দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইন। আয়তনে আমাদের দেশের চেয়ে অনেক বড় হলেও জনসংখ্যা অনেক কম। মাথাপিছু আয় আমাদের চেয়ে কিছুটা ওপরে, এর অধিকাংশই আসে জনশক্তি রপ্তানি আয় থেকে।
দেশের মূল ভূখণ্ডে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জীবন যাত্রার মান অনেকটা উন্নত হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও অনেক মানুষ বাস করে দারিদ্র্য সীমার নিচে। ব্যবসার যথেষ্ট সুযোগ থাকলেও মূলধনের অভাবটা প্রকট। বন্ধকী এবং চড়া সুদের ব্যক্তিগত ঋণ এখানে বৈধ। অনেকেই এই চড়া সুদের বেড়াজালে পড়ে হয়ে যায় সহায় সম্বলহীন।
ব্যাংকিং সুবিধা অনেকটাই গতানুগতিক, তেলা মাথায় তেল দেবার মত অবস্থা। এই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য এগিয়ে এসেছে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। কার্ড, লাইফ ব্যাংক, টি আর ডি, টি এস পি আই, ম্যাক্স ব্যাংক এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে কার্ড তাদের সেবার জন্য পেয়েছে এশিয়ার নোবেলখ্যাত রামন মাগসাইসাই পুরস্কার। আর এদের শুরুটা হয়েছে বাংলাদেশকে দেখে।
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণ যখন পৃথিবীব্যাপী আলোড়ন তুলেছে, তার হাওয়া লেগেছে এদেশেও। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশকে কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে বাংলাদেশর বৃহত্তম ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আশা। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাগন মাঝে মাঝে বাংলাদেশে গিয়ে পরিদর্শন করেন আশার কর্মপদ্ধতি আবার আশার কর্মকর্তাগণও সরাসরি এই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। আশার প্রাক্তন এক কর্মকর্তা এই ফিলিপাইনে গড়ে তুলেছেন আশা ফাউন্ডেশন নামের আশার আদলে এক প্রতিষ্ঠান।
আশা ইন্টারন্যাশনাল গড়ে তুলেছে পাগাছা নামক এক ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। এই সকল ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহে আশার প্রায় ২৫-৩০ জন বাংলাদেশী কর্মকর্তা ফিলিপাইনে নিয়োজিত। আশার প্রেসিডেন্ট মো. সফিকুল হক চৌধুরী এবং অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ মাঝে মাঝে পরিদর্শন করে দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
এ সকল প্রতিষ্ঠানসমূহের সেবা পৌঁছে গেছে দেশের কেন্দ্রবিন্দু থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। লক্ষ লক্ষ ফিলিপিনো জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়েছে এই সেবা পদ্ধতিতে। এই জনগোষ্ঠীর কাছে বাংলাদেশ আজ এক বন্ধু দেশের নাম। ব্যবসা ও সামাজিক যোগাযোগে অনগ্রসর দুটি দেশের মধ্যে ক্ষুদ্র ঋণ গড়ে তুলেছে এক বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন।
লেখক :কনসাল্টেন্ট,
কার্ড এস এম ই ব্যাংক, ফিলিপাইন
[email protected]
