সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন (!)

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৩৪
ওদের থেকে সাবধান! আজ আমাদের দেশের দায়িত্ববানদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায় তারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই”— এই গানটিকে নকল করে বলতে চায়। দেশ ও মানুষের যাই হোক ভাই, আমাদের ক্ষমতাটা চাই। তাদের ভুলে গেলে চলবে না, এই গান কিন্তু সেই ইঁদুর দুটোও গেয়েছিল! যাদের মধ্যে একটি রুটি ভাগ করা নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল। তারা মনে মনে একে অন্যকে বলছিল— “তুই যাহাই বলিস ভাই, আমার বড় অংশ চাই”। শেষ পর্যন্ত তারা নিজেরা বিষয়টিকে মীমাংসা না করতে পারায় বানরের শরণাপন্ন হল। বানর তার কূট বুদ্ধির মাধ্যমে সবটুকু রুটি নিজের পেটে পুরে নিল। ওহে বাংলার কর্ণধারগণ! আপনারা এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করবেন না। যা নিয়ন্ত্রণের জন্য কেউ উড়ে এসে জুড়ে বসে আমাদের সোনার বাংলাদেশকে তামার বাংলাদেশে পরিণত করবে। তখন তৃতীয় শক্তির হাত থেকে বাঁচার জন্য দেশবাসীসহ দুই নেত্রীও ত্রাহি ত্রাহি করবে। তাই বলছি, ওদের হতে সাবধান! মুহাম্মাদ হাবিবুর রহমান অনার্স শেষ বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ ভোলা সরকারি কলেজ, ভোলা ওয়ান ইলেভেন নয়, সমঝোতা চাই আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর কি মনোভাব তৈরি হয়েছে জাতিসংঘের মহাসচিব পর্যন্ত আমাদের আলোচনায় বসার বা সমাঝোতার জন্য তাগিদ দেয়। জাতিসংঘের মহাসচিবের এই ফোন আমাদের দেশের জন্য কলঙ্ক বলে আমি মনে করি। আমরা দেশকে কতটুকু ভালবাসি তার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিবের ফোন করতে হবে। আরো একটি বিষয় লক্ষণীয় যে দল ক্ষমতার আসনে বসে তারা এমন ভাব ধরে যে তারা ছাড়া কেউ উন্নয়ন করেনি। ২০০৬ সালের ওয়ান ইলেভেন আসবে এই ভয়ে প্রহর গুণছে বাঙালিরা। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলগুলোর মনে এই ধারণা— দেশটা তাদের। কিন্তু তাদের ধারণা ভুল। ওয়ান ইলেভেনের আতংকে ভিতু দেশের সাধারণ জনগণ। দেশের রাজনৈতিক অবস্থা খুবই নাজুক। আমি বা আমার মতো দেশের কোন মানুষই চাই না যে এদেশে আবার ওয়ান ইলেভেন মতো ঘটনা পুনরায় ঘটুক। সবাই সমঝোতার সাথে সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। এদেশের মানুষ সহজ-সরল এবং সবাই শান্তি কামনা করে। আমি মনে করি, দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল যদি সমঝোতায় ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের শান্তির জন্য কাজ না করার চেষ্টা বা অগ্রসর না হয় তাহলে দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে এই পরস্পর দ্বিমুখী প্রধান দুই রাজনৈতিক দলকে বয়কট করা উচিত। মো. কোরবান আলী ৪র্থ বর্ষ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ প্লিজ, জনগণকে আর ভোগাবেন না ১/১১’র মতো কালো অধ্যায়ের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে দু’টি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেত্রীর উচিত আলোচনার মাধ্যমে একটা সমঝোতার উপায় তৈরি করা। দেশের ৯০% জনগণ যখন নির্দলীয় সরকার পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়, সেখানে বিকল্প পন্থা খোঁজার চেষ্টাই বৃথা। ভুলে যাবেন না, জনগণই রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উত্স। রাজনৈতিক অঙ্গনকে সংঘাতের কবল থেকে রক্ষা করতে সমঝোতার বিকল্প নেই। অন্যথায় ১/১১’র মতো ঘটনা সন্নিকটে। দেশ বাঁচান, জাতিকে বাঁচান, সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ করুন। জনগণকে আর ভোগাবেন না, সংকট নিরসন করে জনগণকে আরেকবার ১/১১’র পুনরাবৃত্তির কবল থেকে রক্ষা করুন। মসিউর রহমান মানবিক বিভাগ, ২য় বর্ষ কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ সমঝোতা না হলে ১/১১ দুর্নীতি ও দ্বন্দ্বে জর্জরিত হয়ে এই দেশটা এখন মুমূর্ষু অবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে সেটা নিঃসন্দেহ। বর্তমান সরকারের পঞ্চদশ সংশোধনী, যার সাপেক্ষে রাজনীতি অঙ্গন উত্তপ্ত ও যাবতীয় সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডকে যদি একযোগে একটি Thesis হিসেবে চিন্তা করি এবং বিরোধীদলের সরকার বিরোধী সকল কর্মকাণ্ডকে যদি Anti-Thesis হিসেবে নিই,তবে ক্ষমতার লোভের দ্বন্দ্ব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে, এর সংঘর্ষে নতুন যে Synthesis গঠিত হতে যাচ্ছে অর্থাত্ চরম অস্থিতিশীলতা, হতে পারে ১/১১ অথবা আরেকটি প্রতীকী মিসর, যেখানে অসম্ভব কিছু নয়, সেই Synthesis বর্তমান উন্নয়নশীল ও দারিদ্র্যপূর্ণ দেশের জন্য যতটুকু সুফল বয়ে আনতে পারে তার চেয়ে বেশি প্রায় ৯০% কুফল বয়ে আনতে পারে যা উক্ত পরিস্থিতিতে সহজে অনুমেয়, যদি সমঝোতা না হয়। রাজনীতিবিদরা একটি দেশের পরিচালনাকারী বলে তারা রাষ্ট্রের ব্রেইন হিসাবে কাজ করেন, তাদের সিদ্ধান্তেই দেশটা পরিচালিত হয়। চালক গাড়িকে পানিতেও ফেলতে পারেন তার ইচ্ছাশক্তি দিয়ে। ঠিক তেমনি দুই রাজনৈতিক দল দেশকে সমৃদ্ধির চূড়ান্ত পর্যায়ে অথবা অতলে নিতে পারেন, আবার পূর্বের সামরিক শাসনে যাবে কি? সেটাও চিন্তার বিষয়। তাই ১৬ কোটি মানুষের কথা বিবেচনায় এনে, বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সমঝোতা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। মোহাম্মদ আলী মর্তুজা সমাজতত্ত্ব, ২য় বর্ষ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন