ধর্ম প্রচারক-সাধকদের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের প্রচার-প্রসার কর্ম সংশি¬ষ্ট। ফলে এখানের অধিকাংশ মানুষ একদিকে প্রতিকূল প্রকৃতির সাথে সংগ্রামে সাহসী, জীবন সংগ্রামী ও আত্মপ্রত্যয়ী হয়েছে, আবার অন্যদিকে ইসলাম ধর্মের আদর্শবাদিতা ও জীবনাচরণের উত্সাহ-অনুপ্রেরণা পেয়েছে। জৈনপুরের পীর হযরত মাওলানা কেরামত আলী, ছাদুল¬্যাপুর থেকে আগত হযরত মাওলানা ইমাম উদ্দিন, কাঞ্চনপুরের পীর হযরত মিরান শাহ, শামপুরের পীর হযরত জকি উদ্দিন শাহ, লক্ষ্মীপুরের পীর হযরত আজিম শাহ, হযরত চাঁদ শাহ, হযরত সোলায়মান শাহ (লেংটা শাহ), রায়পুরের বুড়া হযরত পীর ফজলুল¬াহ ও তাঁর বড় ছেলে বড় মিয়া পীর সাহেব এ অঞ্চলের ধর্মীয় চেতনায় সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
মহান আল¬াহ মানব জাতির জন্য এক মাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলামের চিরন্তর মর্মবাণী প্রচার ও প্রসারে যুগে যুগে বহু সংখ্যক সম্মানিত ব্যক্তিদের আমাদের মাঝে পাঠিয়েছেন। তন্মধ্যে হযরত শাহ মিরান (রাঃ) ধর্ম প্রচারে বৃহত্তর নোয়াখালীতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন, তিনি বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে ত্রয়োদশ শতকের শেষ দিকে বাংলা ৭৪৩ হিজরি সন ৭৫৫ সনে প্রায় ৬শত ৭৭ বছর আগে আগমন করেন। তিনি ছিলেন বিশ্বওলী হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রাঃ) এর পুত্র শাহ আজাল¬া (রাঃ) এর সুযোগ্য সন্তান, হযরত বড়পীর সাহেবের সুযোগ্য নাতী সৈয়দ হাফেজ মাওঃ আহাম্মদ তনূরী তাওয়াক্কলী ওরপে শাহ মিরান (রাঃ) সম সাময়িক আউলিয়াগণের মধ্যে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন।
তথ্যনুসারে জানাযায়, ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়, তাঁর মেজ ভাই ও ছোট ভাই রাজশাহীতে অবস্থান করেন। হযরত শাহ মিরান (রাঃ) তদ্বীয় ভগ্নি হযরত সৈয়দা সালেহা মঞ্জুবা বিবির (রাঃ) এর মাজার শরীফ প্রসিদ্ধ রামগঞ্জের কাঞ্চনপুরে অবস্থিত। যা অত্র এলাকার দরগা বাড়ি নামে পরিচিত। বাড়ির বহিরাঙ্গঁনে তােঁদর স্মৃতি বিজাড়িত চিহ্ন হিসেবে যুগ যুগ ধরে অপরুপে আজও বিরাজ করছে কেরামতি পুকুর, বাঁশ ঝাড়, বিশাল আকারে বকুল ফুলে গাছ ও নয়ানাভিরাম ডেকফল গাছের আকৃতি। ইতিহাসের কলংকজনক অধ্যায়ে ১২৫৮ খ্রিঃ মঙ্গলিয়ার বর্বর শাসক হালাকু খাঁন যখন ঐতিহাসিক বাগদাদ নগরী আক্রামণ করে সৈয়দ বংশীয় প্রায় ৭ শত ব্যক্তিকে হত্যা করেন। সে সময়ে অন্যান্যদের মত তাঁর পরিবারের সদস্যগণ নিরাপদ জীবন-যাপনের লক্ষ্যে দিল্লিতে হিজরত করেন। দিল্ল¬ীতে অবস্থান কালে একদা হযরত শাহ মিরান (রাঃ) পিতামহ হযরত বড়পীর (রাঃ) কে স্বপ্ন দেখার ভাগ্য অর্জন করেন। তাঁর ইচ্ছে অনুযায়ী তিনি তত্কালীন বাঙ্গালী দেশে (বর্তমানে বাংলাদেশ) বসবাসকারীদের মাঝে হযরত আহাম্মদ মুজতবা মুহাম্মদ মোস্তফা এর প্রবর্তিত ইসলাম শান্তির বাণী ও জীবন পদ্ধতি প্রচারে অনুপ্রাণিত হন। তিনি প্রাচীন বঙ্গেও রাজধানী পান্ডুয়া হয়ে প্রথমে ভূলুয়া পরগনার ( নোয়াখালী) জেলার বর্তমান রামগঞ্জ থানার মোনারবাগে হিজরি ৬৮৫-তে (১২৮৭) খ্রিঃ পরিবারবর্গ ও কতিপয় সহচর সহ আগমন করে বসবাস শুরু করেন। সেখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের প্রতাপ বেশি ছিল, স্থানীয় হিন্দুরা তাঁর প্রতি অবদা, হিংসা ও অত্যাচার করতে থাকায় কিছু দিনের মধ্যে স্থান ত্যাগ করে অনতি দূরে কাঞ্চনপুরে বসবাস করেন এবং আপন মহিমায় এতদাঞ্চলে ইসলামের তনীয় বাণী প্রচারে ব্রতী হন। তাঁর উত্তম মাধুর্যপূর্ণ ব্যবহার ও অলৌকিক শক্তির প্রতি মুগ্ধ হয়ে এ অঞ্চলের বহু নর-নারী ইসলাম ধর্মে দিক্ষিত হন।
