প্রসঙ্গ :দেশজ কয়লা উত্তোলন

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২৪
সমপ্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বিদ্যুত্ উত্পাদনে গ্যাসের উপর নির্ভরতা কমাইয়া কয়লার উপর নির্ভরতা বাড়ানোর উপর জোর দিয়াছেন। বর্তমানে বিদ্যুত্ উত্পাদনের ক্ষেত্রে ৭৯ শতাংশ নির্ভরতা রহিয়াছে গ্যাসের উপর। তাহা ও আবার তিরিশটার মতো কুইক রেন্টাল প্লান্টের সংযোজন হওয়াতে। তাহা না হইলে গ্যাসের নির্ভরতা ছিলো প্রায় নব্বই শতাংশের মতো। যে কোন অর্থনীতিতে বিদ্যুত্ উত্পাদনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক জ্বালানি বা কাঁচামাল হিসাবে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উেসর উপর জোর দেওয়া হয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পানি বিদ্যুতের আর খুব একটা সম্ভাবনা নাই। প্রাথমিক জ্বালানি হিসাবে একমাত্র বিকল্প আছে দেশীয় কয়লার ব্যবহার বাড়ানো। জ্বালানি নিরাপত্তার উপর জোর দিয়া কয়লা ভিত্তিক প্লান্টের উপর নির্ভরতা বাড়াইতে চাহিলেও বর্তমান সরকার কয়লা নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে দেশীয় কয়লার ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হইয়া উঠে নাই। তবে জ্বালানি সমস্যার সহনশীল সমাধানের ক্ষেত্রে দেশীয় কয়লার উত্তোলনের বিকল্প নাই। বর্তমান সরকার দেশীয় কয়লা উত্তোলনের মাধ্যমে তাহার ভিত্তিতে বিদ্যুত্ উত্পাদনের উপর জোর দিলেও কয়লা উত্তোলনের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক এড়াইতে আমদানিকৃত কয়লা দিয়া বিদ্যুত্ উত্পাদনের পরিকল্পনার কথা জানান অবশেষে। কিন্তু কয়লা আমদানির জন্য যে অবকাঠামো দরকার তাহা তৈরি করিতেই বিশাল অংকের ডলারের প্রয়োজন পড়িবে। অন্যদিকে, বিদেশ হইতে কয়লার মতো জ্বালানি আমাদানির ক্ষেত্রে বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যের ওঠানামা বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্যকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করিবে। সামান্য পরিমাণ ফার্নেস অয়েল আমদানি করিতে গিয়াই বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে দারুণ টান পড়ে। যাহার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ভর্তুকি অনেকটাই তুলে দিতে বাধ্য হয়। বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ঠিক রাখিতে এবং মূল্যস্ফীতি কমাইয়া আনিতে নেওয়া হয় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি। যাহার ফলশ্রুতিতে আমাদের অর্থনীতি দারুণভাবে চাপের মুখে পড়িয়াছে। কমিয়াছে আমদানি, শ্লথ হইয়াছে বেসরকারি বিনিয়োগ। সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আরও কমে যাওয়ার। ২০১০ সালের ৬.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ৬.৩ শতাংশে নামিয়া আসে তাহার পরের বত্সরে। সর্বশেষ, ২০১২ সালে তাহা নামিয়া আসে ৬.০৩ শতাংশে। বেসরকারি বিনিয়োগ ও আমদানির শ্লথগতি চলিতে থাকিলে প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নীচে নামিয়া আসিতে বাধ্য। ফলে, বৈশ্বিক পর্যায়ে জ্বালানির জন্যে নির্ভর করিলে জ্বালানি দামের ওঠা-নামা সামষ্টিক অর্থনীতির গতিধারাকে সাংঘাতিকভাবে প্রভাবিত করিবে। ফলে অর্থনীতির স্থিতির স্বার্থে, প্রবৃদ্ধির স্বার্থে এবং দারিদ্র্য বিমোচন তথা টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে দেশীয় উেসর বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াইতে হইবে। সেই ক্ষেত্রে একমাত্র বিকল্প দেশজ কয়লা। কোন পদ্ধতিতে উত্তোলন করা যাইবে এবং কোন পদ্ধতিতে উত্তোলন করিলে সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন কম ক্ষতিগ্রস্ত হইবে তাহা আলোচনা পর্যালোচনার মাধ্যমে বাহির করিতে হইবে। দেশের তিন বিলিয়ন টন কয়লার মজুতকে কাজে লাগাইয়া অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করিতে হইবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন