সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন (!)

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৩৫
সমঝোতায় বসে দেশকে, মানুষকে, গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন দেশের মানুষকে শান্তিতে বসবাস করার, ভাল আবাস তৈরি করার নামই হলো দেশ পরিচালনা। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে বড় দুই রাজনৈতিক দল যা দেশ সেবা বা গণতন্ত্রের মধ্যে আওতাভুক্ত নয়। দলগুলো দেশের মানুষকে বার বার ঘোলাজল খাওয়াচ্ছে। দেশের মানুষের কথা চিন্তা না করে নিজেদের শান্তির সুব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতেই দলগুলো ক্ষমতায় আসতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দেশ সেবার চেয়ে ক্ষমতাই আপনাদের বড় কিছু সেটা তারা বুঝতে পারে। ব্লেডের দু’পাশেই ধার, মাঝখানে পড়েছে দেশের সাধারণ মানুষ। তাই দয়া করে দেশ পরিচালনার নামে রক্ত, হত্যা, গুম, দুর্নীতি, নানা অপরাধের কারসাজি না করে, দু’দলসহ সকল রাজনৈতিক দল সমঝোতায় বসে দেশকে, মানুষকে, গণতন্ত্রকে রক্ষা করুণ— এ অবস্থায় দেশকে আর ভয়াবহতায় ফেলবেন না। যেভাবেই ক্ষমতায় যান না কেন আমরা তো জানি ক্ষমতায় গেলে আমাদের জন্য কী করবেন। তবুও একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ নির্বাচন আমরা আশা করি। মো. নূরুল ইসলাম বিএসসি-ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ফুড বিভাগ, ২য় বর্ষ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ধানমন্ডি, ঢাকা। সমঝোতার লক্ষ্যে দু’দলকেই অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট ক্রমেই গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। বিরোধী দল যেমন তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে অনড় তেমনি ক্ষমতাসীন দলও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের সিদ্ধান্তে অনড়। পরিস্থিতি এখন এমন একটা পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে, দেশে আবার ওয়ান ইলেভেন আসার সম্ভাবনাই বেশি দেখা যাচ্ছে। সমঝোতার প্রসঙ্গ তো অনেক দূরের বিষয়। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে উভয় দলেরই যেটা উচিত সেটা হলো, অন্তত দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে নিজেদের এই অনড় অবস্থান থেকে সরে আসা। তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া কিভাবে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব তা নিয়ে বিরোধী দলের সাথে আন্তরিকভাবে আলোচনার চেষ্টা করতে হবে। কারণ সমঝোতার ব্যাপারে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের আন্তরিকতার অভাব অনেকাংশে লক্ষণীয়। সর্বোপরি উভয় দলকেই অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে। নইলে আরেকটি ওয়ান ইলেভেন যে আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে তা স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে। সৌরভ দাস বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুক সিলেট। সমঝোতাই পারে দেশকে স্থিতিশীল রাখতে বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে। যার জন্য দায়ী একমাত্র বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা। সাম্প্রতিক সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তার সমাধান করতে হবে একমাত্র সরকার ও বিরোধী দলকে। তাই সমঝোতার মাধ্যমে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে সামাল দিতে হবে বর্তমান সরকারকে। আর সরকারকে গণতান্ত্রিক ধারাকে সমন্বিত রাখার মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দ্বারা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। যার মাধ্যমেই আমাদের এই স্বপ্নের বাংলাদেশ যেন গণতন্ত্রের দিক দিয়ে বিশ্ব দরবারে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। এটাই বাংলাদেশের মানুষের কামনা। মো. ওমর ফারুক লোক প্রশাসন বিভাগ ১ম বর্ষ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। আর ১/১১ নয় চাই শান্তিপূর্ণ সমাধান বাংলাদেশের প্রতিটি শান্তিপ্রিয় মানুষ শান্তি চায়। তারা সংঘাতকে ঘৃণা করেন। কিন্তু বর্তমান দুই প্রধান দলের নেত্রী ১০ম সংসদ নির্বাচন নিয়ে নিজ নিজ সিদ্ধান্তে অটল। কেউ কাউকে একচুল ছাড় দিতে চায় না। শেখ হাসিনা বলেন- সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। অন্যদিকে খালেদা জিয়া বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। কিন্তু এভাবে কাদা ছুঁড়াছুঁড়ি চলতে থাকলে আবার ১/১১’র মত ঘটনা ঘটবে যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কারো কাম্য নয়। এদিকে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সংলাপে বসতে সরকার প্রস্তুত এবং জাতিসংঘের উদ্যোগেই রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হবে বলে বিএনপি আশাবাদী। তাই প্রধান দুই দলের যদি দেশপ্রেম থাকে এবং শুভবুদ্ধির উদয় হয় তবে তাদের উচিত হবে সমঝোতার মাধ্যমে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে গণতন্ত্রের ধারাকে আরো শক্তিশালী করা। আমরা সাধারণ জনগণ এই প্রত্যাশা করি। তুষার চন্দ্র রায় এম এ (ইংরেজি) কারমাইকেল কলেজ, রংপুর।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন