ভারতীয় রুপির দরপতনের প্রভাব

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২৯
ভারতীয় অর্থনীতি প্রচণ্ড এক চাপের মধ্যে পড়িয়াছে। এক বিরাট অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়িয়াছে ভারতীয় অর্থনীতি। ভারতীয় মুদ্রা রুপি ডলারের বিপরীতে তাহার মূল্য হারাইয়াছে প্রায় ২০ শতাংশের বেশি এই বত্সরের শুরুর মূল্যমানের তুলনায়। জুনের শুরু হইতে গত তিন মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের মতো দেশ হইতে বাহির করিয়া নিয়া গিয়াছে। ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের নিকট হইতে বিভিন্ন ধরনের নিশ্চয়তা কিংবা আশার কথা শুনাইবার পরেও এই পরিস্থিতির উন্নতির কোন লক্ষণ দেখা যাইতেছে না। এই অবস্থায়, বিশ্ব অর্থনীতি আবার নূতন করিয়া চাপের মুখে পড়িবে কিনা কিংবা উন্নয়নশীল দেশগুলির উপর নেতিবাচক কোন প্রভাব পড়িবে কিনা তাহা ভাবিয়া দেখার বিষয় রহিয়াছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল প্রতিবেশী দেশের ওপর এর কি প্রভাব পড়িবে তাহাও ভাবিবার বিষয়। বিশ্বায়নের যুগে বড় বড় দেশগুলির অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি অনেক ক্ষেত্রেই নিজস্ব নীতির বাহিরে অন্যান্য বড় বড় দেশের অর্থনৈতিক নীতির উপর নির্ভর করে বলিয়াই অনেক সমস্যা অপ্রত্যাশিতভাবে চলিয়া আসে। বর্তমান ভারতীয় সমস্যার ক্ষেত্রেও তাহা সত্যি। ভারতের অর্থনীতি পরিত্যাগ করিয়া যেইসব বিদেশি বিনিয়োগকারী চলিয়া যাইতেছেন তাহারা কিন্তু আমেরিকার মুদ্রানীতির দ্বারা আকৃষ্ট হইয়া অনেক ক্ষেত্রেই এই কাজ করিয়াছেন। আমেরিকার অর্থনীতি আবার চাঙ্গা হওয়ায় এবং ভারতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সর্বশেষ কোয়ার্টারে ৪.৪ শতাংশ নামিয়া আসায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগকে তাহারা বেশি আকর্ষণীয় ভাবিতেছে। এক সময় যখন এই দুই দেশের মধ্যকার প্রবৃদ্ধিগত পার্থক্য অনেক বেশি ছিলো তখন উচ্চ প্রবৃদ্ধির সুবিধা নিতে মূলধন ভারতে আসিয়াছে। এখন যখন উন্নত বিশ্বের মন্দা কাটিয়াছে এবং যেইখানে বিনিয়োগ আকর্ষণীয় হইতেছে, তখন বিনিয়োগকারীরা সেইখানে যাইতেছে। ফলে কারেন্ট একাউন্ট ঘাটতি বাড়িয়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমিয়া যাইতেছে। সংগত কারণেই ডলারের বিপরীতে রুপি তাহার মান হারাইতেছে। তবে ভারতের মতো বিশাল অর্থনীতি চাপে পড়িলে বিশ্বের বড় বড় দেশের অর্থনীতি আবার সমস্যার মধ্যে পড়িবার সম্ভাবনাতো রহিয়াছেই। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে স্বল্প মেয়াদে সুসংবাদ হিসাবেই দেখা দিবে রুপির এই দরপতন। কারণ আমদানি আরও সস্তা হইবে। ভারতীয় রপ্তানি আগের তুলনায় আরও প্রতিযোগিতামূলক হওয়ায় বাংলাদেশের সমস্যায় পড়িবার সম্ভাবনা নাই। কারণ, পোশাকের ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশের থেকে প্রতিযোগিতায় পিছাইয়া থাকায় এবং অনেক ক্ষেত্রে একই বাজারে রপ্তানি না করায় ইহার প্রভাব পড়িবে না। তবে দীর্ঘ-মেয়াদী প্রভাব কি হইবে তাহা নির্ভর করিবে ভারতীয় অর্থনৈতিক সংকটে বৈশ্বিক অর্থনীতি বিশেষ করিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতি কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তাহার উপর। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ কম হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতির নেতিবাচক প্রভাব নির্ভর করিতেছে মার্কিন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতির গতি-বিধির উপর। তাহাদের অর্থনীতি চাঙ্গা থাকিলে বাংলাদেশের উপর চাপ আসিবে না রপ্তানির দিক থেকে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের কোন সমস্যা না হইলে প্রবাসী আয়ের উপরও তেমন প্রভাব পড়িবে না। তাই বলা যায়, স্বল্প মেয়াদে ভারতীয় অর্থনীতির সংকট আমাদেরকে হয়তো প্রভাবিত করিবে না।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন