ওয়ান ইলেভেন বনাম তিক্ত অভিজ্ঞতা
সবাই ওয়ান ইলেভেন আতঙ্কে আঁতকে ওঠা শুরু করেছে কারণ এই তিক্ত অভিজ্ঞতা নেয়ার সৌভাগ্য কমবেশি সবার হয়েছে। একদিকে সরকার তার তৈরি করা তথাকথিত সাংবিধানিক তত্ত্বের দিকে অনড় অবস্থার কথা জানান দিচ্ছে বার বার, অপরদিকে বিরোধীদল নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার দাবিতে অনড়। তাই কোন সমাধানের পথ না থাকায় ওয়ান ইলেভেন আতঙ্ক সবাইকে জাপটে ধরছে প্রবলভাবে। ২০০৭-এর ওয়ান ইলেভেনের কথা আমরা সবাই জানি। সেদিন বিএনপির অতিরিক্ত স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিরোধীদলের অনমনীয়তার জন্যই জাতিকে এটা দেখতে হয়েছিল; এবং এর পুনরাবৃত্তি নিশ্চয় কেউ চায় না। সামরিক সরকার কখনো মঙ্গলজনক কোন ব্যবস্থা হতে পারে না। সর্বোপরি দেশের ৯০% মানুষ তত্ত্বাবধায়ক চাইছে তার মানে তারা আর একটি ওয়ান ইলেভেন দেখার জন্য প্রস্তুত নয়। সরকারের আত্মবিশ্বাস যদি এতই বেশি হয় তাহলে এত টালবাহানা কেন? দয়া করে জনগণকে আর ভোগাবেন না। পরিশেষে বলতে চাই- বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধান এবং জনগণের দীর্ঘশ্বাস দূর করতে দুই নেত্রী মিলে অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন; অন্তত আর একটি ওয়ান ইলেভেন ঠেকাতে সঠিক কাজটুকু করুন। জনগণ বাঁচবে, দেশ বাঁচবে, গণতন্ত্রের বিজয় হবে।
হাসিবুল্লাহ
দ্বিতীয় বর্ষ, লোক প্রশাসন বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
০০০০০
বাংলাদেশে ১/১১’র মত মারাত্মক পরিস্থিতি আর যেন না হয়
দেশের কল্যাণে, দেশের জন্য, দেশের নিরীহ মানুষের জন্য, যারা রাজনীতি করে তারা কখনও চাইবে না দেশে আবার ১/১১’র মত ভয়াবহ মহাদৈত্য এসে হাজির হোক। রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি বিন্দুমাত্র দেশের মানুষের জন্য ভালবাসা থাকে, তবে তাদের উচিত সঠিক গণতন্ত্র চর্চা করা, দেশের মানুষের উন্নতির জন্য কাজ করা। দেশের মানুষের জন্য কাজ করলে এদেশের মানুষ নিজের ইচ্ছায় নির্বাচনে উপযুক্ত দলকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। দুই দলের দুই নেত্রী পৃথিবীর দুই মেরুতে থাকলে চলবে না। বরং দুই নেত্রীকে এজন্য একটা গ্রহণযোগ্য ও সহজ পথ বের করে সমাধান করতে হবে। আগামী নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত। যদি তারা না পারেন তবে জনগণই উপযুক্ত দাঁতভাঙ্গা জবাব দিবেন এবং তা সময়ই বলে দিবে। জনগণই সকল শক্তির উত্স একথা রাজনৈতিক দলকে ভুললে চলবে না।
খাজা মাহদী
ফটোসাংবাদিক (DUPS)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-১০০০
০০০০০
১/১১ বা তার চেয়ে ভয়ংকর কিছু ঘটার আশঙ্কা
১/১১ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তত্কালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সামান্য ভুলের জন্য ১/১১’র মত জঘন্যতম ঘটনার সূত্রপাত হয়। ১/১১’র পূর্বে চারদলীয় জোট সরকার ঠিক একইভাবে সাংবিধানিক কৌশল অবলম্বন করে, যা বর্তমানে মহাজোট সরকারও করছে। যার ফল ছিল অতি তিক্ত, যা ভোগ করে রাজনীতিবিদসহ সারা দেশের মানুষ। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থান ১/১১ বা তার চেয়ে ভয়ঙ্কর কিছু ঘটার আশঙ্কা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। আর এ নিয়ে দেশের বাইরেও উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং হস্তক্ষেপ করছে , যা আমাদের জন্য লজ্জাস্করও বটে। নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্যা দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। সেখানে কেন বাইরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হবে, যা কাম্য নয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজন সরকারি ও বিরোধী দলে সামান্য আগ্রহ ও ইচ্ছা। তাই সরকারি ও বিরোধী দলকে অনুরোধ করছি, সামনে বর্তমান সরকারের শেষ সংসদ অধিবেশন, সেখানে অথবা সংসদের বাইরে যেখানে হোক নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করুন, সমঝোতায় আসুন। দেশ বাঁচান, মানুষ বাঁচান। রক্ষা করুন গণতন্ত্র, অর্থনীতি এবং দেশের সকল উন্নয়ন কার্যক্রম। নইলে কোন অসাংবিধানিক শক্তি বা কোন তৃতীয় শক্তির চিত্র চিত্রিত হতে পারে, যা বাংলাদেশের কোন জনগণের কাম্য নয়।
মিসা রহমান
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
০০০০০
সমঝোতা চাই, তবে.....
বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে হবে, নাকি নির্বাচনই হবে না। আর এ নিয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মনে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাই অনেকে বলছে বড় দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতার প্রয়োজন। না হয় আবারও এক/এগার-এর মত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশের সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয় আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে তা আদৌ কাম্য নয়। কেননা মহামান্য আদালতের রায়ের মাধ্যমে মহান সংসদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্তি হয় এবং একটি গণতান্ত্রিক দেশে যে নির্বাচন হওয়া উচিত তাই সংযোজন করা হয়। যা বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দেশে বিদ্যমান। এরকম একটি বিষয় নিয়ে কোন সমঝোতার প্রয়োজন নেই । যদিও হয় তাহলে তা জাতীয় সংসদের মাধ্যমে হতে হবে।
হাবিবুর রহমান
স্নাতক, সম্মান (ইতিহাস)
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
