[ আ লো ক পা ত ]

ফেলানী হত্যা মামলা ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৭
ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। দিল্লিতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিএসএফের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘এক বাংলাদেশি কিশোরীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ১৯৬৮ সালের বিএসএফ আইন অনুযায়ী ভারতের জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে কনস্টেবল অমিয় ঘোষের বিচার হয়। গত ৬ সেপ্টেম্বর ওই আদালত অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে রায় দেন। বিএসএফ আইনে ওই রায় আইনজ্ঞদের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয়। আদালতের রায়ের সঙ্গে একমত হতে না পারায় বিএসএফের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মামলাটি পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ বিএসএফের এই সিদ্ধান্তে ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম ও মা জাহানারা বেগম স্বস্তি প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমরা চাই আমাদের মেয়ে ফেলানীর সঠিক বিচার হোক। হত্যাকারী বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক।’ ফেলানীকে হত্যাকারী অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে আদালত কর্তৃক রায় ঘোষণার পর এ নিয়ে বাংলাদেশে প্রবল বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়। রায় প্রত্যাখ্যান করেন ফেলানীর বাবা এবং মা। এ-ছাড়া বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও এই রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান রায়টিকে সম্পূর্ণভাবে ন্যায় বিচারের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করে বলেন,‘এতে বিচারের নামে তামাশা করা হয়েছে। শুধু ফেলানীর পরিবারের সঙ্গেই না, পুরো জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।’ মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) নামের কলকাতার একটি সংগঠনও তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘ন্যায় বিচার হয়নি। বিচারের নামে প্রহসন হয়েছে।’ পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী কবির সুমনও রায় সম্পর্কে ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানিয়ে ‘ভারতের নাগরিক হিসেবে ফেলানীর পরিবার ও স্বজনদের কাছে ক্ষমা’ প্রার্থনা করেন। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার অন্তর্গত চৌধুরীহাট সীমান্ত চৌকির কাছে কাঁটাতারের বেড়া পেরোনোর সময় বিএসএফ কনস্টেবল অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হয় ১৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি তরুণী ফেলানী খাতুন। ফেলানীকে নিয়ে তার বাবা বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার অধিবাসী নূরুল ইসলাম দিল্লিতে বসবাস করতেন। মেয়েকে নিজ দেশে বিয়ে দেয়ার জন্য দেশে ফিরছিলেন তিনি। দালালদের মাধ্যমে সীমান্ত পার হওয়ার সময় তিনি নিজে বাঁশের মই বেয়ে কাঁটাতারের বেড়া পার হতে পারলেও ফেলানী পারেনি। ফেলানীর কাপড় আটকে যায় এবং এই ফাঁকে অমিয় ঘোষের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানীর মৃতদেহ পাঁচ ঘণ্টা ঝুলেছিল। এই ছবি দেশে-বিদেশে প্রচার হওয়ায় মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। বিএসএফের এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ হওয়ায় বিএসএফের ১৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন এবং বিএসএফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ আনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারের সোনারী এলাকায় বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার শুরু হয়। ফেলানীর বাবা ও মামা গত ১৯ আগস্ট আদালতে উপস্থিত হয়ে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাছাড়া অমিয় ঘোষ নিজেও গুলি করে ফেলানীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তা সত্ত্বেও ৬ সেপ্টেম্বর আদালত অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে রায় দেয়ায় সবাই বুঝতে পারেন যে, এটা একটা লোক দেখানো বিচার হয়েছে। ফেলানী কোনো সন্ত্রাসী, জঙ্গি অথবা চোরাকারবারি ছিল না। তার অপরাধ সে বৈধ পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়া সীমান্ত অতিক্রম করছিল। এই অপরাধের জন্য গুলি করে হত্যা করার মতো বর্বরতা বিএসএফ সদস্যকে ‘নির্দোষ’ হিসেবে খালাস দেয়া কার্যত ন্যায়বিচারের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশের সামিল। এটা কেউ মেনে নিতে পারে না। এখন ফেলানী হত্যা মামলা পুনর্বিচারের ঘোষণা দিয়ে ন্যায়বিচার প্রত্যাশী মানুষদের সাময়িক আশ্বস্ত করা গেলেও হত্যাকারীর যদি সর্বোচ্চ শাস্তি শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত না হয়, তাহলে বিএসএফের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হবে না। সীমান্তে বিএসএফ যদি এ ধরনের হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রাখে তাহলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। সীমান্তে বিএসএফ গুলি চালাবে না বলে দিল্লির কর্মকর্তারা বারবার আশ্বাস দেয়ার পরও বিএসএফের বেপরোয়া আচরণ বন্ধ হচ্ছে না, বাংলাদেশের নাগরিকরা হত্যা-নির্যাতনের শিকার হয়েই চলেছে। গত ২০১১ সালের ৯ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদ জেলার কাহারপাড়া সীমান্ত তল্লাশি চৌকিতে বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানের ওপর মধ্যযুগীয় নির্যাতন চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী— বিএসএফ। ১৮ জানুয়ারি নির্যাতনের ভিডিওচিত্র এনডিটিভি ও বিবিসিতে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ এবং ভারতের বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ, ধিক্কার ও ক্ষোভ জানানো হয়। দোষী সাব্যস্ত করে আটজন বিএসএফ সদস্যকে তাত্ক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সবাই এটা জানেন যে, সাময়িক বরখাস্ত করাটা কোনো শাস্তি নয়। সাময়িক বরখাস্তকারীদের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই চাকরিতে ফিরিয়ে নেয়াই সাধারণ রেওয়াজ। ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, বিএসএফ সদস্যরা হাবিবুরের হাত-পা বেঁধে বিবস্ত্র করে রাইফেলের বাঁট ও বাঁশ দিয়ে নির্মমভাবে পেটাচ্ছে। হাবিবুর একজন গরু ব্যবসায়ী। জানা গেছে, তার কাছে বিএসএফ সদস্যরা ঘুষ চেয়েছিল, সে তা না দেয়ায় তাকে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে উচিত শিক্ষা দিয়েছে বিএসএফ জওয়ানরা। ভারতের লেখক-সাংবাদিক-মানবাধিকার কর্মীরা ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। সেদেশের গণমাধ্যমেও বিএসএফের এই অমানবিক আচরণের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। কলকাতা থেকে প্রকাশিত খ্যাতনামা বাংলা দৈনিক ‘আনন্দবাজার’ এ ঘটনাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মন্তব্য করে এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে বলেছে, ভারতীয় বিএসএফ জওয়ানরা এক বাংলাদেশি যুবকের ওপর যে অত্যাচার চালিয়েছে, তা পাশবিক নয়। কেননা কোনো পশু কখনো সমজাতীয় কিংবা বিজাতীয় কোনো প্রাণীর প্রতিও এমন নিষ্ঠুর আচরণ করে না। এই ঘটনাকে কেবল বর্বরোচিত বলা যায়।’ অন্যদিকে ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’র সম্পাদকীয় নিবন্ধে ভারতীয় বিএসএফ একজন বাংলাদেশি নাগরিকের ওপর যে নির্যাতন চালিয়েছে তাকে ‘রীতিমতো বিস্ময়কর ঘটনা’ বলে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘নয়াদিল্লির উচিত ঢাকার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা।’ ঢাকার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা তো দূরের কথা, দিল্লি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুপ্রতীম দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের রয়েছে দীর্ঘ সীমান্ত। সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কিছু সমস্যাও আছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালানের সমস্যা দীর্ঘদিনের। চার হাজার কিলোমিটারের বেশি সীমান্তে কখনোই কোনো অপ্রীতিকর কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না— সেটা কেউ আশা করে না। সীমান্তে চোরাচালান তথা অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে দুই দেশের নাগরিকরাই জড়িত। অথচ চোরাচালানের অভিযোগে বারবার কেবল বাংলাদেশি নাগরিকদেরই কেন হত্যার শিকার হতে হয়? বিএসএফ নিয়মিতভাবেই বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা ও নির্যাতন করে চলেছে। গত এক দশকে বিএসএফের গুলিতে প্রায় এক হাজার বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এরা যদি সত্যি চোরাকারবারিও হয়ে থাকে কিংবা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে থাকে তাহলেও কি তাদের বিনাবিচারে হত্যা করা যায়? বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের গুলিতে যদি কোনো ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হতো, তাহলে ভারতের প্রতিক্রিয়া কি হতো? ২০১১ সালের মার্চে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী চোরাচালান বন্ধে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না করার কথা। অথচ চুক্তির খেলাপ করেই চলেছে বিএসএফ। একটি ঘটনা ঘটে আর আমাদের সরকার একটি মামুলি প্রতিবাদ জানায়, ব্যস! ভারত কোনো ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ পর্যন্ত করে না। ভারতের এই অবন্ধুসুলভ আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেয়ার মতো নয়। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম গত বছর ঢাকা সফরে এসে বলেছিলেন, বিএসএফ সদস্যদের গুলি না ছুঁড়তে কঠোর নির্দেশ দেয়া আছে। আক্রান্ত না হলে গুলি ছুঁড়বে না বিএসএফ। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে বিএসএফ নির্দেশ অমান্য করছে, আক্রান্ত না হলেও তারা গুলি ছুঁড়ছে, নিরীহ বাংলাদেশিদের হত্যা করছে। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণান ঢাকা সফরে এসে বলেছিলেন, সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকাণ্ড মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ যদি কোনো অপরাধ করে থাকে তাহলে তাকে গ্রেফতার করে বিচারের জন্য সোপর্দ করা যেতে পারে। বিনাবিচারে বিএসএফের হত্যা-নির্যাতন বাংলাদেশের মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্য নয়। তারাও চায় কেউ অপরাধ করলে প্রচলিত আইনে বিচারের মাধ্যমে তাকে শাস্তি দেয়া হোক। বিএসএফকে নিবৃত্ত করার ব্যাপারে ভারত সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বার বার আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কার্যকর হচ্ছে না। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য নির্যাতনের ঘটনা অব্যাহতভাবে ঘটেই চলেছে। এ ভাবে কি দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে? আমরা জানি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক যাতে হূদ্যতাপূর্ণ না থাকে, তার জন্য দুই দেশেই বিশেষ মহল সক্রিয় আছে। ভারত-বিরোধিতাকে পুঁজি করে রাজনীতি করার লোকের সংখ্যা বাংলাদেশে একেবারে কম নয়। তবে সবকিছু দেখে-শুনে এখন কারো কারো কাছে এটা মনে হতে পারে যে ভারতবিরোধী শক্তির হাতে রসদ তুলে দেয়ার নীতিই ভারত গ্রহণ করেছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়ন ও সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত করার কথা মুখে বলে বাস্তবে ভারত যা করছে তা বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এবং ভারতের সঙ্গে সুপ্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্ব রক্ষায় বিশ্বাসী সবার জন্যই বিব্রতকর হচ্ছে। এটা সবার জানা যে, এবার ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনার সরকার ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করার জন্য আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী কিছু গোষ্ঠী বাংলাদেশ থেকে প্রশ্রয় পাচ্ছিল বলে ভারত অভিযোগ করে আসছিল, এখন আর সে অভিযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেছে। যদিও সরকারের এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছে প্রধান বিরোধী দলসহ আরো কেউ কেউ। বিষয়টি সরকারের জন্য কিছুটা রাজনৈতিক ঝুঁকিও সৃষ্টি করেছে। অথচ হাসিনার সরকারের উদারতার যথাযথ প্রতিদান দিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে দিল্লি। দেখা যাচ্ছে তারা কোনো কথাই রাখছে না। একশ’ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তাদানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও করছে গড়িমসি। ছিটমহল ও অপদখলীয় জমি হস্তান্তরের প্রটোকল স্বাক্ষর হলেও তা কার্যকর করছে না ভারত। দুইপক্ষের সমান আন্তরিকতা ও উদারতা ছাড়া বন্ধুত্ব বিকশিত ও মজবুত হয় না। সুসম্পর্কের বিষয়টি একতরফা নির্ধারণ হয় না, এটা ওয়ানওয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা নয়। দেয়া-নেয়াটা সমান না হলেও সম্মানজনক হতে হয়। গতবছর বাংলাদেশে একটি ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনার পর ভারতীয় গণমাধ্যমে এই মর্মে খবর বের হয়েছিল যে, ড. মনমোহন সিংয়ের সরকার যে-কোনো বিপদের মুহূর্তে শেখ হাসিনার পাশেই থাকবে। এই খবরে বাংলাদেশের কোনো মানুষ কি খুব স্বস্তি বোধ করেছেন? দিল্লির এই পাশে থাকার আশ্বাসে শেখ হাসিনাও খুব নিরাপদ বোধ করেছিলেন বলে মনে হয় না। ভারতের আচরণের কারণে শেখ হাসিনার সরকারকে যে এখন বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে, ভারতের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের অসন্তোষ যে বাড়ছে, সেটা ভারত বুঝতে পারছে না। বাংলাদেশের কাছ থেকে শুধু পেতে চাওয়ার ভারতীয় মনোভাবের কারণে বাংলাদেশের মানুষ এখন আর ভারতকে নিঃশঙ্কচিত্তে নির্ভরযোগ্য মিত্র বলে মনে করে কি-না সেটাও একটি বড় প্রশ্ন। এ দেশের মানুষ দেখছে যে, ভারতই শেখ হাসিনার সরকারকে নানাভাবে ঝুঁকি অথবা বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ভারত যদি তিস্তার পানি বণ্টন, টিপাইমুখ বাঁধ, বাণিজ্য বৈষম্য, সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে আন্তরিকতার সঙ্গে দ্রুত উদ্যোগ না নেয় এবং বিএসএফের নির্বিচার হত্যা-নির্যাতন বন্ধ না করে, তাহলে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা থেকে যে তারা বঞ্চিত হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট ই-মেইল : [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন