সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন (!)

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৩৩
ওয়ান ইলেভেন রাজনীতির সমাধান নয় বাংলাদেশের মানুষ শান্তিকামী। ১৯৭১ সালে এই দেশের মানুষ দেশকে স্বাধীন করেছিল বৈদেশিক শাসক শ্রেণীর শাসন-শোষণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য, তথা শান্তিতে বসবাস করবার জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার চার দশক পরে এসেও আজো বাঙালি জাতিকে কেন আতঙ্কে থাকতে হবে। কেন আজো আমার দেশের মানুষ রাজনৈতিক হানাহানির শিকার হবে। কেন আজো ক্ষমতার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচিতে আমার শান্তিকামী মানুষের রাতের ঘুম হারাম হবে। উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। আমাদের দুই নেত্রী কি দেশের স্বার্থে রাজনীতি করেন না? রাজপথে যদি ব্যাপক আকারে সংঘাত-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে তবে ১/১১’র মতো অশুভ শক্তি আবারো জাতির ঘাড়ে চেপে বসবে বা চেপে বসার সম্ভাবনা রয়েছে। সমঝোতায় না আসলে দেশে শুধু ওয়ান ইলেভেনই আসবে না, দেশ পূর্বের ওয়ান ইলেভেনের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। আমাদের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ধ্বংসের মুখোমুখি হবে। তাই দুই নেত্রীর প্রতি আজ বাঙালি জাতির আহ্বান দেশের স্বার্থে সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে ক্ষমতার চিন্তায় বিভোর না হয়ে আলোচনার টেবিলে বসে দেশে আরেকটি ওয়ান ইলেভেনের অগ্রযাত্রাকে অস্তমিত করুন। মো. মাইনুদ্দীন অষ্টম শ্রেণী, শাকতলী উচ্চ বিদ্যালয়, আলীগঞ্জ বাজার, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা দেশ চাইলে সমঝোতা, ক্ষমতা চাইলে সংঘর্ষ আজকের বাস্তবতা অনুযায়ী আমাদের দুই নেত্রীকে বলতে হবে তাঁরা কি চায়, “দেশ নাকি ক্ষমতা”। যদি দেশ চান তাহলে বলি- দেশ, ক্ষমতা ও দেশের মানুষের ভালবাসা সবই পাবেন, আর যদি ক্ষমতা চান তাহলে বলি- ক্ষমতা পাবেন ঠিক কিন্তু দেশ এবং দেশের মানুষের ভালবাসা পাবেন না। আমরা কেন ক্ষমতার দ্বন্দ্বে আজকে একে অপরের রক্ত জড়িয়ে শহীদের পবিত্র রক্ত দিয়ে কেনা এই মাটিকে কলুষিত করছি, তাই আপনাদের প্রতি অনুরোধ— মান-অভিমান ভুলে কিভাবে এই দেশকে আগামীদিনে সুন্দরভাবে পরিচালনা করা যায়, কিভাবে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায় সেই ব্যবস্থা করুন। সমঝোতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখুন। মো. নুরুল আলম (রুবেল) বিএসএস, (অনার্স) ৩য় বর্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম সমঝোতা না হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায়ভার রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের সাথে বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও বিভিন্ন দাতা গোষ্ঠীর সাথে বৈঠক ও তাদের বিভিন্ন কথা-বার্তায় মনে হয় আমাদের সরকারি দল, বিরোধী দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে তারা বেশি চিন্তিত, যা আমাদের কাছে খুব একটা ভালো বলে মনে হয় না। নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, কিভাবে হবে তা আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সমঝোতার ভিত্তিতে এমন এক নির্বাচন দিতে হবে যা বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা অন্যান্য দেশের কাছে বাংলাদেশের নির্বাচনকে একটি রোল মডেল হিসেবে দাঁড় করাতে পারে। অন্যথায় দেশে আবারও ১/১১, তৃতীয় শক্তি বা এরচেয়ে ভয়াবহ কোন পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তার দায়ভার আমাদের রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদেরই নিতে হবে। তবে নির্বাচন নিয়ে আমরা জনগণ কোন বিদেশিদের দাম্ভিকতা দেখতে চাই না। হাবিবুর রহমান স্নাতক (সম্মান), ইতিহাস বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সমঝোতার মাধ্যমে শান্তি চাই বাংলাদেশের ইতিহাসে ১/১১ হলো একটি কালো অধ্যায়। যা জাতির জন্য ছিল অতি ভয়াবহ। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনীতিতে শুধু হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ, নানাবিধ কোন্দলসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড। এইসব ব্যক্তিরা রাজনীতির দোহাই দিয়ে ভাল মানুষ সেজে দেশকে অথৈ সমুদ্রে তলিয়ে যেতে উদগ্রীব হয়, যা সাধারণ আমজনতা বুঝতে পারে না। নির্বাচন নিয়ে চলছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নানাবিধ জল্পনা-কল্পনা। একদল আরেক দলকে দোষারোপ করছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল রাখতে নারাজ। কিন্তু বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে দেশকে অধঃপতনে নিচ্ছে। হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও, ভাংচুরসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করছে। তবুও আওয়ামী লীগ এক চুল নড়তে নারাজ। তারা সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন দিবে। রাজনৈতিক দোহাই দিয়ে সাধারণ আমজনতার ক্ষতি করবে, আমরা কি তা মেনে নিতে পারি? আমরা এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারি না এজন্য প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলকেই অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা সংঘাতময়, বিষাদময় রাজনীতি ছেড়ে সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে সচেষ্ট হবেন— এই প্রত্যাশা। তরিকুল ইসলাম রাসেল মানবিক বিভাগ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন