[ আ লো ক পা ত ]

এত ফ্রন্ট খুললেন কেন?

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪৫
মাঝে জামায়াত-শিবিরের ৪৮ ঘণ্টার যে হরতাল হয়ে গেল, তাতে দেশের তিনটি স্থানে তাদের ‘ক্যাডার’দের দেয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কাতরাতে-কাতরাতে মারা গেলেন তিন বাস ও ট্রাকচালক। এদের অন্তত একজনের গায়ে দাহ্যবস্তু ঢেলে গাড়ির সঙ্গে তাকেও পুড়িয়ে দেয়া হয়। অন্যদের গাড়িতে রেখেই আগুন দেয়া হয় এবং মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার আগে বেরোতে পারেননি তারা। আগুনে পোড়া ব্যক্তিকে ভালো চিকিত্সা দিতে এখনো সমর্থ নই আমরা। বেশি পুড়ে গেলে বা দগ্ধ হওয়াটা গভীর হলে উন্নত দেশেও রোগীকে সারিয়ে তোলা কঠিন। এ ধরনের চিকিত্সায় ব্যয়ভারও বেশি। এ দেশে গার্মেন্টস কারখানায় আগুন লেগে কত মানুষ হতাহত হয়েছে! আবাসিক এলাকায় দাহ্যবস্তুর মজুদ থেকে সৃষ্ট আগুনে একসঙ্গে জীবন্ত দগ্ধ হয়েছে কত মানুষ! এসব ঘটনায় আমরা মালিকপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করি, তাদের শাস্তি চাই। সরকারি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেও দায়ী করি আমরা; ব্যবস্থায় সংস্কার চাই। কিন্তু হরতালে এই যে মানুষ পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, তার জন্য কাউকে যেন ঠিক দায়ী করা যাচ্ছে না। এটা যেন হরতালকারীদের ‘অধিকারের’ মধ্যেই পড়ছে! আপনি যদি তাদের কারো শাস্তি দাবি করেন,তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বলে দেয়া হবে— অতীতেও হরতালের মতো কর্মসূচিতে পুড়িয়ে মারা হয়েছে মানুষকে। বলা হবে, বোমা মেরে ছিন্নভিন্ন করা হয়েছে রিকশাচালকের হাত। বয়স্ক অফিসযাত্রীর জামাকাপড় খুলে নেয়া হয়েছে পথে। একবার এক হরতাল বা এ জাতীয় ‘কর্মসূচি’ চলাকালে কিংবা কোনো বিরোধের জেরে রাজধানীর প্রান্তে কোথায় যেন একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। আর এতে পুড়ে মারা যায় বেশ কিছু যাত্রী। সংবাদপত্রে এসেছিল বাসে বসে জীবন্ত দগ্ধ (ও কয়লায় রূপান্তরিত) কয়েকজন যাত্রীর ছবি। মিডিয়ায় এ ধরনের ছবি প্রকাশ বা প্রচার করতে আজকাল বারণ করা হয় সঙ্গত কারণেই। প্রতিবেদনেই দিতে বলা হয় ঘটনার বিবরণ। শুধু বিবরণ পড়েও নিজেকে স্থির রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সম্প্রতি পত্রিকার পাতায় তিন চালকের পুড়ে মরার খবর পড়লে যে কোনো বিবেকবান মানুষই এটি অনুভব করবেন। সমস্যা হলো, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় সবাই যখন কমবেশি একই আচরণ করছে, তখন কাকে তারা আলাদাভাবে দোষ দেবেন? হরতাল আহ্বান বা আকস্মিকভাবে মিছিল বের করে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা বেশি সহিংস আচরণ করছে অবশ্য। গাড়িশুদ্ধ তিন চালককে পুড়িয়ে দেয়ার পর রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়েছে নতুন করে। একা পেয়ে এক ট্রাফিক পুলিশের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেছে এক স্থানে। এটা কী ধরনের কাজ? কয়েক মাস আগে জামায়াত-শিবির কর্মী-সমর্থকরা বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালায় দেশের বেশ কিছু স্থানে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেও নৈরাজ্যে নামাতে সক্ষম হয় তারা। দুর্ভাগ্যজনক যে, একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরোধিতা করেই তারা এমনটি করে। অনেকের প্রত্যাশা ছিল, একাত্তরের পর জন্ম নেয়া জামায়াত নেতা-কর্মীরা নিজেদের