[ রা জ নী তি]

কোন পথে সরকার, সংলাপ না সংঘাত

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৩৪
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি শুধু বাতিলই করেনি বরং তাদের অধীনে নির্বাচন করার কতগুলো বিধান রেখে সংবিধানে পরিবর্তন আনেন। আর নিজেদের ইচ্ছামত পরিবর্তন করা সংবিধানের দোহাই দিয়ে এর পক্ষে সাফাই গাইছেন সরকার। উন্নত বিশ্বের মডেলে নির্বাচন করা, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও সার্বভৌম বলে প্রচার করা এবং তাদের অধীনে বিগত স্থানীয় নির্বাচনগুলো অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে Broot Majority পায় বর্তমান সরকার। এর কারণে আত্ম-অহংকারে পুরো দল ও সরকার ভাসতে থাকে। আওয়ামী লীগ সেই ভুলটিই করছে যে ভুলটি বিএনপি করেছিল। সেই ভুলটির কারণেই ওয়ান ইলেভেনের মত আবারও ভয়াবহ পরিস্থিতির আশংকা করছেন সবাই। দেশি-বিদেশি সবাই সংঘাতের আশংকা করলেও সরকার প্রধান সংবিধানের বাইরে “এক চুলও নড়বেন না”— বলে দোহাই এমনভাবে দিচ্ছেন যে মনে হচ্ছে এটি কোন ঐশ্বরিক ধর্মগ্রন্থ। যাতে কোন হাত দেয়া যাবে না। অথচ সংবিধান তৈরিই হয়েছিল মানুষের কল্যাণে, জনগণের কল্যাণে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুইনুল ইসলাম সময় টিভিতে সাক্ষাত্কারে বর্তমান সংবিধানকে “প্রধানমন্ত্রীর সংবিধান” বলেছেন। অতিসমপ্রতি ওআরজি-কোয়েস্ট নামক জরিপে একটি পেশাধারী সংস্থার দেখা গেছে দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ নির্দলীয় অথবা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন চায়। অথচ কোন জরিপ বা জনমানুষের পক্ষে কোন যুক্তিই মানছেন না সরকার। যে কোন দল ও সরকারের জন্যই Broot Majority পাওয়া খুব খারাপ ফল বয়ে এনেছে। যার কারণে বেশির ভাগ সরকার প্রধানকে স্বৈরাচারী ও দাম্ভিক হতে দেখা গেছে। এজন্য যদি আওয়ামী লীগ এবার আবারও ক্ষমতায় আসে তাহলে দাম্ভিকতাকে চতুর্দশ লুই-এর মতই আত্ম-অহংকারে বলতে শুনা যাবে যে – “I am the state”. তখন সেই দল নিজেকে রাষ্ট্রের একচ্ছত্র অধিপতি দাবি করবে। আর তখনই সেই দল ও সরকারের করুণ পতন হবে। যা ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই। এজন্যই সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সব দল ও মতের দাবি হওয়া সত্ত্বেও এটাকে কোন আমলেই নিচ্ছেন না। বর্তমান সরকারের কালো বিড়ালখ্যাত মন্ত্রী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ অনেকগুলো সংশোধনী আনেন শুধুমাত্র কিভাবে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনা যায়। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বিষয়গুলোকে যেভাবে চিহ্নিত করেছেন প্রথমত সংবিধানের ১২৩(৩) এবং ৫৭(৩) অনুচ্ছেদের সুযোগ নিয়ে নির্বাচন না করে অনির্দিষ্টকাল ক্ষমতায় থাকা। নিজেরাই দেশে সংঘাত এবং সংঘর্ষ সৃষ্টি করে সংবিধানের ১৪১(ক) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়কে ব্যবহার করে নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতায় থাকা। বিরোধী দলের এবং সরকার দলের কিছু সদস্য নিয়ে নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত বলে সাজানো নির্বাচন করা। সংসদের সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি করে নির্বাচনী তফসিল স্থগিত করে ক্ষমতায় থাকা। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর পর্যন্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই বহাল থাকার বিধান রাখা হয়েছে সংবিধানে। উপরের সবগুলো চেষ্টা যদি ব্যর্থ হয়ে যায় তাহলে সরকার সর্বশেষ দেশে চরম সংঘাত তৈরি করে তৃতীয় কোন শক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিরাপদে আওয়ামী লীগের নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করা ও জনরোষ থেকে পিঠ বাঁচানো। এসব অনেকগুলো চিন্তা মাথায় রেখে সরকার এগিয়ে চলেছে। এখন অবশ্য তারা স্পীকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান করারও কথা বলছেন। অবশ্য তাঁদের কেউ কেউ মিশরের মত পরিস্থিতির কথা বলছেন। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গত ২৬/৮/২০১৩ প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানে বলেছেন- প্রধানমন্ত্রী এবং স্পীকার কারো অধীনেই আমরা নির্বাচনে যাব না। আগামী অক্টোবরের মধ্যে সরকারের বরফ গলবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন- আন্দোলন শুরু হলে সরকার পতন পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এদিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বিভিন্ন দল এবং সামাজিক সংগঠন নিয়মিত দেখা করেছেন। তিনিও গত ২৬/৮/২০১৩-তে বলেছেন- তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে নির্বাচন হলে শান্তিতে থাকবে দেশের মানুষ, অশান্তির পরিমাণ কমবে। তিনি বলেন- যত তাড়াতাড়ি আপনারা সমঝোতায় আসেন ততই ভাল। তিনি দু’দলে চাইলে সমঝোতা করতেই প্রস্তুত আছেন। অথচ অর্থমন্ত্রী ড. আবুল মাল আবদুল মুহিত ঠিক ঐদিনই বলেছেন- গ্রামীণ ব্যাংকের ৫৪ সংগঠনই অবৈধ এবং ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে দেশের বাইরে মিথ্যাচার করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ অবশ্য বিএনপিতে যোগ দিতে বলেছেন। এভাবে তারা প্রথম থেকে ড. ইউনূসকে সুদখোর-ঘুষখোর বলে প্রচার করে আসছিলেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলের প্রধানের চুলতত্ত্বও এখন আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে। এদিকে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল এবং তাদেরকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হলে সংঘাত বাড়বে বৈ কমবে না। জামায়াত নির্বাচনে অংশগ্রহণে ব্যর্থ হলে তারাও সংঘাতের পথ ছাড়া তাদেরকে পিছু তাকাবার কোন পথ থাকবে না। এখানে নির্বাচন কমিশন আদালতের রায়ের কথা বলে জামায়াতকে আগামী নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারে। জামায়াতের নেতাদের ফাঁসির রায়ও কার্যকর করতে পারে। জামায়াতকে বিএনপি জোট থেকে সরানোর সকল কৌশল ব্যর্থ হলে সরকার এসব করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হেফাজতও প্রস্তুতি নিয়েছে তাদের ১৩ দফা বাস্তবায়নের জন্য আবারও রাজপথকে বেছে নেবে। হঠাত্ করে জঙ্গীদের উদ্ভব হয়েছে। কিন্তু কেন? এটি কি সরকারের তৈরি করা জঙ্গীবাদতত্ত্ব যা মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানো এবং উন্নত বিশ্বকে বোঝানো- আমরা ক্ষমতায় না গেলে বিএনপি আসলে দেশ জঙ্গী হয়ে যাবে। মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তাদের এই বিষয়টিও দেশের জনগণের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না। ইতোমধ্যে বিএনপিকে ভাঙ্গার খেলায় বিএনএফ নামক একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী ২১টি জেলা ও ১০০টি উপজেলায় দলের অফিস থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ চট্টগ্রামে ৩৬টি কার্যালয় থাকার কথা থাকলেও তাতে তাদের কোন কার্যালয়ের অস্তিত্ব নেই। আমার জানা মতে- তারা কোন অফিস করার মত জনবল ও ক্ষমতা তাদের আছে কিনা সন্দেহ। তারপরও তাদেরকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। কারণ বিএনপির আদর্শ ও উদ্দেশ্য একই রকম ও লোগো ধানের শীষের মত গমের শীষ অথবা রজনীগন্ধার শীষের মত লোগো ব্যবহার করার কারণে বিএনপি এর তীব্র বিরোধিতা করছে। ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বিএনপি থেকে সরে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার কথা বলছেন। এদিকে বর্তমান মহাজোটের প্রধান শরীক জাতীয় পার্টির প্রধানও ইতোমধ্যে জোট ছেড়ে দিয়ে আলাদাভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি যে কোন মুহূর্তে মহাজোট ছাড়ার সিদ্ধান্তে আছেন। কারণ জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরে নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে জোট ছাড়ার তীব্র চাপ রয়েছে তার উপর। সুতরাং সরকার জামায়াত, হেফাজত, জঙ্গীবাদ, দুর্নীতি, অপশাসন, শেয়ার কেলেংকারী, হলমার্ক, ডেসটিনিসহ আলোচিত সব দুর্নীতি, গুম, হত্যা, নির্যাতন, ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংককে নিয়ে তাদের প্রতিহিংসা ও অপপ্রচারের ফলে দেশে-বিদেশে এক বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে। যা থেকে বাঁচবার জন্য আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা ছাড়া তাদের কোন উপায় নেই। যে কোন মূল্যে তাদের ক্ষমতায় আসতেই হবে। নচেত্ জনরোষে তাদের অবস্থা কি হবে তা নিয়েই উদ্বিগ্ন তারা। এ অবস্থা উত্তরণে ইতোমধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন দুই নেত্রীকেই টেলিফোন করেছেন। দুই নেত্রীই তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ যদি তত্ত্বাবধায়ক মেনেও নেয় তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান নিয়ে জটিলতা দেখা দিবে। তার জন্য আবারও আন্দোলন করতে হবে। তা নিয়েই এখন সংলাপ শুরু হওয়া দরকার। