সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন (!)

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৪
সমঝোতা না হলে দেশে ১/১১ অবশ্যম্ভাবী বাংলাদেশ কি এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? “নির্বাচনের মধ্যদিয়ে কোন গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসবে? নাকি, কোন অগণতান্ত্রিক তৃতীয় শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে? এই প্রশ্ন আজ প্রত্যেকের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন যে, দেশে তৃতীয় কোন শক্তি ক্ষমতা গ্রাস করার জন্য ওত্ পেতে আছে। তাই সরকারি দলের কাছে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন সংঘটিত হওয়ার যৌক্তিকতা নেই। অপরদিকে প্রধান বিরোধীদল তত্ত্বাবধায়ক ব্যতিরেকে নির্বাচনে যাবে না, একথা স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছে। এভাবে যদি বৃহত্ দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিরোধ স্থায়ীভাবে থাকে, তাহলে রাজনীতির মাঠ এমনেই অস্থিতিশীল থাকবে। নির্বাচন সংঘটিত হওয়াতো পরের কথা। প্রধান দু’দল যদি সমঝোতায় না আসতে পারে, তাহলে অস্থিতিশীল রঙ্গমঞ্চে নাটক পরিচালনার জন্য অবশ্যই তৃতীয় একটি অগণতান্ত্রিক পরিচালক অবস্থান নিতে চাইবে। যা হবে জাতির জন্য বিশাল এক বিপর্যয়। তাজুল ইসলাম শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় === সমঝোতা না হলে কি ওয়ান ইলেভেন হবে? ক্ষমতাসীন দল সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে চাইছেন। অন্যদিকে বিরোধী দল চাইছে সরকার নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক মেনে নিলেই তারা কোনরকম সহিংসতায় যাবে না। এদিকে বর্তমান মহাজোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টির প্রধানও ইতোমধ্যে জোট ছেড়ে দিয়ে আলাদাভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। আবার রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, আমলা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও বসে নেই। তারা গোপনে গোপনে কাজ করে যাচ্ছেন ঐকমত্যের সরকার গঠনের জন্য। দেশের মানুষের ভিতরে একটা অজানা আশঙ্কা “আদৌ কি নির্বাচন হবে? না অন্য কিছু ঘটবে। না সংঘাত, সংঘর্ষে প্রচুর প্রাণহানি ঘটবে”— এ ধরনের একটা গুমট পরিস্থিতি বিরাজ করছে সবার মধ্যে। আজ আওয়ামী লীগ যে ভুলটি করতে চলেছে, সে ভুলটি অতীতে বিএনপিও করেছিল। আওয়ামী লীগ আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করতে পেরেছিল। এখন বিএনপি তা প্রতিহত করতে পারে কিনা সেটাই দেখার বিষয়। মোছা. নুরানী আক্তার নিপা ভাষা বিভাগ, ১ম বর্ষ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী === দেশের সংঘাতপূর্বক পরিস্থিতিতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের এগিয়ে আসা উচিত বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ খুবই উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক বড় দু’দল তাদের রাজনৈতিক বক্তব্যে সহিংসতা লক্ষ্য করা যায়। বিরোধীদল সরকারকে বলছে দাবি আদায়ে বাধ্য করা হবে। এই বাধ্য করা শব্দটি দেশের অর্থনীতি ও সার্বিক পরিস্থিতির জন্য খুবই ভীতিকর। এই দু’দল নিজ উদ্যোগে সমঝোতায় আসতে পারছে না। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য সামনের দিনগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখনই সমঝোতায় না আসলে নির্বাচনকালীন সময়ে যদি সংঘাতের সৃষ্টি হয় তাহলে ২০০৬ সালের মতই তৃতীয় শক্তি ক্ষমতা দখল করবে। যার ফলে দেশের অর্থনীতি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে তেমনি রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। রাজনীতিতে সমঝোতার জন্য সবাইকে ছাড় দেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসাবে বিদেশি শক্তির কাছে না গিয়ে নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে হবে। মোহাম্মদ আলী প্রফেসর বয়েনউদ্দিন ডিগ্রী কলেজ চাটমোহর, পাবনা === সমঝোতা অবশ্যই হতে হবে দু’দলের রাজনৈতিক রোষানলের কারণে দেশের ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত। দু’দলের সমঝোতা দিতে পারে সাধারণ মানুষের শান্তি। দেশের মানুষ লাশ, গুমসহ অনৈতিক কাজগুলো দেখতে চায় না। ১/১১-র মত দেশ পরিচালিত হলে দেশ কঠিন সময়ে অতিবাহিত করবে। সরকারি দলকে একটু ছাড় দিয়ে হলেও বিরোধীদলের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে সমঝোতায় আসা দরকার। সমঝোতাই বয়ে আনতে পারে দেশের কল্যাণ। আর তাই জাতিসংঘও সমঝোতায় আসার জন্য দু’দলের কাছে আশা করছে। তাই সমঝোতায় এসে সুষ্ঠু নির্বাচন করে দেশের মানুষকে শান্তি দেয়া উচিত। দেশের মানুষ বিশৃঙ্খলা চায় না, শান্তি চায়। তাই ১/১১-র মত পরিবেশ যাতে আর না হতে পারে তার জন্য সমঝোতায় আসা উচিত। মো. ছাব্বিন হোসেন ১ম বর্ষ পশুপালন অনুষদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন