আমি বেশি ভাল নেই। প্রধানমন্ত্রী আজিমপুর বিদ্যুত্ সাব-স্টেশন উদ্বোধন করে গেছেন; কিন্তু তার পরদিন থেকে লোডশেডিং বেড়ে গেছে। অনেক কষ্টে আছি, রাস্তার যানজট, কাকে বলবো এবং কোথায় বলবো?
মোহাম্মদ এরফান হোসেন
লালবাগ রোড, বি,ডি,আর ২ নম্বর গেট,
আজিমপুর, ঢাকা
কিভাবে ভালো থাকবে দেশের মানুষ? দেশে যখন খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি ক্রমাগত ঘটতেই থাকে তখন তা শুধু ব্যক্তির উদ্বেগ বা নির্দিষ্ট কোন পরিবার নয় গোটা দেশের মানুষের আতংক আজ। নানাবিধ সমস্যা দেশে। এর মধ্যে ভালো থাকা কঠিন বটে।
ফারুক অলম
মালিবাগ, ঢাকা
ভালো নেই দেশের মানুষ। ব্যবসায় প্রতিযোগিতায় ক্ষমতার দিক থেকে বাংলাদেশ এগিয়েছে এটা আমাদের জন্য অবশ্যই সুখবর। আমাদের প্রিয় স্বদেশ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে আরো এগিয়ে যেতে পারে। সুতরাং এখন চাই তার জন্য বাস্তবায়নে সময়োপযোগী যথাযথ পদক্ষেপ।
হোসনে আরা করিম
এনায়েতগঞ্জ লেন, ঢাকা
আগের চেয়ে এদেশের মানুষ ভালো আছে। বিগত সরকার আমলে নানা সমস্যায় ছিল দেশ। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ডলার দাঁড়িয়ে গেছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু বার্ষিক আয় ছিল ১ হাজার ৪৪ ডলার। সামাজিক নিরাপত্তাখাতসহ অর্থনীতির বিভিন্ন সুবাদে বাংলাদেশ গত বছর ধরে ভালো করছে। সুতরাং আমার মনে হয় দেশের মানুষ খারাপ নেই।
মো. মেজবাহ উদ্দিন সেলিম
শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা
আমরা ভালো নেই। এটা বললে ভুল হবে না মোটেই। কেন আমরা ভুলে যাই যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের শপথ ছিল। তার মধ্যে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এসব ক্ষেত্রে তেমন উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। এখনো দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে। তাহলে দেশের মানুষ কোথায় ভালো আছে?
মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ১৮ দলীয় জোট আন্দোলন করে আসছে। এই আন্দোলন কবে শেষ হবে কিভাবে শেষ হবে তা জানা নেই। দু’নেত্রী দুই অবস্থানে অনড়। কে নড়াবে তাদের?
সোহাগ
ভাগলপুর লেন, নবাবগঞ্জ, ঢাকা
উত্কণ্ঠায় আছে দেশের জনগণ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানুষ বসবাস করছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দেশের অর্থনীতি, সামাজিক ও মানুষের পারিপার্শ্বিক জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এর জন্য খুন, হত্যা বেড়ে গেছে। শিক্ষাঙ্গনে বিরাজ করছে আবার অশান্ত পরিবেশ। শুধু তাই নয় সবকিছুতেই আজ নাভিশ্বাস।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা
গত সাড়ে চার বছর ধরে আমরা সাধারণ মানুষ খুবই অসুবিধার মধ্যে আছি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে আমাদের নাভিশ্বাস উঠেছে, জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি নিয়ত। অহরহ খুন, গুম, হত্যা, ধর্ষণ লেগেই আছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী আমাদের আয় বেড়েছে সত্যি কথা। কিন্তু ব্যয় বেড়েছে তার চেয়ে দ্বিগুণ। যেমন গত সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের আয় ছিল দৈনিক ১০০ টাকা, ব্যয় ৮০ টাকা। আর বর্তমান সরকার আমলে আমাদের আয় হচ্ছে ২৫০ টাকা, ব্যয় হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অর্থাত্ সাধারণ মানুষকে তার জমানো টাকা ভেঙে অথবা ঋণ করে চলতে হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।
শাহ আলম খান, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
কিভাবে দেশের মানুষ ভালো থাকবে? দেশের দুই বড় দলের শীর্ষ নেত্রীদ্বয় মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলছে না কোনভাবেই। ফলে এই সুযোগে অন্যরা বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছে। তাহলে ভালো থাকবে কিভাবে দেশের মানুষ?
মো. সেলিম, মহাখালী, ঢাকা
দেশের মানুষ ভালো নেই এটা সত্য কথা। কেউ ভালো নেই, কাদের জন্য ভালো নেই, কী জন্য ভালো নেই তার ব্যাখ্যায় বলা যায় দেশের রাজনৈতিক অবস্থা এতোটাই খারাপ হয়েছে যে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এবং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য উভয় দল মরিয়া হয়ে উঠেছে। জনগণের মতামতের উপর তারা আস্থা রাখতে পারছে না। তাই যে কোনভাবেই হোক ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তারা তত্পর। এতে জঙ্গি সংগঠনগুলো সুযোগ বুঝে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে দিচ্ছে। জনগণের মনে হতাশা দানা বেঁধে উঠেছে।
শাহ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (হিরো)
কালিহাতি, টাঙ্গাইল
এর নাম কি বেঁচে থাকা? পথে ছিনতাইকারী, যানজট, ভিক্ষুকের মিছিল। ঘরে ঘরে অনেক অভাবের ফিরিস্তি, ব্যতিক্রম কিছু ধনাঢ্য মন্ত্রী, এমপি, আমলা আর মুনাফাখোর বণিক। সেই কবে দু’মুঠো ভাতের জন্য সোনা-দানা ও রাজ্যের বদলে ঈশ্বরী পাটুনী দেবীর কাছে কেবল বলেছিল ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে!’ অর্ধসহস্র বছর অতিক্রান্ত হয়েছে এখনো ঈশ্বরী পাটুনীর মতো প্রার্থনা আমাদের অন্তর জুড়ে। এখনো আমরা শংকিত আমাদের সন্তানদের নিরাপদ গ্রাসাচ্ছাদন নিয়ে। চারদিকে মাদকের ব্যুহ আর উেকাচের বন্যা। সন্তানের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের চিন্তায় প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারের এখন বিনিদ্র রজনী অতিবাহিত হয়। আর যারা উচ্চবিত্ত তাদের সন্তানরা ছুটছে নানান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নামক বাণিজ্যিক খোঁয়াড়ে। এসব খোঁয়াড়ে নেই পর্যাপ্ত মানবিক গুণাবলী বিকাশের সুযোগ; বরং আছে ইয়াবা আর ফেন্সিডিল নামক গুপ্ত মজাদার নেশাসক্তির উপাদান। সম্প্রতি ঐশী নামের সেই পিতৃ-মাতৃ হন্তারক তথাকথিত এসব বেসরকারি শিক্ষায়তন নামক খোঁয়াড়ের বলী। কোথায় খেলার মাঠ, কোথায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, কোথায় মাতৃভাষা ও স্বদেশের জ্ঞানান্বেষণ, কোথায় বয়ঃসন্ধিকালের উপযোগী সুস্থ সাহিত্য পাঠের প্রতিযোগিতা? রাষ্ট্র পরিচালনার মতো গুরুদায়িত্বে যাঁরা কালপরিক্রমায় আসা-যাওয়া করছেন, তাঁরা দেশ ও জনগণের হিতৈষণার পরিবর্তে কেবলই প্রতিপক্ষের ছিদ্র অন্বেষণে ব্যাপৃত থাকছেন। এ পোড়া দেশের মানুষের দুয়ার থেকে তাই স্বস্তির সুবাতাস ফিরে ফিরে যাচ্ছে। যা থাকলে ভালো থাকা যায়, তার বড্ড অভাব। খাদ্যের বাজারে আজ তস্কর, ফরমালিন আর বল্গাহীন মহার্ঘের দৌরাত্ম্য। কে-ই বা ভালো থাকে?
শরিফুল ইসলাম
পাংশা, রাজবাড়ী
অশান্তির স্রোতধারা বয়ে চলছে। তবে কেউ তার প্রতিকার বা প্রতিরোধের জন্য মাথা ঘামাতে চায় না। কথায় বলে, নিজে বাঁচলে বাপের নাম। হয়তো বা এমনটাই আমাদের দেশের পরিস্থিতি। ভালো থাকি কী করে? ভালো থাকতে যেসব মৌলিক চাহিদা ও অধিকার রয়েছে সেসব কি আমরা সঠিকভাবে পাচ্ছি? হয়তো কেউ পাচ্ছে আবার কেউ পাচ্ছে না। দেশে বিদ্যমান রাজনীতির পরিস্থিতি, ঘুন-খারাবি, গুম, ধর্ষণ, বেহায়াপনা, অশ্লীল চলাফেরা, বিদেশি সংস্কৃতি ধারণ ও পোষণ, গুপ্তহত্যা, পরকীয়া প্রেম, উল্টাপাল্টা রাজনীতি, হিংসা-প্রতিহিংসা, নিয়োগ বাণিজ্য, যুবকের হতাশা, কোমলমতি ছেলেমেয়েরা অল্প বয়সে নেশাগ্রস্ত ইত্যাদি মিলে যেন দেশের মানুষ আজ আতংকের মধ্যে ডুবে আছে।
মো. একরামুল ইসলাম
বিএ (২য় বর্ষ), পীরগাছা ডিগ্রি কলেজ, রংপুর
রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্ম—সমাজের জটিল বিষয় ভাববার যোগ্যতা আমার নেই। তবু বুঝি আগে মানুষের সমস্যা ছিল সাধারণ, সমাধান ছিল সহজ। অন্যদিকে বর্তমানে প্রতিনিয়ত কায়ক্লেশের দুষ্টচক্রে ‘দারিদ্র্য’কে মোটেও ‘মহান’ মনে হয় না। খরচের বায়ান্ন-চুয়ান্ন খাতের বিপরীতে শুধুই ‘মানুষ গড়ার কারিগরে’র মহান ব্রতে ‘ইজ্জতের কামাই’ খেয়ে দিন আমার চলে না। গাড়ির ঋণ, বাড়িভাড়া, অবোধ শিশুর খাবার জোগাড়ের অসামর্থ্যতায় জাতীয় কবি দারিদ্র্যের যে ‘কণ্টক মুকুট শোভা’ অথবা ‘খ্রিষ্টের সম্মানে’ নিজকে ধন্য করেছিলেন তা তাঁকেই মানায়। আমার কাছে জীবন মানে হাহাকার ও না পাওয়ার যন্ত্রণার নাম। দ্রব্যমূল্য, আইন-শৃঙ্খলা-নিরাপত্তা ভাবনা, জাতীয় নির্বাচনের উত্তাপ, ধর্মের নামে অশিক্ষা-অপশিক্ষার গ্লানিতে মনে হয় যা শিখেছি-জেনেছি সবই ভুল এবং এখন সম্বল শুধু ব্যর্থতা ও পরাজয়। তবু আশায় থাকবো একদিন হয়তো আমার সব কষ্ট, স্মৃতি-সম্ভার হয়ে জ্বলজ্বল করবে।
অধ্যাপক মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ,
কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর
দেশের মানুষ ভালো না মন্দ এটা একটি আপেক্ষিক বিষয়। কেননা, ভালো বা মন্দের কোন সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। যেটা আমার কাছে ভালো, ঠিক সেটাই হয়তো আপনার কাছে খারাপ লাগতে পারে। এইতো সেদিন আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আমাদের ক্লাসে বলছিলেন ঈদের পর থেকে দেশের মানুষ অনেক শান্তিতে আছে। আমি তাঁর সাথে একমত। দেশে নানা ধরনের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে। কিন্তু সেটা নগণ্য। এটা কম-বেশি সবসময়ই হয়। এটা এড়ানো সম্ভব না, অন্ততপক্ষে বাংলাদেশে। স্যারের কথা ঠিকই তো! দেশের মানুষ নিরাপদে ঘুরে বেড়াচ্ছে, মত প্রকাশ করছে, কেউবা সরকারের প্রশংসা করছে, কেউবা দোষ দিচ্ছে। বিরোধী দলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তারা বড় ধরনের কোন আন্দোলন বা বন্ধ, ধর্মঘট কিছুই দেয়নি। যদিও তারা বার বার হুমকি দিচ্ছে যে, এটা করবে সেটা করবে। দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ, তাতে কী? এটা আমাদের উপর কোন প্রভাবই ফেলে না, বাঙালিদের উপর। দেশের লোক অল্প টাকায় বিদেশ যাচ্ছে, শিক্ষার ক্ষেত্রে উন্নতি হচ্ছে, কুড়িল, যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারসহ আরো অনেক কিছুই যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি ঘটিয়েছে। বিদেশি কূটনৈতিকদের মুখে শুনি বাংলাদেশ নাকি এমার্জিং টাইগার! তাহলে এখন শান্তিতে না থাকলে আর কখন আমরা শান্তিতে থাকব? শিক্ষা ক্ষেত্রেও দেখছি অনেক নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেয়া হয়েছে, হোক সেটা পাবলিক অথবা প্রাইভেট। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে অনেক ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নতুন নতুন টিভি, রেডিও, অনলাইন পত্রিকা, ৩য় প্রজন্মের ইন্টারনেট, কী নেই আমাদের? সম্প্রতি বিশ্বের ৩য় বৃহত্তম শপিংমল এই বাংলাদেশে উদ্বোধন হয়েছে! সমস্যা থাকবেই, এটা কখনো শেষ হবে না। তাই আমি মনে করি দেশের মানুষ অশান্তিতে না, শান্তিতেই আছে! যদিও অদূর ভবিষ্যতে অশান্তির আলামত লক্ষ করা যাচ্ছে।
মো. আবুল কালাম আজাদ
মাস্টার্স (সাহিত্য), ১ম সেমিস্টার;
ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে যারা তাদের প্রতি সহানুভূতি থাকা কারোই উচিত নয়। মানুষ ভালো নেই আজ নানা কারণে। খাদ্যে ভেজাল, আজ নিয়তির লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ফলমূল ক্রয় করেও নিশ্চিতভাবে খাওয়া যাচ্ছে না। ভেজাল ছাড়া কোন খাদ্য পণ্য কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতিতেও ভেজাল এখন। যানজট, ব্যাংক ঋণে জালিয়াতি, মাদকে প্রায় সয়লাব দেশ, দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি প্রভৃতি মিলে মানুষ বড় অসহায় আজ।
মো. মোজাহারুল ইসলাম
সাভার, ঢাকা
দেশের মানুষ ভালো নেই। দু’নেত্রী নিয়ে ও দু’দলের মধ্যে ঝগড়াঝাটি ও মিলের অভাব। বিভিন্ন রকম অজুহাত দেখিয়ে সংবিধানের দোহাই দিয়ে জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়।
মো. শাহাজালাল
বেনাপোল, যশোহর
আমি একজন ব্যবসায়ী। অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। কোন কিছুতেই ভালো নেই আজ দেশের মানুষ।
কামরুল হাসান
মহাখালী, আমতলী, ঢাকা
দেশের মানুষ ভালো নেই। দেশ এক চরম অস্থিতিশীল অবস্থায় বিরাজমান। কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতায়, সুশাসনের নেতৃত্বের আশায় উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের অস্বাভাবিক আচরণে দেশের মানুষ চরম বিপাকে। সময়ের ধারায় জীবন যাপনে বিশাল যানজট মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি সর্বপরি এক ভয়ংকর জীবন নাশক মাদকাসক্ত দেশের তরুণ, তরুণী, যুবক-যুবতী সব শ্রেণীর পেশার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে গ্রাস করে ফেলেছে।
মো. শহীদুল ইসলাম (রয়েল)
নিশিদারা মধ্যপাড়া, বগুড়া
আমরা খুব ভালো আছি এ সরকারের আমলে। ২১শে আগস্টের মতো ঘটনা ঘটেনি। আদমজী স্কুল ১দিনে বন্ধ করা হয়েছিল। এরপর সোনালী ব্যাংকের একের পর এক শাখাগুলি বন্ধ করা হয়েছিল। বিএনপি সরকারের আমলে এসব ঘটনা ঘটেছিল। সেই তুলায় এ সরকারের আমলে আমরা ভালো আছি। রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা একটার পর একটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার আমলে তা আবার খুলে দেয়া হয়। সে সময় বিদ্যুত্-এর অবস্থা ভালো ছিল না। এ সরকারের আমলে তা উন্নতি হয়েছে।
বিজন সরকার
৩/বি, আজিমপুর কলোনী, ঢাকা
সত্যিই দেশের মানুষ ভালো নেই। ভালো নেই নানা কারণে। সংঘাতপূর্ণ রাজনীতি, রাজপথের সহিংসতা, যানজট ইত্যাদি কারণে বাংলাদেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি উন্নীত করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশের অনিয়ম, দুর্নীতি, অসততা ও সীমাহীন অব্যবস্থাপনার চিত্রই প্রকট হয়ে উঠছে দিন দিন। এসব মিলে মানুষ ভালো কী করে থাকবে।
নীলুফা আক্তার
টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা
নিরস্ত্র মানুষের হাহাকার এখনো গ্রামীণ জনপদে চোখে পড়ে। এসব নেতিবাচক ও অন্ধকারে দিক পায়ে ঠেলে বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। কেননা এ দেশের মানুষ আসলেই ভালো নেই।
মাসুম আহম্মেদ
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
ভালো আছি না ভালো নেই—এটা নিয়ে আমি দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম। ঢাকা শহরে হঠাত্ করে টানানো, আবার হঠাত্ করে নামানো বিলবোর্ডে উন্নতির যে ফিরিস্তি সরকার দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরেছিল তা দেখে আমি নিজেকে নিজে ধমক দিয়েছিলাম। দিনকে দিন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিষযুক্ত খারাপ, মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতার কারণে তরুণ-তরুণীদের মাদকে আসক্ত হওয়া, হিংসা প্রতিহিংসার চরিতার্থকরণ, ব্যাংক লুট, অফিস-আদালত আর সেবা প্রতিষ্ঠান সমূহের ঘুষ ছাড়া কোন কাজ না হওয়া সর্বপরি জনজীবন বিপর্যন্ত করে তথা জনগণের জানমালের বিনিময়ে হলেও ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ও কুিসত ভীতিজনক রাজনীতির যে খেলা আমরা দেখছি তা দেশের জনগণ কী করে ভালো থাকতে পারে? এ মুহূর্তে কুিসত রাজনীতি বাদ, আসুন পরিষ্কার রাজনীতিতে যাই।
মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান
এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা
অনেকই মনে করেন দেশের মানুষ ভালো নেই। আমিও তার সাথে একমত। কারণ রাজনীতি করা , রাজনীতি করেন জনগণের স্বার্থে, কিন্তু তাঁরা যেভাবে কাদাছোড়াছুড়ি করছেন এতে দেশের মানুষ ভালো নেই। কারণ তাদের ছোড়া কাদাগুলো দেশের মানুষের গায়েই লাগছে। কিন্তু তাঁরা এ থেকে অনেক নিরাপদে আছেন। তাঁদের একটুকু অসমঝোতার কারণে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় দেশের মানুষ বিপর্যন্ত হয়। তাই দেশের মানুষ ভালো নেই।
ইকান
কাওরাইদ, গাজীপুর
সিপিডি প্রকাশ করেছে তাদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বেড়েছে এবং সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ, বিদ্যুত্, জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও তথ্যপ্রযুক্তিখাতে উন্নতি হয়েছে। ব্যবসায় প্রতিযোগিতায় সক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের ১৪৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১১০। আগের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়েছে ৮ ধাপ। ২০১২ সালে ১১৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১১৮তম।
নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্ব্বেও স্বাধীনতার ৪২ বছরে বাংলাদেশ তার আপন গৌরব উজ্জ্বল, কর্মসুষমা নিয়ে আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এ দেশ। সুতরাং আমরা বলবো এদেশের মানুষ খারাপ নেই।
এস কে মো. রমিজউদ্দিন
মিরপুর, ঢাকা
বহির্বিশ্বে বহু মানুষ আজ-কাল ভীতির মধ্যে দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছে। ‘৯০ দশকে মানুষের মানবিক সংকট নিরসনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে Rosponsibity To Protects নামে একটি আইনি কাঠামো তৈরি হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীতে দিন দিন গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, সন্ত্রাস এবং মানবতাবিরোধী কার্যক্রম বেড়েই চলছে। সেই দিক থেকে বিবেচনা করলে আমাদের দেশের মানুষ আল্লাহ্ রহমতে অনেক ভালোই আছি। তবে আরো ভালো থাকা যেতো যদি না আমাদের রাজনীতিবিদরা আদর্শহীন এবং অগণতান্ত্রিক না হতো। জনগণ যে দেশের সকল শক্তির উত্স সে বিষয়টি তাঁরা বেমালুম ভুলে নিয়ম-নীতির বহির্ভূতভাবে ক্ষমতার লোভের প্রত্যাশায় গণতন্ত্রকে কুক্ষিগত করার বৃথা চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)
হাউজিং স্টেট, রাজশাহী ৬২০২
দেশের মানুষ ভাল নেই কথাটা সর্বাংশে সত্য। ১৪ দলীয় মহাজোট সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল প্রচুর। প্রয়াত আহমদ ছফার মতে, “আওয়ামী লীগ জিতলে শুধু আওয়ামী লীগই জিতে, আর হারলে আওয়ামী লীগসহ সমগ্র বাঙালি জাতিই হারে”। কিন্তু গত নির্বাচনের পর মনে হচ্ছে—আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ, ওলেমালীগ, স্বাচিপসহ আওয়ামী দলীয় বিভিন্ন অঙ্গ ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো অনন্তকালের জন্য জিতে বসে আছে। যেমন সরকারি, আধা-সরকারি এমনকি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ, বদলী এমনকি পদোন্নতি পর্যন্ত দলীয় পেশাজীবী সংগঠনগুলোর নেতা-নেত্রীর ইচ্ছা-অনিচ্ছা ও সুপারিশের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ সচিবালয় ও পুলিশ প্রশাসন এর উত্কৃষ্ট উদাহরণ। বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য স্কুলের পাঠ্য বইগুলো পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে প্রিন্ট করে আনিয়ে দেশীয় মুদ্রণশিল্পের কতটুকু উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে তা ভাবার যথেষ্ট অবকাশ আছে। দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারুকলা, সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয় বাধ্যতামূলক থাকা সত্ত্বেও অদ্যাবধি সংশ্লিষ্টক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ না দিয়ে কিভাবে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে এবং কিভাবে ছাত্র ছাত্রীরা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে পাস করছে তা নিরঞ্জন ছাড়া কেউই জানে না। দেশের অর্থনৈতিক বিভিন্ন সেক্টরের অভাবিত কেলেঙ্কারির দায় ‘বোগাস’ ও ‘রাবিশ’ শব্দ যুগলের মাধ্যমে কাটিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে কি?
ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
৫-বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা
দেশের মানুষ আজ সত্যিই ভাল নেই। কারণ রাজনৈতিক চরম অস্থিরতা, দ্রব্যমূল্য অসহনীয় মাত্রায় বৃদ্ধি, চারদিকে হত্যা, গুপ্তহত্যা, গুম, খুন, মারামারি, কাটাকাটি সব মিলে যেন সমাজে পচন ধরেছে। সমস্ত খাদ্যদ্রব্যে মিশানো হচ্ছে ফরমালিন জাতীয় বিষাক্ত দ্রব্য, যা খেয়ে আমাদের কোমলমতি শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে কিডনি, লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সারের মত দুরারোগ্য ব্যাধিতে। পাড়ায় মহল্লায় জালের মত গড়ে উঠছে বিভিন্ন আইটেমের মাদকের ব্যবসা। যুব সমাজের বিরাট একটি অংশ আজ মাদকে আসক্ত। একদিকে খাদ্যে ভেজাল, অন্যদিকে মাদকে আসক্ত, এ অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশ যে অচিরেই একটি মেধাশূন্য ভঙ্গুর ও মেরুদণ্ডহীন জাতিতে পরিণত হবে সে কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ডা. মর্জিনা আক্তার
বারিধারা পাইল্স কিউর সেন্টার, গুলশান, ঢাকা
দেশের পরিস্থিতি যে ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে তা বলারই অপেক্ষা রাখে না। উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ কিভাবে ভাল থাকবে? সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পরিস্থিতি এমন এক জায়গায় দাঁড় করানো হয়েছে সেখান থেকে সমাধানের পথ প্রায় খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। দেশের জনগণ সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। সরকার ও বিরোধীদলসহ যেসব দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তাদের সবাইকে নিয়ে একটি জাতীয় সংলাপ হওয়া জরুরি। সেই সংলাপেই সব বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত। অন্যথায় চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তে একতরফা নির্বাচন হলেও তা অতি অল্প দিনেই মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা তা সহজেই বুঝতে পারি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ বহাল রেখেই আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হবে বলে যে ঘোষণা দিয়েছেন তা সংবিধানসম্মত হলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সাথে একদম সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জনগণের স্বার্থে সংবিধান সংশোধন করতে বাধা কোথায়। এই একই দাবি যখন আওয়ামী লীগের ছিল তখন কোথায় ছিল সংবিধান? তখন আওয়ামী লীগ বিএনপিকে বিশ্বাস করতে পারেনি। আর এখন কী এমন হয়েছে যে বিএনপি আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করতে পারে?
মো. আবদুল্লাহ আল মামুন
সারিয়াকান্দী, বগুড়া
যা কিছু অনিয়ম চলছে, তার অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। আর এই অস্থিরতা ডালপালা ছড়িয়ে স্বস্তির সব দিকটা শেষ করে ফেলেছে। দুর্নীতি, মোনাফেকি, চাতুরি সমাজে এক ভদ্র মুখোশ। তাই যে যতো সমাজকে ক্ষতি করতে পারছে সে ততো সমাজে সম্মানিত, অতিমাত্রায় পূজিত। প্রকৃতির রুদ্র মূর্তি তো আছেই, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। সবমিলিয়ে কাহাতক ভাল থাকা যায়?
মুরাদ হোসেন
মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর
ভালো নেই দেশের মানুষ। কিভাবে ভালো থাকবে? কোন কিছুতেই আজ স্বস্তি নেই, শান্তি নেই। শুধু বান কি মুন অথবা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি নন, বস্তুত বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরাও দুই শীর্ষ নেত্রীকে সংলাপে বসে সমঝোতার তাগিদ দিয়ে আসছেন ক্রমাগতভাবে কিন্তু কোন কিছুই ফল হচ্ছে না। সুতরাং দুই শীর্ষ নেত্রী একসঙ্গে বসে সংলাপ বা সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে না।
লাড্লা, পিলখানা, ঢাকা
আমি ইদানীং বেশ কিছু মানুষের সাথে কিছু বিষয়ে কথা বলে বুঝতে পেরেছি নিরপেক্ষ কথা বলা যায় ও লেখা যায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমি মানুষের কিছু উপলব্ধি বিশ্লেষণ করেছি। তার থেকে আমার মনে হয়েছে দেশের মানুষ সত্যিকার অর্থে উদ্বিগ্ন। দেশের মানুষ ভালো নেই।
মোহাম্মদ কাবিউল ইসলাম
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ,মতিঝিল, ঢাকা
দেশের মানুষ আসলেই ভালো নেই। দু’নেত্রীর প্রতিহিংসার রাজনীতিতে জনগণ আজ আতংকে। দু’নেত্রী যদি সমঝোতায় না বসেন তাহলে কি আবার ১/১১’র সৃষ্টি হবে—এই নিয়ে দেশের মানুষ আজ আতংকে।
মাহবুবুর রশীদ
কানাইঘাট, সিলেট
জাতিসংঘের মহাসচিব, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিদেশি রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, অর্থনীতিবিদ, সুশীল সমাজ সকলে একযোগে সংলাপে বসতে পরামর্শ দিচ্ছেন। কিভাবে সমস্যার সমাধান করতে হবে তা সকল রাজনৈতিক দলকেই আলোচনার মধ্যে বের করতে হবে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে কি না সেটা পর্যালোচনা করতে বিদেশি সাহায্য চাইলে তা পাবে। বর্তমানে রাজনৈতিক দল যে হুমকি দিচ্ছে তা দেশবাসীকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলছে। বিরোধীদল বলছে সরকার যদি নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে না নেয় তাহলে লাগাতার হরতাল, অবরোধ কর্মসূচি দেবে। অর্থাত্ বাংলাদেশ অচল করার পরিকল্পনা চালাচ্ছে। সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা, দুর্গাপূজা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাত্সরিক পরীক্ষা— এ পরিস্থিতিতে দেশবাসী ভালো থাকতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বাংলাদেশে কৃষি বিপ্লব ঘটেছে। বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হতো। অথচ সে দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে রয়েছে। অনেকে আশা করছে আগামী ১ দশকের মধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশ নিজেই নিজের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারবে। যা গত ৪২ বছরেও কেউ ভাবিনি। তবে কেন রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ নষ্ট করবে?
আশা এলিজাবেত গোমেজ
লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা ১১০০
ক্ষমতার দাপটে দুর্নীতিবাজ লোকেরা সরকারের সবকিছু সুবিধা পাওয়ার পরও বছরের পর বছর গ্যাস, পানি, বিদ্যুত্ বিল পরিশোধ করে না, এগুলো তারা দেয় না। এর সমস্ত বোঝা বহন করতে হয় জনগণকে। তাই জনসাধারণ মোটেই ভাল নেই। আমরা আতংকে আছি দুই মহিলার ক্ষমতার লোভের কারণে, আমাদের প্রিয় দেশটা সিরিয়ার মতো না হয়ে যায়। ফালতু বিষয় নিয়ে কথায় কথায় ঝগড়া করেন। একজন ডানে গেলে আর একজন বামে। তারা দেশের কথা ভাবেন না, ভাবেন শুধু ক্ষমতা। এসব দেখে সাধারণ মানুষ কতটুকু ভালো থাকতে পারে?
তাহমিনা আক্তার মিনু
পিরোজপুর হাউজ, বাড্ডা, ঢাকা
দেশের মানুষ আজ ভাল নেই। কারণ ঘর থেকে বের হলেই আবার ঘরে ফিরবো এই নিশ্চয়তা এখন নেই। দেশে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক সংঘাত, সংঘর্ষ, হামলা ও নৈরাজ্য ক্রমশ উদ্বেগজনক পর্যায়ে। এসব বিষয় নিয়ে দেশের মানুষ আজ দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে।
আরিফ কুরবান
চালাকচর, নরসিংদী
দেশের মানুষের ভালো না থাকার হাজার কারণ। তবে প্রধানতম কারণ অবশ্যই রাজনৈতিক অস্থিরতা। স্বাধীনতার ৪২ বছর পার হলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ পরিচালিত না হয়ে বিভেদ সৃষ্টির সমাজ নীতি ও রাজনীতি দেশকে অন্ধকারের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে। নৈতিকতার চরম অবক্ষয় সর্বত্র। ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশের রাজনীতিবিদরা দেশ পরিচালনা করবে—এই প্রত্যাশা করি।
মো. ফকরুল ইসলাম টিপু
সেনবাগ, নোয়াখালী
আমরা ভালো থাকবো কী করে দেশের যে অবস্থা, নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে, সরকারি ও বিরোধী দলের অবৈধভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার পাঁয়তারা চলছে। সাধারণ লোক ভয়ে আছে, কী হবে এই ভেবে। আমিও বেশ ভয়ে আছি।
সৈয়দ হায়দার আলী
মহাখালী, ঢাকা
জনগণ ভাল নেই। এই সরকারের আমলে গণপরিবহনে যে দুর্ভোগ হয়, তাতে কী করে ভাল থাকবো। সিটিং সার্ভিস নামে সরকার যেভাবে ভাড়া নির্ধারণ করেছে সেভাবে তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তাহলে জনগণ কী করে ভালো থাকবে।
মঞ্জুরুল ইসলাম
উত্তরা, ঢাকা
শান্তিপ্রিয় বাঙালি জনগণ একটু শান্তিতে ভালভাবে থাকতে চায়। খুন, হরতাল, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ নাকাল। এখন আবার রাজনৈতিক অস্থিরতা। এই অস্থিরতার মধ্যে জনগণ আর কতটুকু ভাল থাকবে?
ফারুক আহমেদ, বাঘমারা, রাজশাহী
মানুষ ভাল নেই কথাটি বলার সাথে সাথে দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সামাজিক অবস্থা, বাজারদরসহ রাষ্ট্রের সামগ্রিক অবস্থার চিত্র ফুটে ওঠে। একথা সত্য যে, প্রতিযোগিতামূলক এ সময়ে কারো বসে থাকার সময় নেই। কাজ করলেই টাকা আসবে। তাহলে ব্যক্তির ও পরিবারের সচ্ছলতা নিশ্চিত হয়। বর্তমানে কয়েকটি সমস্যার মোকাবিলা করছি। রাজনৈতিক অস্থিরতা, শিক্ষায় ব্যাপক ব্যয় বৃদ্ধি, চিকিত্সায় ব্যাপক ব্যয়, বেকারত্বের বিশাল থাবা, বিভিন্ন সেক্টরে অর্থনৈতিক জটিলতা, গার্মেন্টস সেক্টরে অশান্ত ভাব— এগুলোকে মাথায় নিলে বলা যায় না আমরা ভাল আছি। তবে শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষ বেশি কষ্টে আছে। গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা দরকার। সেইসাথে বেকার মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারলে অবশ্যই ভাল থাকবে। আগামী নির্বাচনটা কিভাবে হবে সে ব্যাপারেও তারা চিন্তিত। রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলে দেশ পিছিয়ে যায়। সামাজিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। তাই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সরকারকে অবশ্যই করতে হবে।
ওয়াহিদ মুরাদ
স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর
দেশের মানুষ কীভাবে ভালো থাকবে? যেখানে দুই শীর্ষ রাজনৈতিক দলের নেত্রীদ্বয়ের মতের দ্বিমত ও গড়মিল চলছে। সেখান থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। আর দেশের বর্তমানে যে অস্থিরতা চলছে— কোন নিরাপত্তা নেই, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, যানজট, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ও ব্যাংকের লুটপাট তাতে মনে হয় আমরা কোন দেশে আছি।
পারভীন সুলতানা, ঝিনাইদহ
