আইন মানিয়া অতিসত্বর এসআই নিয়োগ হউক

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:০৯
পুলিশের এসআই পদের নিয়োগ লইয়া যে জটিলতা তৈরি হইয়াছে তাহা রীতিমত বিস্ময়কর। কথা উঠিয়াছে আইনগত জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরিয়া দেড় হাজার পদে এসআই নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হইতেছে না। বিষয়টি লইয়া সরকারেরই দুইটি প্রতিষ্ঠান বিপরীতমুখী অবস্থান লইয়াছে। এসআই পদটি দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করিবার ফলে সরকারের নিয়োগবিধি অনুসারে এই পদধারীদের নিয়োগ-পদোন্নতি ও শৃংখলা রক্ষার বিষয়টি সরকারি কর্মকমিশন তথা পিএসসির সহিত পরামর্শক্রমে করিবার কথা। কিন্তু মন কুড়াইবার সস্তা প্রবৃত্তি হইতে সম্ভবত এইসব পদের যখন মান উন্নয়ন করা হয় তখন নিয়ম বা আইন-কানুনগুলি ভালভাবে বুঝিয়া করা হয় বলিয়া মনে হয় না। তাহা যদি করা হইতো তাহা হইলে এতগুলি বেকার যুবকের জীবন লইয়া এখন কার্যত ছিনিমিনি খেলিবার সুযোগ থাকিত না। ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী আইন মন্ত্রণালয় তাহাদের মতামতে বলিয়াছে, পুলিশের এসআই পদটি যেহেতু দ্বিতীয় শ্রেণীর তাই ইহার নিয়োগ-পদোন্নতি ও শৃংখলার বিষয়টি সরকারি কর্মকমিশনের এখতিয়ারের ভিতরে রহিয়াছে। এইখানে উল্লেখ করা সঙ্গত হইবে যে, সরকারের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে নিয়োগ-পদোন্নতি ও শৃংখলা, বিশেষ করিয়া গুরুতর অপরাধের দণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে পিএসসির পরামর্শ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। ১৯৮৩ সালের রিক্রুটমেন্ট রুল্স অনুযায়ী স্বীকৃত নিয়ম হইতেছে ১ম ও ২য় শ্রেণীর সরকারি চাকুরীজীবীদের নিয়োগ-পদোন্নতি ও শৃংখলা সুরক্ষায় পিএসসির মতামত গ্রহণ করিতে হইবে। স্বীকৃত এই নিয়মের অভিপ্রায় বাস্তবায়নই কাম্য। ইহার ব্যতিক্রম করা বা করিতে চাওয়া আরেকটি অন্যায়ের শামিল হইবে, যাহা আইনের শাসনেরও পরিপন্থী বটে। তাহাছাড়াও এই বিধানটি যাহাদের জন্য ব্যতিক্রম করিবার চেষ্টা হইতেছে বলিয়া খবরে প্রকাশ পাইয়াছে, তাহাদের হাতেই ভবিষ্যতে আইনের বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তাইবে। সেই দিক বিবেচনা করিলে এই ক্ষেত্রে আইনের ছাড় দেওয়ার যে কোনো অবকাশ থাকিবে না তাহা বলিবার অপেক্ষা রাখে না। এসআই নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন বড় বাধা হইয়াছে পুলিশের নিয়ম না মানার প্রবণতা। পুলিশ আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের সঙ্গে একমত হইতে না পারিয়া বলিতেছে নিয়োগ যেভাবেই হউক না কেন, শৃংখলা ও পদোন্নতির বিষয়টি পুলিশের নিজস্ব এখতিয়ারে থাকিবে। ইহা লইয়া দীর্ঘদিন ধরিয়া দেনদরবারও কম হইতেছে না। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় তাহাদের নিজস্ব মতামতের উপর অটল রহিয়াছে। আমাদের বক্তব্য এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত পরিষ্কার। পদমর্যাদা যদি লইতে হয় তাহা হইলে বিধান মানিয়া নিয়োগ-পদোন্নতি ও শৃংখলার বিষয়ে পিএসসির মতামত বা তাহাদের আইনগত কর্তৃত্বও মানিয়া লইতে হইবে। যদি তাহা কোনো কারণেও সম্ভব না হয়, তাহা হইলে বরং নিয়োগবিধিই পরিবর্তন করিয়া লওয়া ভাল হইবে। তাহা হইলে পুলিশের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী জনস্বার্থমূলক প্রতিষ্ঠানকে আইন লংঘনের প্রশ্ন হইতে রক্ষা করা সম্ভব হইবে। যতক্ষণ বিদ্যমান নিয়োগ বিধি বহাল থাকিবে ততক্ষণ তাহা মানিয়াই নিয়োগ দ্রুত চূড়ান্ত করিয়া ফলাফল প্রকাশ করিতে হইবে। মনে রাখিতে হইবে, একজনের দোষে আরেকজনকে সাজা দেওয়ার অধিকার কাহারও নাই। বরং এই ধরনের কাজ সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হইবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন