সরকারকেই আগে এগিয়ে আসতে হবে
বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুবই নাজুক এবং ক্রমে তা ঘোরতর অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে। আর এর জন্য দায়ী বর্তমান দেশের বড় দু’টি রাজনৈতিক দল। দু’দলই নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দু’মেরুতে অবস্থান করছে এবং একটা অনিবার্য সংঘাতময় এক এগারোর দিকে ধাবিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমি সরকারকেই সৃষ্ট সমস্যার সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি কারণ তারাই সংবিধান সংশোধন করে উক্ত সমস্যার সৃষ্টি করেছে। সরকার যদি এর উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে বিরোধীদল ইতিবাচক সাড়া দিবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কারণ বিরোধীদল এখনো হার্ডলাইনে না গিয়ে নমনীয় কর্মসূচি দিয়েছে যা ইতিবাচক বলে মনে হয়। তাই সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান সমঝোতার মাধ্যমে আরেকটি এক এগারোর থেকে দেশকে বাঁচান যদি আপনারা সত্যিকারে এ দেশ, মাটি ও দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করে থাকেন।
মো. আবদুর রহমান সোহেল
লোক প্রশাসন বিভাগ, চতুর্থ বর্ষ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,
সাভার, ঢাকা
আপনাদের যদি ঝগড়ার প্রয়োজন হয় তাহলে এই দেশের জনগণকে এর বাইরে রেখে ঝগড়া করেন
বিরোধী দলের এটা ভাবলে চলবে না যে দেশের পরিস্থিতি খারাপ করে ক্ষমতাসীন দলকে কোণঠাসা করে জনগণের সামনে নিজেরা ভালো সেজে আগামী নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করা সম্ভব। তাই ক্ষমতাসীন দলকে আন্দোলনের ভয়ভীতি না দেখিয়ে বিকল্প কোন উপায় বের করা,যাতে একটি সুন্দর সমঝোতায় আসা যায়। জিজ্ঞাসা করি ক্ষমতাসীন দল আর বিরোধী দলকে, আপনাদের মূল উদ্দেশ্য আসলে কি? নিশ্চয় ক্ষমতায় গিয়ে বা থেকে দেশ সেবা করা। এখন আপনারা যদি দেশের পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল করে তুলেন তাহলে আপনাদের দুই দলের কিছুই আসবেও না যাবেও না; মাঝখান থেকে জনগণ কষ্টভোগ করবে এবং জনগণের আস্থাও আর থাকবে না আপনাদের প্রতি। তত্ত্বাবধায়ক অথবা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে আপনাদের যদি ঝগড়ার প্রয়োজন হয় তাহলে এই দেশের জনগণকে এর বাইরে রেখে ঝগড়া করেন।
মোহাম্মদ এহিয়া
মিরপুর ল’ কলেজ,
মিরপুর, ঢাকা
বর্তমান পরিস্থিতিতে সমঝোতার বিকল্প নেই
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায় ছিল ওয়ান ইলেভেনের সময়কাল। দেশের মানুষ দেখেছে কি ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যদিয়ে এই ওয়ান ইলেভেনের সৃষ্টি হয়। একজন সাধারণ নাগরিক কখনো এই ওয়ান ইলেভেন চাইবে না। কিন্তু বর্তমানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপ হচ্ছে। সরকারি দল, বিরোধী দল ও মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী শক্তি আবার তার সাথে যুক্ত হলো হেফাজতে ইসলাম। বুঝা যাচ্ছে আগামী দিনগুলো দেশের জন্য খুব খারাপ কাটবে। সমপ্রতি আবার জঙ্গি সংগঠনের উদ্ভব হচ্ছে। যা দেশের জন্য মোটেও সুসংবাদ নয়। আর দেশের এই বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য দরকার উভয় দলের মধ্যে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করা। এখনো সময় রয়েছে দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে চলমান সমস্যাগুলো সমাধানে আলোচনায় বসুন। দেশের মানুষ ওয়ান ইলেভেনের মত আর রাজনৈতিক সংঘাত দেখতে চায় না।
সনেট দেব
বি. এস. এস. (সম্মান) চতুর্থ বর্ষ,
অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম
সংলাপ প্রয়োজন, তবে...
সম্প্রতি আমাদের বড় দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা দেশের প্রতিটি সাধারণ জনগণের মধ্যে নিঃসন্দেহে এক আতঙ্ক বিরাজ করছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই অবস্থার সৃষ্টি। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দেশের অনেক নাগরিক সংলাপের কথা বলছে। যা দুই রাজনৈতিক দলই একমত পোষণ করে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় কি বিষয়ে সংলাপ হবে তা নির্ধারণে। আমাদের সরকারি দল বলছে- দেশ ও জনগণের কল্যাণে তত্ত্বাবধাযক ইস্যু ছাড়া যে কোন বিষয়ে সংলাপে রাজি। আর প্রধান বিরোধী দল বলছে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু নিয়েই সংলাপ হতে হবে, যা আদালতের রায়ে মহান জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বিলুপ্তি হয়। এরকম একটি বিষয় নিয়ে আবার আলাদা করে সংলাপের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না, কেননা বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। সেখানে অগণতান্ত্রিক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে পারে না। তাই তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু নিয়ে নতুন করে সংলাপের প্রয়োজন নেই।
হাবিবুর রহমান
স্নাতক (সম্মান) ইতিহাস,
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