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সংসদের মেয়াদ রয়েছে। সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলেও ২৪ জানুয়ারি ২০১৪ সংসদের মেয়াদ শেষ হবে। তবে মন্ত্রিসভার মেয়াদ শেষ হবে না। প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী ৯০দিন অর্থাত্ ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত স্বপদে বহাল থাকবেন। এ অবস্থায় সংলাপ হওয়া জরুরি। তা না হলে সবমিলিয়ে সংঘাতের আশংকা কোন রকমেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিরোধী দল অবশ্য সংঘাত এড়াতে চাইছেন। যাতে করে তৃতীয় শক্তি এলে তাদেরকে আরও অনেকদিন ক্ষমতার বাইরে থাকতে হতে পারে। এজন্য তারা ঈদের পরের আন্দোলনের পরিবর্তে অক্টোবরের শেষদিকে লাগাতার আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপি চাইছে সরকার নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক মেনে নিলেই তারা কোনরকম সহিংসতায় যাবে না এবং সরকারও তাদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করুক। এর আগে তাদেরকে সরিয়ে দেয়ার খারাপ নজির সৃষ্টি করতে চাইছে না। এরই মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিবের টেলিফোন সংলাপের পর আবারও সরকার আরাফাত রহমান কোকোর দুর্নীতির টাকার হিসাব দিয়ে মিডিয়ায় বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব একে মিথ্যা ও ক্রিকেট বোর্ডের পুরস্কারের মত বোর্ডের মাধ্যমে টাকার চেক দেখানোকে সাজানো নাটক বলেছেন। গত পাঁচবছর অনেক ভাল ভাল ইস্যু পাওয়া শর্তেও বিএনপি কোন কাজে লাগাতে পারেনি। এজন্য সরকার একের পর এক বিভিন্ন অনিয়ম করে যাচ্ছে। একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা বিএনপি পালন করতে পারেনি। বিএনপি রাজনীতি ও আন্দোলনের মাঠ চাঙ্গা করতে পারবে না এই ভেবে তারা এখন জামায়াত ও হেফাজতকে টার্গেট করে তাদেরকে জেল-জুলুম ও অপপ্রচার চালিয়ে দমন করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আর জঙ্গিবাদকে আন্তর্জাতিক বিশ্বকে বুঝানো এখানে জঙ্গি দমনে আমরা দক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে। এদিকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, আমলা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও বসে নেই। তারা গোপনে গোপনে কাজ করে যাচ্ছে ঐকমত্যের সরকার গঠন করার জন্য। গত পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগের বঞ্চিতরাও তলে তলে সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের মধ্যেও না পাওয়ার অন্তহীন হাহাকার কাজ করছে। এই দুই-তৃতীয়াংশের চেয়েও বেশি Majority পেয়ে সংসদকে তাদের দলীয় ফোরাম বানিয়েছে। প্রশাসনকে চরম দলীয়করণে শ্রেষ্ঠ নজির স্থাপন করেছে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘নিয়োগ বাণিজ্য’ করে হরিলুট করেছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে কোন নিয়ম-নীতিই তারা মানেনি। দেশের মানুষের ভেতরে একটা অজানা আশঙ্কা— আদৌ কি নির্বাচন হবে? না অন্য কোন কিছু ঘটবে। না সংঘাত, সংঘর্ষে প্রচুর প্রাণহানি ঘটবে। এ ধরনের একটা গুমোট পরিস্থিতি বিরাজ করছে সবার মধ্যে। রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের রয়েছে এক ঐতিহাসিক অবস্থান। তারা একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে দেশের কল্যাণে তাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য সরকারকে স্বৈরাচারী পথে না গিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করে জাতিসংঘের মহাসচিবসহ দেশের আপামর জনসাধারণের মতকে প্রাধান্য দিয়ে সংলাপে বসা উচিত। এজন্য দেশের স্বার্থে সরকারকে আরও নমনীয় হয়ে ২৭ অক্টোবর ২০১৩’র আগেই সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রী ৭ জুন সংসদে ২৫ অক্টোবরের পর সংসদ আর বসবে না বলে ঘোষণা দেন। এর জন্য বিরোধী দলকেও সমঝোতা বা সংলাপের জন্য উদ্যোগী হতে হবে। অবশ্য এর জন্য সরকার প্রধানের একগুঁয়েমি বাদ দিয়ে সংলাপে বসে সমঝোতায় পৌঁছা দরকার। কারণ সমঝোতার চাবিও সরকারের কাছে এবং সংঘাতের চাবিও সরকারের হাতে। সুতরাং যদি তারা এ মুহূর্তে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতায় না আসে তা হলে রাজপথের আন্দোলন ছাড়া সমাধানের আর কোন উপায় নেই। যদি গত ওয়ান ইলেভেনের মত সেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে তাহলে প্রচুর রক্তপাত, সম্পদ নষ্টসহ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অনেক পিছিয়ে যাবে যার মাশুল সবাইকে দিতে হবে। লেখক :শিক্ষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইমেইল : [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন