কোটা নয়, মেধার মূল্যায়ন আমাদের দাবি
কোটা পদ্ধতি কখনোই মানুষের মেধার মূল্যায়ন করে না। যেখানে বিসিএস পরীক্ষায় ৮০ পেয়ে শিক্ষার্থী প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় টিকে না সেখানে কোটা পদ্ধতিতে মাত্র ৫০ পেয়ে অনেকে আজ কৃতকার্য। সেই ৮০ অধিক নম্বর প্রাপ্ত আর ৫০ অধিক নম্বর প্রাপ্তদের সার্ভিস কখনো এক হতে পারে না। আজ নারীরা পিছিয়ে নেই। তাদের অনেকেই আজ কোটা বিরোধী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত। আর মুক্তিযোদ্ধা কোটা সম্পর্কে একটা কথাই বলার আছে, অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন যারা তাদের সন্তানদের শিক্ষিত করতে পারেনি; তারা কিভাবে এই সুফল পাবে? আমাদের সরকারের উচিত তাদেরকে কোটা নয় endowment দিয়ে দেয়া যাতে তারা স্বাবলম্বী হয়। অন্যান্য পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীতে যারা আছেন তাদেরকেও কোটা নয়; কিভাবে তারা যোগ্যতা অর্জন করবে তার জন্য সাহায্য করা।
রায়হান সরকার
লোক প্রশাসন বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
০০০০০
সরকারি চাকরিতে কোটা কোন বিষয় নয়, পরিমাণ ও যোগ্যতাই আসল
আমরা যদি একটা দিক বিবেচনা করি তাহলে দেখা যাবে যে, অধিকাংশ কোটাধারীরা তেমন মেধাবীর অধিকারী হয়ে উঠে না। আর এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, তারা মনে করে তাদেরতো একটি বিশেষ ব্যবস্থা আছেই এবং তারা কোটা নির্ভর লেখা-পড়া করে থাকে। সরকারি চাকরিতে কোটা ভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে এসব মেধাহীন ছাত্র-ছাত্রীরা চাকরি পায় এবং যারা সত্যিকার অর্থে মেধাবী তারা বঞ্চিত হয়। এই কোটা ভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে যদি মেধাকে প্রাধান্য দেয়া হয় অর্থাত্ কোটা অধিকারী যারা তাদের মধ্য থেকে যদি মেধাবীদেরকে বাছাই করে নিয়োগ দেয়া হয় তাহলে এই বিতর্ক থাকবে না। এদিকে দেখা যায় যে, কোটা ভোগকারীদের মধ্যে সর্ববৃহত্ হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অনস্বীকার্য। তাই তাদেরকে সরকারের বিভিন্ন স্তরে সুযোগ করে দেয়া উচিত। তাই বলে তাদের নাতি-নাতনিরা এই সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলে তা হবে স্ববিরোধী কাজ। আর এই ব্যবস্থার কারণে কোটা একটি বিতর্ক সৃষ্টি করে চলেছে এবং দেশকে দুই ভাগ করে ফেলেছে। দেশের জনসংখ্যার তুলনায় চাকরির ক্ষেত্র অনেক কম এবং সেই তুলনায় যদি কোটা আসন বৃদ্ধি করা হয় তাহলে জনসাধারণের মনে অসন্তুষ্টি দেখা দিবে। কোটা ব্যবস্থা সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোন সমস্যার কারণ হতে পারে না বরং আসনের পরিমাণ ও মেধার সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। কোটা ব্যবস্থার পরিমাণ যদি মেধা অনুযায়ী নির্ধারণ করা না হয় তাহলে সকলের মনে একটি প্রশ্ন দেখা দিবে। সর্বোপরি, কোটা ব্যবস্থা বাতিল না করে এবং কোটা নিয়ে যাতে কোন গোলযোগ সৃষ্টি না হয় তার জন্য কোটার সীট সংখ্যার পরিমাণ কমিয়ে সর্বোচ্চ যোগ্যতার ভিত্তিতে মেধা অর্জনকারিদেরকে যদি সরকারের বিভিন্ন স্তরে নিয়োগ দেয়া হয় তাহলে আশা করা যেতে পারে যে দেশ মেধাশূন্যতা ও বিতর্কের হাত থেকে মুক্তি লাভ করবে, অন্যথায় নয়।
মো. খোকন মিয়া
বি.এস.এস (অনার্স), ১ম বর্ষ,
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
০০০০০
কোটা নিয়ে সমস্যার সমাধান দরকার
কোটা নিয়ে যে সমস্যা শুরু হয়েছে এই সমস্যার সমাধান দরকার। এই কোটা নিয়ে অনেক কিছু হয়ে গেলো, কিন্তু আমরা এখনো কোন গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে পারলাম না। যে সময় বাংলাদেশে কোটা পদ্ধতি চালু হয়েছিল সেই সময় আর এখনকার এই বর্তমান সময়ের মাঝে আছে আকাশ পাতাল ব্যবধান। তখনকার সময় আর এখনকার সময় এক করে দেখলে চলবে না। কোটা পদ্ধতি নিয়ে আছে বিস্তর মতভেদ। কেউ চাইছে কোটা পদ্ধতি বহাল থাকুক, আবার কেউ চাইছে কোটা পদ্ধতি না থাকুক। এই সমস্যার সমাধান জরুরি ভিত্তিতে হওয়া দরকার। এটা সত্যি যে অনেক ছাত্র-ছাত্রী দিনের পর দিন রাতের পর রাত পরিশ্রম করে ভালো রেজাল্ট করেও অনেকেই একমাত্র কোটার কারণে ভালো কোন চাকরি পাচ্ছে না। কাজেই স্বাভাবিকভাবেই তাদের মাঝে একটা ক্ষোভ বিরাজ করে। ভালো রেজাল্ট করেও যখন কেউ কোটার কারণে ভালো চাকরি পাচ্ছে না তাদের মনের অবস্থাটা একটু বুঝা উচিত।
কবির খন্দকার
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
০০০০
বাতিল হোক কোটা পদ্ধতি
আমরা এদেশের নাগরিক হিসেবে দেশের উন্নয়ন চাই। দেশকে ভালবাসি বলেই দেশের জন্য যুদ্ধ করি, নিজের স্বার্থের জন্য নয়। এই যদি একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মনের কথা হয়, তবে কোটা পদ্ধতির প্রয়োজন কার স্বার্থে। আমি দেশকে ভালবাসি বলে কি আমার সন্তান ভালবাসতে পারবে না। সে অধিকার তার থাকলে কোটা পদ্ধতি কার জন্য? আমি দেশের জন্য লড়েছি আমার যোগ্যতা বলে, আমার সন্তান লড়বে তার যোগ্যতা বলে। আমার যোগ্যতা আমার সন্তানের নয়, এটা আগে বুঝতে হবে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরে ঢিল ছুঁড়লে ঢিল সেখানে থাকবে না, কেননা তাকে ধারণ করার যোগ্যতা উক্ত ধারকের নেই। ভূ-পৃষ্ঠের সেই যোগ্যতা আছে বলেই সে এই ঢিলকে ধারণ করবে। পূর্বের ধারককে ঢিলটি সংগ্রহের দায়িত্ব দিলে তা সময়ের অপচয় ব্যতীত আর কিছুই নয়। তাই মেধার ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীকে সরকারি চাকরি দেয়া হোক, বাতিল করা হোক অযোগ্য কোটা পদ্ধতি। আশা রাখি এতেই হবে দেশের উন্নতি।
মো. জোবায়ের আহমেদ
একাদশ শ্রেণী, বিজ্ঞান বিভাগ।
টেকেরহাট পপুলার হাই স্কুল এন্ড কলেজ, রাজৈর, মাদারীপুর
