গণতন্ত্রের কথা চিন্তা করে সমঝোতায়
আসা প্রয়োজন
নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ভাগ্যাকাশে অন্ধকারাচ্ছন্ন কালো মেঘ দেখা যাচ্ছে। সরকারি দল ও বিরোধী দলের পারস্পরিক বিরোধী আচরণ দেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ, বিদেশি বন্ধু, বাংলাদেশের কল্যাণকামী জাতিসমূহকে চিন্তিত করেছে। নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে সহিংস রাজনীতিতে বিপর্যয়ে পড়বে দেশের অর্থনীতি এমনিতেই গত কিছুদিন ধরে অর্থনীতিতে মন্দা ভাব বিরাজ করছে। এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পিছু হটছে। ফলে নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে না নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় সমাজে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সমাজে ব্যাপকহারে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপরন্তু রাজপথে যদি ব্যাপক আকারে সংঘাত-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে তবে সুযোগসন্ধানী তৃতীয়পক্ষ মাকাল ফলের ছদ্মাবরণে ১/১১-এর মত অশুভ শক্তি আবারো জাতির ঘাড়ে চেপে বসবে বা চেপে বসার সম্ভাবনা রয়েছে। যা দেশ, জাতি, দেশের অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই নয়। “ন্যাড়া একবারই বেলতলায় যায়” এই প্রবাদের মতই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসাবে বিশ্বাস করি ১/১১’র কোনই সম্ভাবনা নেই, তবে সেজন্য অবশ্যই রাজনীতিবিদদের দেশ, জনগণ, গণতন্ত্রের কথা চিন্তা করে আগামী নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে একটি বাস্তবমুখী সিদ্ধান্তে আসা উচিত।
মো. তৌহিদুল ইসলাম
ভূগোল ও পরিবেশ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
===
দুই নেত্রীর মতের মিল না হলে ১/১১ হওয়াটাই স্বাভাবিক
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে বিরাজ করছে ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস। যে কোন মুহূর্তে ঝড়ো হাওয়ার দাপটে ক্ষণিকের মধ্যে ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে পারে একটা সাজানো সংসার। যে সংসারে আমরা অনেক আশায় বুক বেঁধে বেঁচে থাকি। সে আমার সোনার বাংলা। সে আমার বাংলাদেশ। যে বাংলা আজ ঘন সবুজের আবরণে ছেয়ে আছে, সে বাংলা হয়ত একদিন গাঢ় লাল রং ধারণ করবে আমারই দেশের বাঙালির রক্তে। সেদিন সোনার বাংলা হারাবে তার রূপের ঝলক আর দেশ হারাবে তার শান্তিপ্রিয় বাঙালি জাতি। দেশে আবার নেমে আসবে ১/১১’র মত ভয়ঙ্কর দিন। এই ঝড়ো হাওয়ার দাপট থেকে আমাদের রক্ষা করার ক্ষমতা এখন দুই নেত্রীর হাতে। আমি তাদের করজোড়ে অনুরোধ করব- আপনারা সকল ভেদাভেদ ভুলে দুই দলের মধ্যে মতের মিল এনে দেশকে ১/১১’র হাত থেকে রক্ষা করুন।
প্রণব কুমার সাহা
উচ্চ মাধ্যমিক পাস
কালুখালী ডিগ্রি কলেজ
কালুখালী, রাজবাড়ী
===
প্রত্যাশা সমঝোতা
সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বাতিলের পর থেকে মূলত রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ শুরু হয়। প্রধান বিরোধী জোট আন্দোলনের নামে রাজপথ উত্তপ্ত করে, সরকার আইন-শৃংখলা বাহিনীর মাধ্যমে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে। যার ফলে রাজপথে ব্যাপক সংঘাত-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। আতংকের মধ্যে ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। বিদেশি বন্ধুরাও উদ্বিগ্ন চলমান রাজনৈতিক সংলাপ নিয়ে। কিন্তু সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম বিশ্বাস করে এই সংঘাত-সহিংসতা নিরসনের মাধ্যমে আমরা একটি আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় ফিরে যাব। কারণ এ ভূ-খণ্ডের লোকদের সম্প্রীতি ও ঐক্য পৃথিবীতে বিরল। গত অর্ধ শতাব্দির ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় সংকটময় মুহূর্তে সাম্য ও ন্যায়ের ক্ষেত্রে জাতির সর্বস্তরের মানুষ এক কাতারে আন্দোলন করেছে। ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ পুরো জাতিকে এক স্রোত, এক চিন্তায় ও এক কাতারে নিয়ে এসেছে। যে জাতি নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখায় সমঝোতায় আসতে পারবে না তা কখনোই তরুণ প্রজন্ম বিশ্বাস করে না।
মোস্তফা কামাল
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
===
আরেকটি ১/১১ হলে দায় এবং ক্ষতির বোঝা
রাজনীতিবিদদের বইতে হবে
ঝড় আসার পূর্বে যেরকম থমথমে এক ভাব বিরাজ করে, আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও সেরকম অবস্থা বিরাজমান। সামনের দিনগুলোতে রাজনীতি কোন পথে হাঁটবে, সেই আভাস কিন্তু এখনই পাওয়া যাচ্ছে। তবে আভাসটা খুব খারাপ আভাস! ভয়ংকর কিছু ঘটার আভাস! রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা হয় সেই আভাসকে বুঝে-শুনেই মৃত্যুফাঁদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন; না হয় তারা অসচেতনতার চোরাবালিতেই নিমজ্জিত। তবে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের কথাবার্তা-আচরণে যে দম্ভোক্তি, বড়াই প্রতিনিয়তই প্রকাশ পাচ্ছে, তাতে করে এই ধারণাও অমূলক হবে না যে রাজনীতিবিদরাই আরেকটি সর্বনাশা ওয়ান ইলেভেনের পথেই হাঁটছে! সংকটময় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ কী তারা খুঁজবেন? নাকি আবারো সংঘাত-সংঘর্ষ-সহিংসতা? যদি এরকম হয়, তবে আরেকটি অনির্বাচিত, অগণতান্ত্রিক সরকারকে স্বাগত জানাবার জন্য এখনই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারেন রাজনীতিবিদরা! আর ওয়ান ইলেভেনের মত অগণতান্ত্রিক সরকার যদি জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে, তবে তার জন্য একমাত্র রাজনীতিবিদরাই দায়ী থাকবেন। এবং তার খেসারত ভয়ানকভাবেই শোধ করতে হবে রাজনীতিবিদদের।
রফিকুল ইসলাম কামাল
বিএসএস
বিশ্বনাথ কলেজ, বিশ্বনাথ, সিলেট
