠিকমত পড়ায় না কিংবা পড়ালেও নৈতিক মূল্যবোধের কোন ধরনের ধারণা ছাত্র-ছাত্রীদের দেয় না। কেবল ইংরেজি মাধ্যমের সন্তান-সন্ততি নয় বরং বাংলা মাধ্যমের সন্তান-সন্ততিরাও নেশার রঙিন জগতে পা বাড়াচ্ছে। একদল শিক্ষক-শিক্ষিকা ক্লাসে কেবল মাল্টিমিডিয়ায় পাওয়ার প্রেজেন্টেশান দিয়ে ক্ষান্ত হয়ে যান। অথচ অন্তর্গত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন না। নেশার বিষাক্ত ছোবল কেবল যে মাধ্যমিক/ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কিংবা ‘ও’ বা ‘এ’ লেভেল পর্যায়ের ক্ষেত্রে লেগেছে তা নয়—এটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে, ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি গায়ক-গায়িকা, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। বাদ যাচ্ছে না সাধারণ গৃহবধূ থেকে আরম্ভ করে কুলনারীরা। এমনকি রিকশাচালক, সিএনজি চালক থেকে আরম্ভ করে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক, চিকিত্সক, প্রকৌশলী, রাজনীতিবিদ অনেকেই আজ নেশার ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। এটি রাষ্ট্রের জন্য, সমাজের জন্য দুঃখজনক। অথচ এদেশের অনেক কিশোর-কিশোরী এবং তরুণ-তরুণী দেশের জন্য সুন্দরের মহিমা নিয়ে আসছে। আজকাল যে সমস্ত ছেলেমেয়ে বড় হচ্ছে তাদের জন্য আমরা সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করতে পারছিনে। খেলার মাঠ নেই, ক্লাবগুলো আজ বিভিন্ন দলের পতাকাবাহী অঙ্গসংগঠন এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভয়াশ্রম হয়ে পড়েছে। যখন সন্তান দেখে পিতা-মাতা অনৈতিক উপার্জন করছে কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনকে স্বাভাবিক মূল্যবোধ হারিয়ে আপাত দৃষ্টিতে পথ চলতে দেখে, তখন সঠিক দিকনির্দেশনা খুঁজে পায় না। আসলে সুস্থতার বিকল্প নেই। টিভি সিরিয়ালে যে রঙিন জগতের চিত্র এঁকে দেয় তা যে কেবল বিনোদনের জন্য, সেটি ভুলে এটিকে মনের মধ্যে গেঁথে নিতে তত্পর থাকে। পাশাপাশি সংঘাতময় রাজনীতি, জ্বালাও-পোড়াও নীতি তরুণ-তরুণীদের মনের মধ্যে এক ধরনের পৈশাচিকতার সৃষ্টি করে। যারা এই অন্ধ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন তারাই জীবনে ভাল করতে পারেন। এদিকে কেবল কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের নয়, এমনকি বয়স্ক এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বিদেশ ভ্রমণের কথা, ডিজে পার্টিতে এটেন্ড করার কথা বলে বিভিন্ন ট্র্যাপ ফেলছে এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত করছে। সমাজ ব্যবস্থায় আজ দলবদ্ধভাবে মিথ্যাচার করতে সহায়তা করে থাকে। গোষ্ঠীপ্রিয়তা গোয়েবলসের মত করে বার বার মিথ্যেকে সত্যে রূপান্তরের প্রয়াস পায়। এ ধরনের মিথ্যাচারণের কুপ্রভাব আজ ঐশীকে সৃষ্টি করেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বন্ধু-বান্ধবীকে ইভটিজিং এবং যৌন হয়রানি করছে। এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। একটি নতুন ঘটনার জন্ম হয়। পরে আবার আরেকটি বড় ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। ফলে আগের ঘটনা পরের ঘটনা দ্বারা চাপা পড়ে যায়। কিন্তু এই সমস্ত অনভিপ্রেত ঘটনা সমাজকে নষ্টের দিকে ঠেলে দেয়।
আজ ঐশীর ওপর দায় এসেছে পিতা-মাতাকে হত্যার। এর আগে ঐ সমবয়সীদের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে অনেক তরুণী। তবে যেটি দুঃখজনক, ইদানীং ছেলেরাও মেয়েদের দ্বারা ব্ল্যাক মেইলের শিকার হচ্ছে। এক্ষেত্রে তেমন কোন তত্পরতা নেই বললেই প্রায়শই চাপা পড়ে যায় এবং বলা চলে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় সমাজ । এটি দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের সমাজ ব্যবস্থাকে পরিশুদ্ধ করতে সমাজবিজ্ঞানীরা তেমন কোন ভূমিকা নিচ্ছে না। বরং এক ধরনের মুখচোরা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যে সমাজ ঐশীকে তৈরি করেছে, সে সমাজ কিন্তু একদিনে গড়ে ওঠেনি। ভাঙ্গাচোরার খেলায় মত্ত হয়েছে স্বাভাবিক জীবনবোধ। সমাজে ডিভোর্সের পরিমাণ বেড়েছে। একজন মনোবিজ্ঞানী মন্তব্য করলেন, এটি সমাজের জন্যে উপকারী এ কারণে যে, নারীর ক্ষমতায়নের ফলে এমনটি ঘটছে। অথচ অপর্ণা সেনের মত ব্যক্তিত্ব মনে করেন, আজকাল একজন মেয়ের বিয়ে হয় ২৭/২৮ বছরে। আর যদি কোনভাবে ২৭/২৮ বছর সংসার জীবন পার করতে পারে তবে পূর্ণ ইনিংস খেলা হয়ে যায়। তার এই মূল্যায়নটি আজকাল অল্প বয়স থেকেই অনেক মেয়ে মানতে পারে না। আবার ছেলেরাও বিভিন্ন রকমের ছল-চাতুরী করে। প্রযুক্তির উত্কর্ষতার সদ্ব্যবহার যেমন আমরা করছি তেমনি অপব্যবহারও আমরা করছি, বিশেষত তরুণ সম্প্রদায়ের মধ্যে তা গেঁথে বসেছে। অথচ যারা ভুল পথে পা না বাড়ান, তারা কিন্তু ঠিকই বিশ্বমানের হতে পারছেন।
একবার ভুল পথে পরিচালিত হলে সেখান থেকে ফিরে আসা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। আসলে গোড়ায় গলদ থাকলে অসততা, মিথ্যা, জীবনের ছল-চাতুরী পেছনের দিকে টানে। লাম্পট্য আজকাল কারো কারো কাছে প্রগতির ফ্যাশনে দাঁড়িয়েছে। নেশাসক্ত হওয়াও অনেকের কাছেই জীবনের ছলনা থেকে মুক্তির উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায় একটি নামী বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র ডাক্তাররা হতাশাগ্রস্ত হয়ে সারি সারি ফেনসিডিল গিলে থাকে। এভাবে খোঁজ নিলে অন্যদের মধ্যেও এটি দেখা যাবে। আসলে হতাশাও সমাজের অব্যবস্থাপনা থেকে উত্পত্তি হয়েছে। ইদানীং ডিজে পার্টি, নাইট ক্লাবের হার এবং হাফ-গেরস্তের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
সমাজের এই ভাঙ্গাগড়ার পেছনে আসলে বৈরী সময় বিদ্যমান রয়েছে। রন্ধ্রে রন্ধ্রে যখন মিথ্যাচার এবং অসততা উপরে ওঠার সিঁড়ি হয়ে দাঁড়ায় তখন কিছুই করার থাকে না। এ সমাজে অতি সহজে যেমন বড়লোক হওয়া যায় তেমনি পরিশ্রম করেও পরিশ্রমের উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাওয়া যায় না। একজন ছেলে বা মেয়েকে বড় করতে হলে যে ধরনের উপযুক্ত সামাজিক পরিবেশ দেয়ার দরকার তা দিতে পারা যাচ্ছে না। কোন অপরাধ না করেও যখন মিথ্যে দোষে ফাঁসায় কিংবা তরুণকে হত্যা করেও হত্যাকারী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় তখন অবশ্যই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া বেড়ে উঠতে যাওয়া সন্তান-সন্ততিদের উপর পড়ে। অথচ এর জন্যে কোন ধরনের অনুতাপ নেই। যে কোন কারণেই হোক অপরাধী বিভিন্ন রাজনৈতিক শেল্টার পেয়ে যায়। সেদিকে তারুণ্যের যে অপরাজেয় শক্তি তা অনেক ক্ষেত্রেই সমাজের নানা অপকীর্তির কারণে চাপা পড়ে যায়।
তারুণ্যের ঘোর লাগা চোখে মানুষ দেখতে থাকে সমাজকে। বোধবুদ্ধি তৈরি হচ্ছে বলেই ভাল-মন্দের মিশ্রণ দেখে থাকে। কখনো তা ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে থাকে। আবার কখনো তা নেতিবাচক হয়ে পড়ে। সমাজের এই অপরাধপ্রবণতা যারা ভালভাবে চলতে দিতে চায় তাদের কুপ্রভাব তৈরি করে থাকে। এই ভাল-মন্দের মিশ্রণে দোলায়িত হতে যেয়ে তখন যদি বাবা-মা প্রকৃত বন্ধুর মত পাশে না দাঁড়ায় তবে পরিণতি ভাল হয় না। আজ অনেকেই ঐশীকে দোষ দিচ্ছে। কিন্তু যে ঘুণেধরা সমাজের অব্যবস্থাপনা ঐশীকে তৈরি করেছে তার কি হবে? কিভাবে উত্তরণ ঘটবে সমাজের জঞ্জাল থেকে মুক্ত হওয়ার পথ? আসলে একজন শিক্ষাবিদ হিসাবে পিতৃস্নেহে ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে দেখেছি, কেবল পরিবার নয়, পারিপার্শ্বিক চাপ, প্রতিবেশী এমনকি যে স্থানে পড়াশোনা করছে তার বোঝা বহন করতে না পেরে তিলে তিলে নিঃশেষ হচ্ছে। আজ দেবদাস বা পার্বতীর যুগ নেই। তাই তো বেছে নেয় স্বপ্নের রঙিন জগত্। এর মধ্যেও অগণিত তরুণ-তরুণী কষ্ট করে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের কাছেও আহ্বান জানাব, তোমাদের কোন বন্ধু যদি পথ ভুল করে থাকে তবে অবশ্যই তাদের পারলে শুধরে দিও। নচেত্ পারলে অভিভাবক-অভিভাবিকাদের খবর দিও। এদিকে বিদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়ায় দেখেছি যে সমস্ত কিশোর-কিশোরী ভাল থাকতে চায় তাদের কেউ বিরক্ত করে না। ভারতীয় প্রাবন্ধিক আবু সাইদ আয়ূব আধুনিকতার সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে, আধুনিকতা মানে যা খুশি তা নয়, বেলেল্লাপনা নয়, বরং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলা। আর এই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে অবশ্যই প্রযুক্তিগত এবং উন্নততর শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। এখনো বিশ্বাস করি— ঐশীরা ভুল করতে পারে তবে তাদের সংশোধিত করার দায়িত্ব অবশ্যই নিতে হবে সমাজবিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ, পরিবার ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। সুস্থ চিন্তা-চেতনার বিকাশকে আমরা আমাদের চলার পথের পাথেয় ভাববো। জীবন হয়ে উঠুক ভরপুর। নতুন ধারায় জীবনকে বিকশিত করতে আমাদের আরো কঠোর সংগ্রাম করতে হবে। এজন্যে আজ চাই সমাজ পরিচালনার অগ্রনায়কদের ঐক্য। যে কোন ধরনের অন্তর্কলহ, সমাজের পঙ্কিলতাকে বৃদ্ধি করে থাকে। সমাজের এই অসহনীয় পরিবেশ দূর করতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক মন-মানসিকতার ঊর্ধ্বে ওঠা দরকার। সমাজকে পঙ্কিলতামুক্ত করতে গেলে আমাদের তরুণ সমাজকে সুস্থ অবস্থায় বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে।
লেখক: উপাচার্য, প্রেসিডেন্সী বিশ্ববিদ্যালয়
ই-মেইল: [email protected]
