কোন দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশের আগামী রাজনীতি? এনিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। আগামীতে কি আবারও কোন নতুন ১/১১-এর জন্ম হবে? আবারও কি নেতা-কর্মীরা জেল খাটবে? একবার জেল খাটার পরও শিক্ষা হয়নি? আদৌ কি কোন নির্বাচন হবে? এসব প্রশ্ন এখন সকল দেশবাসীর। দেশের সাধারণ জনগণ একটু শান্তি চায়, নিরাপদে বাঁচতে চায়। দেশকে নিয়ে যারা ভাবেন এবং বিভিন্ন সময় টিভি টকশোতে আলোচনা করেন, তাদের কাছে দেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে যে সংশয় দেখা যাচ্ছে তা সত্যিই ভয়ানক বলে সকলের কাছে মনে হচ্ছে। দেশের মানুষ কোন রাজনীতি বুঝে না, তারা একটু শান্তিতে বাঁচতে চায়। নিরাপদে চাকরি করতে চায়, একটু শান্তিতে ব্যবসা করতে চায়। দেশে বর্তমানের এই নোংরা রাজনীতিকে ৯০% মানুষ পছন্দ করে না। কারণ বর্তমানের রাজনীতি হচ্ছে মারামারি, হাতাহাতি, গোলাগুলি আর খুনোখুনির রাজনীতি।
ঈদের আগে সবার ধারণা ছিল, ঈদের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে কিছুদিন ধরে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন শেষ হয়েছে। এবার কি টালমাটাল অবস্থা হবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির? রাজনৈতিক বিশ্লে¬ষকরা বলছেন, আপাতত এই মুহূর্তে তেমন বড় কিছু হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে অক্টোবরে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটাই আশঙ্কার কথা।
যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরুর পর থেকে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে আছে, তারপর সমপ্রতি জামায়াত-শিবিরের নিবন্ধন বাতিল করে তা আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আতংকের মাঝে আছে পুরো দেশবাসী। তাছাড়া দেশে বর্তমানে হরতাল মানেই হচ্ছে কয়েকটি লাশ। আগামীদিনের দেশের পরিস্থিতি কি হবে,তা অনেকটা বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সমপ্রতি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে যে কথা বলেছেন তা থেকে বলা যায়, আগামী অক্টোবরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু হবে। সে আন্দোলনের কারণে দেশে শুরু হবে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা দখলের লড়াই আর সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা-সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় নিয়ে এমনিতেই রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত। ইতিমধ্যে জামায়াত ১৩ ও ১৪ আগস্ট দেশজুড়ে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শেষ করেছে। আগামীতে জামায়াত কি করে তা দেখবে বিএনপি। সামনে যুদ্ধাপরাধ মামলার একাধিক রায়ের বিষয়টি মাথায় আছে। এমনকি আপিল বিভাগে কাদের মোল্লার চূড়ান্ত রায় অপেক্ষাধীন। এরপর আছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আবদুল আলীমের মামলার রায়।
সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর তুলনামূলক কম শক্তির সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাক দেবে বিএনপি। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সম্ভাবনা না থাকলেও অন্তত একটি গ্রহণযোগ্য অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আন্দোলন সফল হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লে¬ষকরা বলছেন, আগামীতে মামলার ভয়ে এক-এগারোর মতো কোনো সরকার আসার সম্ভাবনা কম। কেননা, দুই দলই চায় নির্বাচন হোক। এজন্য তারা প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে। রমজান মাস জুড়ে দু’দলের জনসংযোগ কর্মসূচি আর শহরজুড়ে বিলবোর্ড দখল করে আওয়ামী লীগের উন্নয়নের ব্যানার লাগানো তারই প্রমাণ।
প্রধান দুই দলের প্রধান দুই নেত্রীর ছেলেরাও রাজনৈতিক অঙ্গনে আসতে শুরু করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃটেন থেকে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, আর শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সমপ্রতি কয়েকদিন দেশে অবস্থান করে রাজনৈতিক তত্পরতা চালিয়ে আবার আমেরিকা ফিরে গেছেন। অক্টোবরে আবার তার দেশে আসার কথা। তারেক জিয়াও অক্টোবর সামনে রেখে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে গুঞ্জন আছে।
সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর দেশে কি হবে তা দেখার অপেক্ষায় আছে দেশবাসী। দেশবাসী চায় একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। হানাহানিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত দেশ যেখানে নিরাপদে নির্ভয়ে চলাচল করা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের মহান ব্যক্তিদের কাছ থেকে কি আমরা তা আসা করতে পারি না?
লেখক : সংবাদ কর্মী
[email protected]
