প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান ২য়পত্রের অধ্যায় ঃ ০২ প্রাণিকোষ (Animal Cell) ঃ গঠন, বৈশিষ্ট্য ও কাজ - বিষয়ের ওপর সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করব, যা ফাইনাল ২০১৪ সালের (সকল বোর্ড) পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ্য কর এবং এর আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
প্রতিটি প্রাণিকোষ তিনটি প্রোটোপ্লাজমীয় অংশ নিয়ে গঠিত। এদের মধ্যে একটি প্রাণিকোষকে আবৃত রাখে। এর গঠন বড়ই চমকপ্রদ। এর ভিতর দিয়ে সহজে বিভিন্ন কোষীয় দ্রব্যাদি চলাচল করতে সক্ষম। এর গঠনশৈলীর উপর বিভিন্ন মতবাদ প্রচলিত আছে। তবে ১৯৭২ সালে প্রবর্তিত মতবাদটি বিজ্ঞানীমহলে বেশি গ্রহনযোগ্যতা পায়।
(ঘ) কোষ পর্দার গঠন সংক্রান্ত আধুনিকতম মডেলটি বর্ণনা কর। ৪
(ঘ) উত্তর ঃ
কোষ পর্দার গঠন সংক্রান্ত আধুনিকতম মডেল ঃ
উদ্দীপকের আলোকে কোষপর্দার গঠন সংক্রান্ত আধুনিকতম মডেল বলতে আমরা ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে কোষ বিজ্ঞানী S. J. Singer এবং G.L. Nicolson কর্তৃক প্রবর্তিত প্লাজমামেমব্রেনের গঠন সংক্রান্ত ফ্লুইড মোজাইক মডেলকেই বুঝি। নিম্নে মডেলটি উপস্থাপন করা হলো ঃ
বিজ্ঞানীদ্বয়ের বর্ণনা অনুসারে, প্লাজমামেমব্রেন ফসফোলিপিড ও প্রোটিন অণু নিয়ে গঠিত। আর এই ফসফোলিপিড সাধারনতঃ দুটি স্তরে বিন্যস্ত থাকে। প্রত্যেক স্তরের ফসফোলিপিড অণুগুলো দুইপ্রান্ত বিশিষ্ট। একটি প্রান্তকে পানিগ্রাহী মস্তক ( hydrophilic head) এবং অন্যটিকে পানিবিদ্বেষী লেজ ( hydrophobic tail) বলে। ফসফোলিপিড অণুগুলোর ফাঁকে ফাঁকে কোলেস্টরল অণু থাকে। ফসফোলিপিড ও কোলেষ্টরল অণুর মধ্যে ভাসমান থাকে স্ফীতকায় অনেক প্রোটিন অণু। আর অনুগুলো থাকে অনিয়ত বিন্যস্ত। বিন্যাসের ভিত্তিতে প্রোটিন অণুু ৩ ধরনের হয়ে থাকে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ঃপ্রান্তীয় প্রোটিন - এগুলো ফসফোলিপিড স্তরের বহিঃ বা অন্তঃতল সংলগ্ন প্রোটিন অন্তর্নিহিত প্রোটিন - এগুলো ফসফোলিপিড স্তরের আংশিক বা সম্পূর্ণ প্রবিষ্ট থাকে এবং আন্তঃ ঝিল্লি প্রোটিন - এগুলো ফসফোলিপিডের দুই স্তর জুড়েই থাকে। ফসফোলিপিড অণুগুলো সব সময় সচল থাকে, কাঁপে এবং পরস্পরের সঙ্গে ঠোকাঠুকি করে লাফিয়ে ওঠে। তারপর স্তরের মধ্যেই স্থান পরিবর্তন করে। বিল্লিকে তখন তরল পদার্থের মতো মনে হয়। অন্যদিকে, ঝিল্লিকে পৃষ্টতল থেকে দেখলে পোটিন অণুগুলোকে মোজাইকের মতো দেখায়। আর এ অবস্থাকে এক কথায় বোঝানোর জন্য ঝিল্লির মডেলের নাম হয়েছে ফ্লুইড মোজাইক মডেল। অনেক ফসফোলিপিড অণু এবং অধিকাংশ প্রোটিন অণুর সংঙ্গে ক্ষুদ্র কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খল যুক্ত থাকে। তখন এগুলোকে যথাক্রমে গ্লাইকোলিপিড ও গ্লাইকোপ্রোটিন বলে। কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খলগুলো সব সময় ঝিল্লির বর্হিতলে অবস্থান করে মাত্র।
