১৯৫৪ সালের দিকে ‘দৈনিক ইত্তেফাকের’ প্রতিষ্ঠাতা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মোসাফির নামে লেখা তার ‘রাজনৈতিক মঞ্চে’ লিখেছিলেন, ‘অনেক রাজনৈতিক নেতারই সম্ভবত একজন আত্মীয় সঙ্কট থাকে। যাহাকে কেন্দ্র করিয়া একজন নেতাকে জনসাধারণের কাছে বিব্রত হইতে হয়।’ গতকাল শনিবার ‘প্রথম আলোতে’ তারেক রহমানকে নিয়ে বিএনপি’র সঙ্কটকে কেন্দ্র করে যে খবরটি বেরিয়েছে, সেটি দেখে ৫৯ বছর আগে লেখা মোসাফিরের মন্তব্যটি মনে পড়লো।
১৯৫৪ সালের সেই সময়ে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম লীগকে ধরাশায়ী করে বিশাল নির্বাচন জয়ের অধিকারী হয়েছে। ফজলুল হকের নেতৃত্বে নতুন পূর্ব পাকিস্তান মন্ত্রিসভা গঠিত হবে এটা অবধারিত। সৈয়দ আজিজুল হক নান্না মিয়া ছিলেন হক সাহেবের অতি আদরের ভাগ্নে, কিন্তু রাজনীতিক হিসেবে বিতর্কিত চরিত্রের মানুষ দলের অধিকাংশ নেতার মতামত অগ্রাহ্য করে হক সাহেব নান্না মিয়াকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য পদে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেন এবং যুক্তফ্রন্টের জনপ্রিয়তার জোয়ারে নান্না মিয়া নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসেন।
এ পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। গোল বাধলো প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠনের সময়। ফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই হক সাহেব তার মন্ত্রিসভার প্রথম পর্যায়ের মন্ত্রী হিসেবে যে তিনজনের নাম গভর্নরের কাছে পেশ করেন তার প্রথম নামই ছিল সৈয়দ আজিজুল হক নান্না মিয়ার। নান্না মিয়াকে মন্ত্রী করা নিয়ে যুক্তফ্রন্টের প্রধান দুই শরিক দল আওয়ামী লীগ ও হক সাহেবের কৃষক শ্রমিক দলের (আগে নাম ছিল কৃষক প্রজা পার্টি) মধ্যে প্রচণ্ড বিবাদ শুরু হয়। যুক্তফ্রন্টে এই প্রথম ভাঙ্গনের চিড় ধরার আশঙ্কা দেখা দেয় এবং তা নান্না মিয়াকে মন্ত্রী করা নিয়ে। এই সময়ে ‘ইত্তেফাকে’ রাজনৈতিক মঞ্চ কলামে মানিক মিয়া (মোসাফির) তার এই ঐতিহাসিক মন্তব্যটি করেছিলেন এবং নান্না মিয়াকে কেন্দ্র করে যুক্তফ্রন্টে যাতে ভাঙ্গন সৃষ্টি না হয় সেজন্যে বিরাট ভূমিকা নিয়েছিলেন এবং সফল হয়েছিলেন।
হক সাহেবের ভাগ্নেপ্রীতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যেও সংক্রমিত হয়েছিল কিনা জানি না। কিন্তু তিনিও আপন ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনিকে তার রাজনৈতিক জীবনের সহচর হিসেবে টেনে নিয়েছিলেন। অনেকেই শেখ মনিকে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক নেতৃত্বের উত্তরাধিকারী মনে করতেন। এজন্যে তত্কালীন আওয়ামী লীগের ভেতরেও গুঞ্জন এবং বিতর্ক ছিল। ’৫৪ সালে নান্না মিয়াকে নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে মানিক মিয়া লিখেছিলেন, “নেতার আত্মীয় যদি যোগ্য হয় তাহা হইলে তাহাকে মানিয়া লইতে আপত্তি নাই। কিন্তু কেবল অন্ধ স্নেহের বশে অযোগ্য আত্মীয়কেও নেতা বানাইতে চাহিলে তখনই আপত্তি ওঠে এবং দেশ ও দশের ক্ষতি হয়। আমরা আশা করি, শেরে বাংলা যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠনে স্নেহ ও ব্যক্তিগত পছন্দকে নয়, যোগ্যতাকেই অগ্রাধিকার দিবেন।”
কেবল শেরে বাংলা নন, দেশ-বিদেশের আরো অনেক ছোট-বড় নেতাকে দেখা গেছে রাজনীতিতে উত্তরাধিকার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পুত্র, কন্যা, জামাতা বা কোনো নিকট আত্মীয়ের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। এ ক্ষেত্রে পুত্র, কন্যা বা নিকট আত্মীয় যোগ্য হলে কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। সমস্যা দেখা দিয়েছে এই উত্তরাধিকারী অযোগ্য ও অপদার্থ প্রমাণিত হলে। মোগল সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়েছে আওরঙ্গজেব-পরবর্তী অযোগ্য উত্তরাধিকারীদের হাতে পড়ে।
ভারতে জওয়াহেরলাল নেহেরু তার একমাত্র কন্যা ইন্দিরা গান্ধীকে তার রাজনৈতিক নেতৃত্বের উত্তরাধিকারী করেছিলেন। তাতেও দলের মধ্যে তাকে কম ধাক্কা পোহাতে হয়নি। তবু ইন্দিরা গান্ধী রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে তার যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন এবং সঙ্কট উতরে গেছেন। কিন্তু তিনি নিজে পুত্রস্নেহে অন্ধ হয়ে প্রথমে রাজনীতিতে অদক্ষ এবং অযোগ্য ছোট পুত্র সঞ্জয় গান্ধী এবং পরে পাইলট পুত্র রাজীব গান্ধীকে রাজনীতিতে টেনে এনে ডায়নেস্টি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। তাতে দল ও ডায়নেস্টি দুই-ই বিপর্যস্ত হয়।
বিদেশেও এর নজির আছে। সুয়েজ যুদ্ধের পর ক্ষমতাসীন টোরি সরকার বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলে রানী নতুন টোরি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের জন্য টোরিদের প্রবীণ নেতা হিসেবে চার্চিলের পরামর্শ চান। তখন বাটলার ছিলেন টোরি সরকারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি। চার্চিল তাকে অবজ্ঞা করে তার আত্মীয় লর্ড ডগলাস হিউসকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য রানীকে পরামর্শ দেন। পরবর্তী নির্বাচনে হিউস ও টোরি সরকারের ভরাডুবি ঘটে।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতেও উত্তরাধিকার মনোনয়নে নেতা-নেত্রীদের মধ্যে যোগ্যতার বিচার ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণের বদলে অন্ধ স্নেহের বশবর্তী হয়ে বিতর্কিত পুত্র, কন্যাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনয়ন ও তা দলের উপর চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই প্রবণতাটি বিএনপি’র মধ্যেই প্রবল। দলের সিনিয়র নেতাদের ডিঙ্গিয়ে তাদের মতামতের কোনো তোয়াক্কা না করে দল নেত্রী খালেদা জিয়া তার বিতর্কিত, নানা গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এবং বিদেশে স্বেচ্ছা নির্বাসিত পুত্র তারেক রহমানকে শুধু দলের নেতৃত্বে নয়, দল ক্ষমতায় গেলে তাকে সরকার প্রধান করারও যে অবিরাম চেষ্টা শুরু করেছেন, তা বিএনপিতে যেমন সঙ্কট সৃষ্টি করেছে, তেমনি দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের মনেও শঙ্কা তৈরি করেছে।
‘প্রথম আলো’ পত্রিকাটির গত শনিবারের লিড নিউজে এই সঙ্কট ও শঙ্কায় বিবরণ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বিএনপি’র এখন দুটো মাত্র লক্ষ্য। এক, যেকোনো প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়া। দুই, তারেক রহমানকে ক্ষমতায় বসানো। এই খবরটি পাঠ করলেই বোঝা যায়, খালেদা জিয়া এখন বয়স এবং নানা রোগে-শোকে কাহিল। তিনি তাই নিজে দল নেত্রী থাকা অবস্থায় ক্ষমতা ও অন্ধ মাতৃস্নেহে তাড়িত হয়ে পুত্রকে ‘বঙ্গের সিংহাসনে’ বসিয়ে যেতে চান। তার ভয়, তিনি দলে বা দেশে ক্ষমতায় না থাকলে তার পুত্রের নিজের যোগ্যতায় সেই সিংহাসনে বসার সম্ভাবনা ও সুযোগ নেই।
বেগম জিয়া একবারও ভেবে দেখছেন না, তার পুত্রের পক্ষে ক্ষমতার পাহারায় বসে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের একটি বড় দুর্গ হাওয়া ভবন তৈরি করার কীর্তি আছে। কিন্তু একটি দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক নেতা ও সরকার প্রধান হওয়ার মতো শিক্ষা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, ইচ্ছা কোনোটাই তার আছে কিনা। জোর করে এই ধরনের নেতৃত্ব দল ও দেশের উপর চাপিয়ে দিলে শুধু দলের সর্বনাশ হয় না দেশেরও ক্ষতি হয়। মওলানা ভাসানীর পর তার পুত্রদের ভাসানী ন্যাপের নেতৃত্বে বসানো হয়েছিল দলটি কার্যত: টিকে আছে কি? অন্যদিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের জন্য তার কোনো পুত্র, কন্যা বা জামাতাকে উত্তরাধিকারী করে যাননি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সগৌরবে টিকে আছে।
গণতান্ত্রিক দেশে যেকোনো রাজনৈতিক দলের শিকড় হচ্ছে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতি ছাড়া রাজনৈতিক দল বাঁচে না। পীরের পুত্র পীর এবং নেতার পুত্র নেতা এই সামন্ত যুগীয় প্রথা বর্তমান যুগে অচল। তৃণমূল পর্যায় থেকে একটি গণতান্ত্রিক দলের নেতৃত্বকে উঠে আসতে হবে। আওয়ামী লীগে যেমন উঠে এসেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। কেউ তাকে দলের নেতৃত্বে মনোনয়ন দিয়ে বসাননি।
বঙ্গবন্ধু তার দলে কন্যা শেখ হাসিনাকে বসিয়ে দিয়ে যাননি। তিনি বরং দলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন। যেমন তোফায়েল আহমদ, আবদুর রাজ্জাক, সিরাজুল আলম খান, আ.স.ম আবদুর রব প্রমুখ। তাদের কেউ যে দলের নেতৃত্বে উঠে আসতে পারেননি এটা তাদের সাহসের অভাব ও অদক্ষতা। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগে রাজনৈতিক নেতৃত্বের শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল। এই শূন্যতা পূরণের জন্য আবদুল মালেক উকিল, জোহরা তাজউদ্দীন, ড. কামাল হোসেন, আবদুস সামাদ আজাদ অনেকের দ্বারা চেষ্টা চালানো হয়েছিল। অন্তর্দ্বন্দ্বে কেউ শূন্যতা পূরণ করতে পারেননি। ড. কামাল হোসেনতো সুযোগ পেয়েও সাহসের অভাব ও সুবিধাবাদিতার জন্য অক্সফোর্ডে আত্মগোপন করেছিলেন।
শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণের নিজ থেকে উঠে আসেননি। দলীয় কোন্দলে জর্জরিত নবীন ও প্রবীণ নেতারা নিজেরা দলের ঐক্য ধরে রাখতে না পারায় হাসিনাকে বিদেশ থেকে ডেকে এনে দলকে বাঁচিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে নেহেরু-কন্যার মতো মুজিব কন্যাও তার যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন। দলে তার নেতৃত্ব যে এখনো টিকে আছে এজন্যে ড. কামাল হোসেন থেকে শুরু করে দলের অনেক বাঘা বাঘা নেতার চ্যালেঞ্জ ও চক্রান্তের মোকাবিলা তাকে করতে হয়েছে।
তারেক রহমানকে নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া যতোটা নাচানাচি করছেন, শেখ হাসিনা তার পুত্র সজীব জয়কে নিয়ে ততোটা নাচানাচি করছেন না। জয় বিদেশে লেখাপড়া করেছেন। রাজনীতির প্রতি তার কতোটা আগ্রহ আছে তা আমার জানা নেই। যদি সেই আগ্রহ তার থাকে এবং সেই আগ্রহ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন ও জনসম্পৃক্ততা দ্বারা রাজনীতিতে আসেন ভালো কথা। তাকেও তারেক রহমানের মতো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে ভবিষ্যতে এই নেতৃত্বের প্রশ্নে আওয়ামী লীগকেও সঙ্কটে পড়তে হবে।
তারেক রহমান নিজের অতীতকে সংশোধন করে রাজনীতিতে আসুন, তাতে কারো আপত্তি নেই। কিন্তু তিনি সব রাজনৈতিক নীতি নিয়ম লঙ্ঘন করে, বিতর্কিত পন্থায় অর্জিত অর্থের জোরে, মায়ের কাঁধে চড়ে নানা গুরুতর অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ও দণ্ডিত সহচরদের নিয়ে দল এবং সরকারের শীর্ষে বসবেন এটা দেশের মানুষ কেন বিএনপি’র সিনিয়র এবং শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নেতা এবং অনেক সাধারণ কর্মীই মেনে নিতে পারছেন না ফলে দলটিতে গভীর অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। যার কিছু আভাস শনিবারের ‘প্রথম আলোর’ রিপোর্টে দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বিএনপি-জামায়াতের গত সরকারের আমলে ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র (হাওয়া ভবন) প্রতিষ্ঠা করে ক্ষমতার অপব্যবহার, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির যে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন তাতে তিনি দেশে এবং বিদেশেও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন এবং তাকে আবার দেশে ফিরিয়ে এনে শাসন ক্ষমতায় বসানো হতে পারে এই আশঙ্কা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষ পোষণ করে। একমাত্র ব্যারিস্টার রফিকুল হক নাকি বলেছেন, তারেক রহমান দেশে ফিরলে ২০ লাখ লোক তাকে সংবর্ধনা দিতে জমায়েত হবে। রফিকুল হক এটা বলতেই পারেন, কারণ, তিনি জানেন, এটা হলিউডি ফিল্ম টেকনোলজির যুগ এবং ‘রেন্ট এ ক্রাউড’ একটি নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা।
যোগ্যতার বলে রাজনীতিতে তারেক রহমানের উত্থান ঘটেনি। তার দল তাকে অনেক সিনিয়র নেতাকে ডিঙিয়ে প্রথমে যুগ্ম মহাসচিব তারপর বর্তমানের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেনি। মায়ের মনোনয়নে তিনি দলে এতোটা উঁচু ধাপে পৌঁছেছেন এবং এই মায়ের অন্ধ স্নেহের খুঁটির জোর না থাকলে রাজনীতিতে তার কি পরিণতি ঘটবে তা জানার জন্য জ্যোতিষীর দ্বারস্থ হওয়ার দরকার নেই।
দেশের শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ ভীত, দেশে আবার এক অন্ধকার যুগের আবির্ভাবের আশঙ্কায়। বিদেশের বহু দেশ ভীত, বাংলাদেশে মৌলবাদী সন্ত্রাসের এক পৃষ্ঠপোষককে শাসন-ক্ষমতায় বসানোর অশুভ তত্পরতায়। বিএনপি’র জামায়াত কানেকসন গড়ে উঠেছিল তারেক রহমানের উদ্যোগে। তারেক রহমানই প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন, “বিএনপি ও জামায়াত একই পরিবারভুক্ত দল।” বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হেফাজতি উত্থানেও তারেক রহমান বিদেশে বসে কলকাঠি নেড়েছেন বলে একাধিক বিদেশি কাগজের খবরেই আভাস দেওয়া হয়েছে।
এহেন তারেক রহমানকে নিয়ে বিএনপি’তে কোন্দল হবে, সঙ্কট সৃষ্টি হবে তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই। প্রশ্ন, বেগম খালেদা জিয়া তার দলের একদল প্রবীন ও সিনিয়র নেতা এবং বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষীদের সুপরামর্শ উপেক্ষা করে তারেক রহমানকে প্রোমোট করা এবং তার উচ্চভিলাষপূর্ণ করার কাজে লেগে থাকার জন্য জেদ ধরে রাখবেন কিনা? যদি ধরে রাখেন তাহলে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে লড়তে পারবে কিনা এবং তারেক রহমান আদৌ দেশে ফিরতে পারবেন কিনা সে সন্দেহটি আমি আগেভাগেই উচ্চারণ করে রাখছি।
লন্ডন ৭ সেপ্টেম্বর, শনিবার ২০১৩
