সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন (!)

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৫৭
সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেনের মতো অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান হতে পারে আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রূপরেখা কেমন হবে তা নিয়ে ভাবছেন দেশের সুধীজন, রাজনীতিবিদ এমনকি সাধারণ আমজনতা। আন্তর্জাতিক মহলও এ নিয়ে বেশ চিন্তিত। কেননা, সরকারি দল সংবিধান থেকে এক চুলও নড়বে না। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণে নারাজ। ফলে নির্বাচনের প্রশ্নে প্রধান দুই দলই পরস্পর বিরোধী। যা কোন সভ্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য কাম্য নয়। এহেন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ আলোচনা-সংলাপ। আর তাই যদি না হয় তাহলে সংঘাতের আশঙ্কাও করছেন অনেকে। এতে ওয়ান ইলেভেনের মতো কোন অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক অপশক্তির উত্থান হতে পারে। আর এ অপশক্তির উত্থান কাম্য নয়, আবার অসম্ভবও কিছু নয়। যা সরকারি দল, বিরোধী দল, জনগণ সবার জন্য অমঙ্গলজনক। সুতরাং, আমরা চাই আগামী সংসদ অধিবেশনে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি হবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা...। গোলাম ইয়াহিয়া আহ্মেদ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ (১মবর্ষ), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ০০০০০০ সংঘাত নিরসনে চাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান উভয় দলের অপ্রত্যাশিত সহিংস রাজনীতির মতাদর্শের কবলে অতিষ্ঠ এদেশের জনগণ। যে দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ নির্দলীয় নিরপেক্ষ (সুষ্ঠু ও সুন্দর) সরকার পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। সেখানে কেন উভয় দলের ব্যক্তিগত মতামতে অনড়। যার কারণে রাজপথে আগুন, রক্ত আর লাশ। তাহলে কি জনগণের মতামতের কোন ভিত্তি নেই আপনাদের কাছে। এদেশের আপামর জনগণের ভাষা বুঝুন তারা কি চায়। ভুলে যাবেন না— এদেশ গণতন্ত্রের দেশ, আর জনগণই সকল ক্ষমতার উত্স। বর্তমান সরকার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য করে বলেন, “যতোই চাপাচাপি কর কোন লাভ নাই”। পক্ষান্তরে প্রধান বিরোধী দলও ছেড়ে দেবার নয়। তাহলে ফল কি দাঁড়াল ‘সংঘাত’ তাই নয় কি? যেহেতু আপনারা দেশের শান্তি, উন্নতি, জনগণের নিরাপত্তা, ঐক্য বা সমঝোতা কোনটাই চান না, তাহলে আমি বলবো আপনারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি না নিয়ে সেই কালো অধ্যায় অর্থাত্ ১/১১-এর জন্য প্রস্তুতি নিন। যা কারো কাম্য নয়। আমরা সকলে চাই এই চলমান সহিংস রাজনীতির সমাধান। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছি সব কিছুর সঠিক সমাধান হওয়ার মালিকতো “আল্লাহ”। রাজনীতির স্বাদ গ্রহণের জন্য জনগণের কথা চিন্তা না করে কেবল ব্যক্তি স্বার্থ বেশি দেখেন। এমনি যদি হয় রাজনীতির অবস্থা তাহলে আর কি আসা করা যায় ...... আর কত দেখতে হবে রণাঙ্গনে লাশ হয়ে পড়ে আছে এদেশেরই সন্তান, আমারই ভাই। এ সকল দিক বিবেচনা করে Please, আলোচনার মাধ্যমে এদেশে সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করুন। আর তা না হলে ১/১১ আমাদের গ্রাস করার উপক্রম। মো. শামসুল ইসলাম (সজল) সমাজবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিভাগ, গণবিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা ০০০০০০ কথা একটাই আমরা ওয়ান ইলেভেনের পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না বাংলাদেশের ইতিহাসে ওয়ান ইলেভেন একটি অরাজকত, অন্ধকারাচ্ছন্ন ও জঘন্যতম অধ্যায়। কিছু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, অসচেতনতা ও ভুল সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণেই সৃষ্টি হয়েছিল বিতর্কিত এই ওয়ান ইলেভেন। যার কারণে অনেক কষ্ট পোহাতে হয়েছে সাধারণ জনগণ ও ছাত্র-ছাত্রীদের। আর সামপ্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, আবারও সেই ওয়ান ইলেভেনের পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে। এর প্রথম ও প্রধান কারণ হল দেশের দুই বড় দলের ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমঝোতায় না এসে ভিন্ন মত পোষণ করা। কিন্তু কথা একটাই, আমরা আরেকটি ওয়ান ইলেভেনের দুর্ভোগে পড়তে চাই না। তাই বড় দুই দলের নিকট অনুরোধ, আপনারা কলহ না করে সমঝোতায় আসেন। প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি ত্যাগ করে সমঝোতামূলক রাজনীতিতে অবিচল হোন, তাহলেই দেশের মঙ্গল হবে। নাসিম বিন নূরুদ্দীন ৯ম শ্রেণি, আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নেত্রকোনা ০০০০০ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি আসার আগেই বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিন ‘সমঝোতা’ ব্যাপারটি নিয়ে যে ধরনের উত্কণ্ঠা আর শঙ্কায় আছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ তার তিল পরিমাণ চিন্তাও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আছে কিনা সন্দেহ হয়। কেউ কাউকে ন্যূনতম ছাড় দিতে রাজি নয়, অথচ তাদের একগুঁয়েমির বিরূপ ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ওয়ান ইলেভেন আবার ফিরে আসার এই যে আশঙ্কা তা মোটেও অমূলক নয়। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো ধরনের নেতিবাচক ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যে আসতে পারে এটা জনগণ যেমন বুঝে— সরকার কিংবা বিরোধী দলও তেমনই বুঝে, বরং তারা আরও বেশিই বুঝে; তবু কেউ সমঝোতায় আসতে চাচ্ছে না। কারণ, ভোগান্তি তো তাদের পোহাতে হয় না, সব রকমের ঝড়-তুফান তো গড়ায় জনগণের ওপর দিয়ে। তবে এটা ঠিক যে, ফের যদি ওয়ান ইলেভেন নামে কোনোকিছুর আবির্ভাব ঘটে, কেউ তো ছাড় পাবে বলে মনে হয় না। তাই উভয়পক্ষের জন্যই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে বানরের রুটি ভাগাভাগির গল্পটি একবারের জন্য হলেও স্মরণ করা। আহমেদ তানভীর মাস্টার্স শেষবর্ষ, ইংরেজি বিভাগ, টঙ্গী সরকারি কলেজ, গাজীপুর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন