চির উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৭
কর্নেল নুরন্ নবী (অব.) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন অধ্যক্ষ মাইলস্টোন কলেজ উত্তরা, ঢাকা আজ হতে চির উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির/ সত্যিই তুমি মহান উদার বাদশাহ আলমগীর। পংক্তি দুটি কাজী কাদের নেওয়াজের শিক্ষাগুরুর মর্যাদা কবিতা থেকে নেয়া। সেই কোন কালে দিল্লীর বাদশাহ শিক্ষককে মর্যাদার সর্বোচ্চ আসনে আসীন করেছেন। শিক্ষক শিক্ষিকা আমাদের শিক্ষা দেন এবং অন্তরের অন্ধ চোখগুলো খুলতে সাহায্য করেন। শিক্ষক শিক্ষিকাগণ জ্ঞানের আলো দ্বারা যুগের সকল অন্ধকার দূর করে মানুষের জন্য সভ্য পৃথিবী সৃজন করেন। মানুষের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও নৈতিক বিকাশ অব্যাহত রাখতে সমাজের শিক্ষক শিক্ষিকাদের গুরুত্ব অপরিসীম। সঠিক শিক্ষা দানের মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষিকাগণ মানুষের ভেতর সত্যিকারের মানুষ সৃজন করেন তাই শিক্ষক শিক্ষিকাগণকে বলা হয় সন্তানের দ্বিতীয় জন্মদাতা। সভ্য মানুষ তৈরির মহান কারিগর শিক্ষক শিক্ষিকাদের মর্যাদা শুধু কবিতায় সীমাবদ্ধ তা কিন্তু নয়, শিক্ষক শিক্ষিকাদের মর্যাদা স্বীকৃত ইউনেস্কো এবং আইএলও সনদে। যারা শিক্ষকতা পেশায় জড়িত বা শিক্ষা দান করেন তাদের জন্য জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কো এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও যৌথ প্রয়াসে শিক্ষক শিক্ষিকাদের মর্যাদা বিষয়ক সনদ তৈরি করেন। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তরাষ্ট্রীয় সম্মেলনে ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে এই মর্যাদা বিষয়ক সনদটি গৃহীত হয়। শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রতি যথাযথ সম্মান জাতিকে জাতি হিসেবে, দেশকে দেশ হিসেবে এবং মানুষকে মানুষ হিসেবে সভ্য ও শ্রেষ্ঠ করে। মানুষ ও পেশাগত ভাবে শিক্ষক এবং শিক্ষকতাকে আরও মর্যাদাশীল করতে ইউনেস্কো ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে পৃথিবীর ১০০টিরও বেশি দেশ ৫ অক্টোবরকে সম্মানপদ শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী শিক্ষক শিক্ষিকাদের সম্মান প্রদর্শন করবে তবেই তোমরা প্রকৃত মানুষ হতে পারবে। কালে কালে সকল মহামানবগণ তাদের শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছেন। ইমাম আযম আবু হানিফা (রাহঃ) শিক্ষকের প্রতি তার শ্রদ্ধার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আমার ওস্তাদ ইমাম হাম্মাদ (রাহঃ) যত দিন বেঁচে ছিলেন, ততদিন আমি তার বাড়ির দিকে পা মেলে বসিনি। এমন মনে হতো এতে যদি শিক্ষকের প্রতি আমার বেয়াদবি হয়ে যায়। শিক্ষক শিক্ষিকাদের পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। যে দাবির সকল দিকে দাঁড়ানো ছাত্রছাত্রীরা; তোমরা তোমাদের স্যারদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে ভুল করবে না। তুমি শিক্ষা জীবনে স্যার ম্যাডামদের যে মর্যাদাটুকু দেখাবে পেশগত জীবনে তা তোমার প্রতি অন্যকারো মাধ্যমে ফেরত আসবে। তুমি সম্মানিত হবে এবং প্রকৃতার্থেই সম্মানবোধ করবে। ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রাপ্ত সম্মান তাদের নৈতিক মানদণ্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই শিক্ষাগুরুদের উচিত হবে সেই নৈতিকতায় শতভাগ বহাল থাকা; যা আপনার কাছ থেকে ছাত্রছাত্রী আর তার চারপাশের সবাই শিখবে। সত্য ও সঠিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের অন্তরাত্মায় শিক্ষক শিক্ষিকাগণ নিজেকে সৃজন করবেন। যিনি পাঠদান করেন তার কাছে ছাত্রছাত্রীদের সমষ্টিগত অর্থ হচ্ছে একটা আদর্শের জায়গা যার গায়ে তিনি চেতনা ও স্বপ্নের চাষ করেন। একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষিকা ঠিক বটবৃক্ষেকর মতো যার ছায়া শান্তির বিনিময়ে অবসাদ দূর করে। এখানে শান্তিকে সত্য আর অবসাদকে অন্যায় ধরা হলে শিক্ষকা শিক্ষিকাগণ হবেন সত্য আর সুন্দরের প্রতিচ্ছবি।