সমঝোতা না হলেই প্রশ্নবিদ্ধ হবে গণতন্ত্র
সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন আসবে কথাটি খুবই প্রণিধানযোগ্য। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের যে রূপ দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেনের ভয়াবহতা নেমে আসবে। গণতন্ত্রকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে শাসক গোষ্ঠীরা। সরকার দেশকে দিন দিন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা সেই সংঘাতের পুনরাবৃত্তি সরকার তথা বিরোধীদলের মধ্যে আর দেখতে চাই না। সরকারের সাড়ে চার বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রচুর প্রাণহানির মত জঘন্যতম ঘটনা হর-হামেশাই ঘটেছে, প্রচুর সম্পদও ধ্বংস হয়েছে যা কখনো আমরা আশা করিনি। অথচ একই জাতি ও ধর্মের মানুষের মধ্যে এই নারকীয় ঘটনাগুলো ঘটেছে যা খুবই দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। বিবেক দিয়ে একটু চিন্তা করলে বোঝা যায়, ক্ষমতার সিঁড়িকে কেন্দ্র করে সুকৌশলে জাতিকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে যাতে করে এদেশটির মধ্যে দ্বন্দ্ব আর হিংসা-বিদ্বেষ লেগেই থাকে। এদেশের মালিক এদেশের ১৬ কোটি জনগণ। সুতরাং সরকারকে বিনয়ের সাথে বলব- প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে জনগণের মনের ভাষা বুঝার চেষ্টা করুন। সমঝোতার মাধ্যমে রাজনীতির সংকটকে দূরীকরণ করে একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে উপহার দেয়ার ব্যবস্থা করুন, যাতে করে রাজনৈতিক সহিংসতায় আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয় ।
তোফাজ্জল হুছাইন
এলএলএম অধ্যয়নরত,
(ইউআইটিএস), ইউনিভার্সিটি অফ
ইনফরমেশন টেকনোলজি এন্ড সাইন্স
কাকরাইল ক্যাম্পাস, ঢাকা
০০০০০
সমাধান দরকার
আমাদের দেশে সমঝোতার বড় অভাব। কেউ কারো সাথে মিলতে চায় না। আমরা যে কেন এমন মনোভাব-সম্পন্ন! সামনে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনমনে চলছে তুমুল উত্তেজনা। একটা বিপদের আভাস যেন সবাই পাচ্ছে। কেন আমরা কি একটি গণতান্ত্রিক মনোভাবসম্পন্ন হয়ে দেশের কথা একবার চিন্তা করতে পারি না? আমরা ক্ষমতার কেন এত বড়াই করি? ক্ষমতার উত্স কি? যে সাধারণ জনগণ ক্ষমতা দান করে আমরা তাদের কথা কেন ভুলে যাই? আমরা কি এমনই অবুঝ থাকবো? যদি এই সমস্যা চলতে থাকে তাহলে আরেকটা ১/১১ হওয়া কি অকল্পনীয়? আমাদের এই দেশে জনগণের চিন্তা খুব একটা করে না কেউ, যদি করতো তাহলে এই সমস্যা সমাধান হয়ে যেত অনেক আগেই। মাননীয় দুই নেত্রীর প্রতি অনুরোধ- দয়া করে আপনারা একটা গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছান। আমরা এমনিতেই অনেক সমস্যায় আছি। আমাদের আর সমস্যায় ফেলবেন না। আপনাদের কাছে অনুরোধ সাধারণ জনগণের দিকে একটু তাকান।
কবির খন্দকার
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
০০০০০
দুই দলের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া দরকার
একটি দেশের উন্নতির জন্য প্রয়োজন সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাব সরকারি দলের কাজে বিরোধী দল সাহায্য করছে। পরস্পর সমঝোতার মাধ্যমেই এটি তৈরি হয়েছে। এর ফলে সে সব দেশে দুর্নীতিও কম, নির্বাচনও ঠিক সময়ে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে এটির পুরোপুরি বিপরীত অবস্থান। আমাদের দেশে সরকারি দল ও বিরোধী দল-এর মধ্যে বুঝাপড়া একটুও নেই। কোন দল ক্ষমতায় আসলে বিরোধী দল তার সহায়তা না করে হরতাল, বিক্ষোভ চালিয়ে যায়। এর ফলে আমাদের দেশে দুর্নীতিও বেড়ে চলেছে। নির্বাচনও ঠিক সময়ে হচ্ছে না। পারস্পরিক বুঝাপড়া না থাকার কারণে ২০০৬ সালে ওয়ান ইলেভেনের মত ঘটনা ঘটেছিল। তাই এখন সরকারি ও বিরোধী দল-এর মধ্যে সমঝোতা দরকার। তা না হলে ওয়ান ইলেভেনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। যা আমাদের কাম্য নয়।
সঞ্জিত মণ্ডল
নাট্যকলা বিভাগ, ৩য় বর্ষ, ৫ম সেমিস্টার,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
০০০০০
আবারও কি দেশ ওয়ান-ইলেভেনের দরজায় করাঘাত করবে?
ওয়ান-ইলেভেনের সরকার কি করেছিলো? কি ঘটেছিলো তাদের আমলে? এগুলোকি ভুলে গেছেন আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল? আমি নতুন প্রজন্মের ভাবুকদের মধ্যে থেকে একজন বলছি, দয়া করে ভুলে যাবেন না সেই দিনগুলোকে। সুযোগ দিবেন না তৃতীয় কোন মাধ্যমকে। তাই বলছিলাম কি! দেশের স্বার্থে, যাদের নিয়ে রাজনীতি করেন তাদের স্বার্থে, চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে, চুল টানাটানি বাদ দিয়ে সমঝোতার পথে এগিয়ে আসুন, আলোচনার পথ সৃষ্টি করুন, নতুবা দেশ আবারও সেই ওয়ান-ইলেভেনের দরজায় করাঘাত করবে। আর দরজায় করাঘাত করলে দরজাতো খুলবেই! এখন কথা হচ্ছে সমঝোতাটা হবে কিভাবে? কারণ দু’দলের কেউতো কাউকে মানছেন না। এক্ষেত্রে আমার একটা প্রস্তাব ছিলো যদি ভেবে দেখতেন। যেমন— ‘দুজন অবিতর্কিত লোককে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হোক।
ইকবাল হুসাইন
বি,এস,এস ১ম বর্ষ,
কবি নজরুল গভঃ কলেজ, ঢাকা
