পারস্পরিক আস্থা ও সমঝোতাই পারে তৃতীয় শক্তির উত্থান রোধ করতে
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ উত্তপ্ত। কারণ, নির্বাচন পদ্ধতি কেমন হবে তা নিয়ে পারস্পরিক আস্থা ও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে স্নায়ুযুদ্ধ থেকে বাকযুদ্ধ। কেউ কেউ বলেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, আবার কেউ কেউ তাতে veto দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে ঈদের পর একদফা আন্দোলনে নামবে বলে জানিয়েছেন। আর এই সিদ্ধান্তহীনতা ও সহিংসতার মধ্যে দিয়ে ১/১১-এর মতো কোন তৃতীয় শক্তির উত্থান হতে পারে। এদেশের ইতিহাসও তাই বলে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পারস্পরিক আস্থা ও সমঝোতাই পারে এমন কালো হাত থেকে রক্ষা করতে। তাই তো জন কেরি বলেছেন, নির্বাচনী কাঠামো কেমন হবে তা রাজনৈতি দলগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এদেশের ৯০% লোকও তাই চায়। সুতরাং, এই সংকটময় মুহূর্তে দেশ ও দশের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে সহিংসতার পথ পরিহার করে সুষ্ঠু ও সুন্দর পথ খুঁজতে হবে।
গোলাম ইয়াহিয়া আহমদ,
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ (১মবর্ষ),
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
===
সংলাপ যতটুকু কঠিন, সমঝোতা তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংলাপ হতে পারে, কিন্তু সমঝোতা হবে কি না সেটা নিশ্চিত করে বলা অনেক কঠিন। সমঝোতা চায় না এমন লোকের সংখ্যাও কম। একমাত্র বড় দুটি দল ছাড়া সবাই চায় সংলাপ হোক, নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হোক। অনেক দিন ধরে বার বার সংলাপের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সংলাপ কিভাবে হবে? সকালে এক নেতা বলে সংলাপ হবে, বিকালে অন্য নেতা বলে সংলাপ হবে না। নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি না হলে বা কোন প্রকার সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন আসবে এটা ঠিক না। ওয়ান ইলেভেনের চেয়ে ছোট বা বড় কোন দুর্যোগ আসতে পারে আমাদের রাজনীতিতে। আমি মনে করি সরকারের ভূমিকাটা সবচেয়ে বেশি দরকার। রাজনীতির ভবিষ্যত্ কী হবে, নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তাই উভয় দলের উচিত সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনে আসা ।
মো. এরশাদ আলী,
নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ,
৩য়বর্ষ কম্পিউটার সায়েন্স।
===
সংলাপ, সমঝোতা এখন সময়ের দাবি
ওয়ান ইলেভেনের দুঃসহ স্মৃতি মনে থাকলে প্রধান দুই দল সমঝোতার দিকেই এগুবে। বিকল্প চিন্তা মাথায় আসার কথা না। দেশের জনগণ সংঘাত, সংঘর্ষ চায় না, সংলাপ চায় এটুকু অন্তত বোঝা উচিত। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে স্বাভাবিকভাবে মানুষের বোধ শক্তি ফিরে আসে। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকালে এর ছিটে-ফোঁটাও খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা ক্ষমতার ধান্ধায় অন্ধ হয়ে গেছেন। এই যদি হয় রাজনীতির চলমান অবস্থা তবে আমাদের ভবিষ্যত্ বলে আদৌ কিছু আছে কি? প্রধান দুই দলের কাছে এ প্রজন্মের আকুল আবেদন— জনগণ কি চায় তা অনুধাবন করতে চেষ্টা করুন। দেশ তথা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সংঘাত ভুলে সংলাপে বসুন। পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যার যথাযথ সমাধান করুন।
সায়াদাত চমন,
বিবিএস (অনার্স), এমবিএস (ফাইনাল), হিসাববিজ্ঞান বিভাগ,
সরকারি তিতুমির কলেজ, ঢাকা।
===
সমঝোতা না হলে ওয়ান
ইলেভেন সৃষ্টির সম্ভাবনা ও
দেশের উন্নয়নের পথে বাধা
বর্তমানে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে সমঝোতা না হলে দেশে ওয়ান ইলেভেনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলে আমরা সকলেই একমত পোষণ করি। এই ওয়ান ইলেভেনের পুনরাবৃত্তির কারণ হলো আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে কোন সমঝোতা না হওয়া। যেমন ২০০৭ সালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় ফখরুদ্দীন সরকার ৩ মাস দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে ২ বছর দেশ পরিচালনা করেছে। এ সময় দেশে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। যা আমাদের দেশকে অর্থনৈতিকভাবে অনেক পেছনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমরা দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, পেছনের দিকে নয়। আর এ জন্য দরকার ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে সমঝোতা। আমরা গণতান্ত্রিক দেশে বাস করি। তাই গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে দেশের গণতন্ত্র অটুট রাখতে দুই দলকে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতা করে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়া উচিত।
আবু সাইদ,
বি.এস.এস. (অনার্স) এম.এস.এস,
সমাজবিজ্ঞান, সরকারি তিতুমির কলেজ, ঢাকা।
