সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন (!)

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৩৭
গণতন্ত্র সুরক্ষায় চাই সমঝোতা ও সহনশীলতা নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে বাকবিতণ্ডা, যুক্তিতর্ক, গড়িমসি অব্যাহত রয়েছে তা নিরসন হওয়া জরুরি। অব্যাহত পরিস্থিতি খুব একটা সুফল বয়ে আনতে পারবে না বলে মনে করেন অনেকেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার সমঝোতাভিত্তিক বা গ্রহণযোগ্য মীমাংসা না হলে অশুভ পরিণতির সম্ভাবনাকে নিছক উড়িয়ে দেয়া যায় না। রাজনৈতিক দলগুলোকে বিষয়টি ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখা উচিত এবং সমঝোতা ও সহনশীলতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানে চলে আসা উচিত। আমরা এদেশেরই মানুষ। এদেশের অতীত ও বর্তমান সম্পর্কে কমবেশি সবাই ওয়াকিবহাল। কাজ করার পূর্বে ভাবাই ভাল, পরে ভাবা অর্থহীন। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য সমঝোতার এখনই সময়। মনে রাখতে হবে ‘সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়’। শিহাবুর রহমান ঢাকা সিটি কলেজ রক্তপাত নয়, আলোচনাই গণতান্ত্রিক পথ দেশের রাষ্ট্রনায়করা যখন জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তার চেয়ে রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য বেশি চিন্তিত, এরূপ পরিস্থিতিতে ওয়ান ইলেভেনের পুনরাবৃত্তি ঘটতেই পারে । দেশের সাধারণ জনগণতো কোন আন্দোলন চায় না, রক্তপাত চায় না, চায় না রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কবলে একটি সাধারণ মানুষেরও অপমৃত্যু ঘটুক। চায় দু’দলের সমঝোতা ও যুক্তিপূর্ণ আলোচনা, চায় সাংবিধানিক উপায়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে। তবে মাঝে-মাঝেই বিরোধীদলীয় নেতাদের বক্তব্যে শুনা যায় তারা নাকি আন্দোলনে যাবে। কেউই ক্ষমতার লিপ্সায় জনগণের কথা ভেবে আলোচনায় আসছেন না। যার পরিণতি ১/১১’র চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। শুধু বলব, যদি আপনারা মানুষ হন তাহলে ধ্বংসাত্মক রাজনীতি বন্ধ করুন, আলোচনায় বসুন এবং ক্ষমতাকে নয় দেশের মানুষকে ভালোবাসুন। দেখবেন ক্ষমতাকে ছাড়তে চাইবেন, ক্ষমতা আপনাদের ছাড়বে না। নূর-ই-আলম অপু মাস্টার্স শেষ পর্ব, রোলঃ ৭৫ ৪৬ ০৪ সমাজকর্ম বিভাগ, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত সাংসদকে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান করা যেতে পারে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত যে সংসদ সদস্য সরকার গঠনে অংশীদার হননি কিন্তু স্বতন্ত্র সাংদদের মধ্যে সর্বোচ্চ দিন সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন তাকে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান করে অনির্বাচিতের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর এড়ানো যেতে পারে। নির্বাচিত স্বতন্ত্র সাংসদদের মধ্য (সরকারের অংশীদারিত্ব গ্রহণকারী ব্যতীত) থেকে যদি কেউ রাজি না থাকে তবে গত নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সরকার প্রধান করা যেতে পারে। আর গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণকারী দলগুলো তাদের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উপদেষ্টা নির্বাচন করবে। আশাকরি এভাবে হলে ওয়ান ইলেভেনের আশংকা দূর হবে। ইনশিরা আনোয়ার এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(ডুয়েট) স্বাধীন দেশে আর না ওয়ান ইলেভেন গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমরা আর ওয়ান ইলেভেন দেখতে চাই না। ওয়ান ইলেভেন মানে অন্ধকার, অস্থিরতা, অর্থনীতি পঙ্গু করে দেয়া, গণতন্ত্রের অপমৃত্যু। এসব আর চাই না। আমরা চাই শান্তি। দেশকে যাতে এ কলঙ্কজনক অধ্যায়ে ফিরে যেতে না হয় সেজন্য সরকারি দল এবং বিরোধী দলকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। তা হবে রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য অথবা দেশের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য মঙ্গলময় কোন প্রদক্ষেপ। এ জন্য চাই সংঘাত নয় সমঝোতা। সুপ্রিম কোর্ট যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ বা বাতিল ঘোষণা করে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তাই দেশে আর তত্ত্বাবধায়ক আসার সুযোগ নেই। এর পরিবর্তে সংবিধানে অন্তবর্তীকালীন সরকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যা গনতান্ত্রিক দেশে করা হয়। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল তা মানতে নারাজ। যদি এমনই হয় তাহলে দেশে শুরু হবে সংঘাত, অশান্তি যার ফলশ্রুতিতে দেশ অর্থনৈতিকভাবে অচল হয়ে পরবে। দেশ চলে যাবে অন্ধকারের দিকে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অভিশপ্ত ১/১১’র পুনরাবৃত্তি ঘটবে। ফলে আর গণতন্ত্র রক্ষা হবে না। তার জন্য দু’দলকেই মাঠের মারমুখী হওয়ার পরিবর্তে আলোচনায় বসে তার সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। যাতে করে দেশ অন্ধকারের দিকে ধাবিত না হয়; এটাই এখন বাঙালি জাতির প্রত্যাশা। এ. কে. এম ইমরান হোসাইন অর্থনীতি বিভাগ (৩য় বর্ষ) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন