ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করিবে না বলিয়া জানাইয়াছেন দেশটির সদ্য নিযুক্ত প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। পরমাণু প্রকল্প লইয়া পশ্চিমা বিশ্বের সহিত আলাপ-আলোচনার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করিতেছেন বলিয়াও দাবি করিয়াছেন তিনি। রুহানির বুধবারের এই বক্তব্যের মধ্যে ইরানের সহিত পশ্চিমা বিশ্ব কিংবা সুনির্দিষ্টভাবে বলিলে যুক্তরাষ্ট্রের সহিত সম্পর্ক উন্নয়নের ইচ্ছা ব্যক্ত হইয়াছে বলিয়া মনে করিতেছেন অনেক বিশ্লেষক। প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হইবার পর হইতে একাধিকবার তিনি পশ্চিমের সহিত সম্পর্কোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা নিজ মুখেই ব্যক্ত করিয়াছেন। উল্লেখ্য, ইরানের সদ্য-সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদেনিজাদ যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রচার-প্রচারণাকে এক বিশেষ উচ্চতায় লইয়া গিয়াছিলেন। আবার তাহার আমলেই পরমাণু প্রকল্পকে ঘিরিয়া ইরান একের পর এক পশ্চিমা অর্থনৈতিক অবরোধের মধ্যে পড়িয়া গিয়াছিল।
প্রসঙ্গত, ইরান দীর্ঘদিন ধরিয়াই জানাইয়া আসিতেছে যে, তাহার পরমাণু প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে বেসামরিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের এই ঘোষণাকে কখনোই আমলে লয় নাই। বরং পরমাণু প্রকল্প বন্ধ করিবার উদ্দেশ্যে দেশটির উপরে নানাবিধ অবরোধ জারি করিয়া রাখিয়াছে দীর্ঘদিন ধরিয়া। আহমেদেনিজাদের আমলে ইরানের বিরুদ্ধে দুই-একবার সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের মত অবস্থাতেও চলিয়া গিয়াছিল পশ্চিমারা। দীর্ঘদিন ধরিয়া দুইপক্ষের মধ্যে অবিশ্বাসের যে দেয়াল গড়িয়া উঠিয়াছে তাহা এইবার ভাঙিবে কি? এই প্রশ্নটি বড় একটি প্রশ্ন বটে। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে তেহরানে দৃশ্যত একদল ছাত্র কর্তৃক মার্কিন দূতাবাস বেদখল হইয়া যাইবার পরে ইরানের সহিত কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনার দুই দশকের অধিক সময় পার হইয়াছে কিন্তু দুই দেশের সম্পর্ক আর জোড়া লাগে নাই। কিন্তু এইবার রুহানির কথাবার্তাতে কিছুটা ভিন্ন সুর পাওয়া যাইতেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দিক হইতেও যেন কিছুটা নমনীয়তার আভাস মিলিতেছে। উল্লেখ্য, ধর্মগুরু শাসিত ইরানে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অনেকাংশে অলঙ্কারিক এবং কিছু দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এমতাবস্থায় রুহানির মুখ হইতে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ সংক্রান্ত যে বক্তব্য আসিয়াছে তাহার পিছনে সর্বোচ্চ ধর্মগুরুদের সম্মতি থাকিতে পারে বলিয়া অনেকে মনে করিতেছেন। অবশ্য, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে সৌদি আরবসহ শিয়া-ইরানবিরোধী অন্যান্য সুন্নি রাজতন্ত্র, জায়নবাদী ইসরায়েলের ভূমিকা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাগুলিও যে ভূমিকা রাখিবে তাহা বুঝিতে অসুবিধা হয় না।
