চাই নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা
বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে জটিল অবস্থার দিকে যাচ্ছে তা আমাদের ২০০৬ সালের কথা স্মরণ করে দেয়। যখন ৪ দলীয় জোট কোনরূপ সমঝোতার পথে না গিয়ে নিজেদের মর্জিমত সংবিধান সংশোধনের নামে শুধুমাত্র বিচারপতিদের বয়স বাড়িয়েছিল। ফলে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজসহ প্রত্যেক শ্রেণী পেসার মানুষের মাঝে নির্বাচন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পর অবিশ্বাস ও সংশয়ের কারণে দেশের অনেক ক্ষতিসাধিত হয়েছে। রাজপথে ব্যাপক সহিংসতার কারণে ১/১১ মত একটি সামরিক স্বৈর তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমান মহাজোট সরকার যে একগুয়েমি করছে এবং বিরোধীদল যেভাবে রাজপথে সহিংসতা করছে তাতে সাধারণ নাগরিক শংকিত। হয়ত ২০০৭ সালের মত আরেকটি সরকার চেপে বসবে, যা দেশবাসীর কাম্য নয়। সুতরাং আমরা আশা করব দেশ অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতার জন্যে সরকারের উদ্যোগে আলোচনার ব্যবস্থা করে একটি নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা দাঁড় করানো হোক।
মোস্তফা কামাল
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
০০০০
জাতি প্রজ্ঞা আশা করে
প্রধান বিরোধী দলের মাসব্যাপী কর্মসূচি এবং সর্বশেষ ভাষণে যেভাবে সরকারি দলের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন তাতে জাতি অনেক আশাবাদী। এখন সবাই তাকিয়ে আছে সরকারের প্রতি তাদের মনোভাব কেমন। তারা কি সত্যিই দেশের কল্যাণ চান না মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে আখের গোছাতে চান। দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে যেভাবে বিরোধী দল এগিয়ে এসেছে তাতে যেমন তাদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে তেমনি জনপ্রিয়তা কমবে যদি সরকারি দল তাদের একগুয়েমি এবং জেদ নিয়ে থাকে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী যদিও নির্দলীয় সরকারের পক্ষে তথাপি প্রধানমন্ত্রীর অনড় ও একগুয়েমি অবস্থান জাতিকে শংকিত করছে। সরকার যদি বিরোধী দলের মনোভাবকে দুর্বলতা ভাবে তাহলে তা ভুল হবে। যার পরিণতিতে রাজপথ সহিংস হবে, অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সবচেয়ে বড় ক্ষতি তৃতীয় কোন শক্তি সুযোগ নিবে। যা দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের জন্য মোটেই কাম্য নহে।
তৌহিদুল ইসলাম
ভূগোল ও পরিবেশ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
০০০০
অবসান হোক ১/১১
কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বললেন “সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে এক চুল নড়বো না” বিরোধী দলীয় নেত্রী বললেন আন্দোলনের চাপে চুল তো উড়েই যাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়বেন।
দেশের প্রধান দুই দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ রকম পরস্পর বিরোধী কথা দেশের প্রত্যেক শ্রেণী পেশার মানুষকে সংকিত করছে। গত কিছুদিন থেকে রাজপথে যেভাবে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে তাতে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে দেশের অর্থনীতির। একদিকে সরকারের কঠোর দমননীতি অপর দিকে বিরোধী দলের সহিংস আন্দোলন এই দুইয়ের যাঁতাকলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস। এই সংকট মুহূর্ত থেকে উত্তরণের প্রধান দায়িত্ব সরকারি দলের। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কথাবার্তায় মনে হয় তিনি সমঝোতা চান না। যদিও ১/১১ সরকারের সময় তার জেলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। তৃতীয় কোন শক্তি আসলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে বর্তমান সরকারি জোটের। বঙ্গবন্ধু কন্যা হিসাবে তার কাছে সংকটময় মুহূর্তে জনগণ একটি সুষ্ঠু সমাধান আশা করে।
আবু বকর সিদ্দিক
দর্শন বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
০০০০
সরকারের বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত
প্রথমেই বলে রাখা ভাল আমি কোন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কিংবা নাতনী নই। যারা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বিশ্বের মানচিত্রে ‘বাংলাদেশ’ নামের একটি রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছেন তাদের কিংবা তাদের সন্তানদের স্বার্থহানী হোক এটা আমি চাই না। তবে আমার প্রশ্ন হল মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরাই যেখানে বেকার হয়ে বসে আছে, সেখানে নাতি/ নাতনীদেরকে কোটাভুক্ত করা কোনভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। সরকারের বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত।
মোছা. নুরানী আক্তার নিপা
ভাষা বিভাগ, ১ বর্ষ,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