মতো করে ধর্মীয় মতবাদ কায়েম করতে চাইলেও মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের নেতাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পক্ষে দাঁড়াবেন না। বিএনপি কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচারের সম্মুখীন তার একাধিক সিনিয়র নেতার পক্ষে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলছে না। এ বিচার সম্পর্কে সাধারণভাবে তার রাজনৈতিক অবস্থানই প্রকাশ করছে কেবল। চলতি মাসেই দু’জন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় ট্রাইব্যুনালে রায় দেয়া হবে বলে খবর রয়েছে। এমন খবরও বেরিয়েছে, এ নিয়ে পড়িমরি করে সরকারের সঙ্গে লড়তে যাবে না বিএনপি। তারা লড়ছেন মূলত সিঙ্গল ইস্যুতে— জাতীয় নির্বাচনকালে নির্দলীয় ধরনের একটা সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে। ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ মূল ধারণা থেকেও তারা সরে এসেছেন বলে মনে হয়। কিন্তু জামায়াতের মধ্যে একাত্তর থেকে সরে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সর্বশক্তি দিয়ে তারা বারবারই নামছে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার থেকে দলের প্রথমসারির নেতাদের বাঁচাতে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেবে না বুঝতে পেরে তারা যেন আরও মরিয়া হয়ে উঠছেন। দলের গঠনতন্ত্র নিয়েও আইনি জটিলতায় পড়েছে জামায়াত। গণতান্ত্রিক দেশে রাজনীতি করতে গেলে গঠনতন্ত্র যে গণতন্ত্রসম্মত হতে হয়, সে বিষয়ে তাদের সচেতন হওয়া উচিত ছিল বিগত তত্ত্বাবধায়ক শাসনামলেই। নির্বাচন কমিশন তখনই কিন্তু তাদের সতর্ক করে দেয়। এখন উচ্চ আদালতের রায়ে দেখা যাচ্ছে, রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারলেও দলের নাম ও প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবেন না তারা। অনেকে বলতে চাইছেন— আন্দোলনের নামে জামায়াত যে আচরণ করছে, সেটি হলো তার অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা। এমন পরিস্থিতিতে তাদের পড়তে হয়নি আগে; দেশের কোনো রাজনৈতিক দলকেই পড়তে হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে জামায়াত-শিবিরের আচরণকে অনেকে কিছুটা সহানুভূতির সঙ্গেও দেখার চেষ্টা করছেন। তারাও কি সাম্প্রতিক হরতালে তিন বাস ও ট্রাকচালকের অগ্নিদগ্ধ হয়ে করুণভাবে মারা যাওয়াটা মেনে নিতে পারবেন? জামায়াতের ওই হরতালের পর গার্মেন্টস খাতে জমতে থাকা ক্ষোভেরও একটা প্রকাশ আমরা দেখতে পেলাম শ্রমিক বেল্টগুলোয়। গাজীপুরের এক স্থানে বর্ধিত ন্যূনতম বেতনের দাবিতে রাস্তায় নামা শ্রমিকরা আনসারের হাতিয়ার পুড়িয়েছে। পুলিশ অবশ্য নরমে-গরমে মোকাবিলা করেছে তাদের। সরকারসহ ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে গার্মেন্টস খাতে শান্তি ফিরিয়ে আনার। আরেকটি ঈদের বেশি বাকি নেই। এ সময়ে বেতন-বোনাস, বকেয়া, ওভারটাইম প্রভৃতি নিয়ে নতুন করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে এ শিল্পে। ভালো যে, এ সময়ে চাল ও পেঁয়াজের দাম ছাড়া নিত্যপণ্যের বাজার মোটামুটি শান্ত রয়েছে। খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তা সত্ত্বেও গার্মেন্টস খাতে ন্যূনতম মজুরির বিষয়ে দ্রুতই মালিক পক্ষের মতিগতি ঠিক করে একটা গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে সরকারকে। একাধিক মন্ত্রীর তত্পরতা দেখে মনে হয়, সেদিকে দৃষ্টি রয়েছে তার। সুদৃষ্টি কেবল নেই নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতায় উপনীত হওয়ার বিষয়ে। একটি বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে খবর বেরিয়েছে, সরকার নাকি তার বাঁধা ছকেই চলতে চাইছে। সংবিধান অনুযায়ী যে নির্বাচন করতে চাইছেন, সেটি অনুষ্ঠানে তারা বদ্ধপরিকর। এ ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল বিএনপি নাকি সুবিধা করতে পারবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুংকার দিয়ে বলছেন, পুলিশের ওপর জামায়াতের হামলাসহ আন্দোলনের নামে অরাজকতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। নতুন কোনো ইস্যুও নাকি তারা সৃষ্টি হতে দেবেন না। এমন দৃশ্যপট ভাবতে ভাবতে মনে বারবারই প্রশ্ন জাগে— কেমন হতো, যদি সরকার জাতীয় নির্বাচন ব্যবস্থাপনা প্রশ্নে একাই কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে না ফেলত? এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যে সংসদীয় উপ-কমিটি গঠিত হয়েছিল, তার কার্যক্রম দেখে কিন্তু অনেকেই ভাবছিলেন— বিরোধী দলের অবস্থানকে একদম অগ্রাহ্য করে কিছু করা হবে না। এসব ভাবনা-চিন্তা চলাকালে দেশের প্রধান নির্বাহী তথা প্রধানমন্ত্রী এতে হস্তক্ষেপ করেন এবং আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়। অতঃপর ক্ষমতাসীন দলের ‘নীতিনির্ধারক নেতাদের’ কেউ আর এ নিয়ে রা করলেন না। দলে গণতন্ত্র চর্চা থাকলে হয়তোবা কিছু ভিন্নমত দেখতে পেতাম আমরা। এর বদলে এখন তাদের প্রায় সবাইকে বলতে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে এবং এটি ঘটবে সুষ্ঠুভাবে। এদিকে আমরা জানি, বিএনপি ও তার সঙ্গী-সাথী বিরোধী দলগুলো এ প্রশ্নে কী অবস্থান নিয়ে বসে আছে। বিএনপির সঙ্গীদের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে প্রবল বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামী রয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনার ধরন নিয়ে খুব উত্সাহী না হলেও দেশে কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন চালুর বিষয়ে সিরিয়াস হেফাজতে ইসলামও আছে বিএনপির সঙ্গে। মেয়াদের শেষ সময়ে সরকারের জনপ্রিয়তাও যখন কমে এসেছে, তখন এ তিন শক্তিকে প্রায় একযোগে মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাকে। মোকাবিলার কাজটি কি একটু সহজ হয়ে যেত না নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রায় হয়ে যাওয়ার পরও তা নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের সঙ্গে বসলে? তাদের কি বলা যেত না, অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়েছে তো কী হয়েছে— আসুন, আমরা গণতান্ত্রিক নিয়মনীতির মধ্যেই গ্রহণযোগ্য একটা ব্যবস্থা বের করি। এখন কিন্তু বোদ্ধাদের অনেকেই বলছেন, বিরোধী দলের কথামতো সংবিধানে নতুন সংশোধনী না এনেও, অর্থাত্ এর মধ্যেই একটা বিশ্বাসযোগ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যবস্থা করা যায়। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাইলে শেষ পর্যন্ত হয়তো তেমন কিছু একটায় রাজি হতে হবে সরকারকে; কিন্তু ততদিনে খুব দেরি হয়ে যাবে এবং মনে হবে, সরকার বাধ্য হয়ে এ ধরনের সমঝোতায় গেল। একটা পরাজিতের ভাব এসে যাবে ক্ষমতাসীনদের মাঝে। এ অবস্থায় ক্ষমতায় ফিরে আসা তো পরের কথা— নির্বাচনে ভালো একটা অবস্থান ধরে রাখাও তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে। এক প্রসঙ্গ দিয়ে নিবন্ধটি শুরু করে মাঝে একটু অন্য প্রসঙ্গে যেতে হলো এটা বলতে যে, অতি আত্মবিশ্বাসী হয়েই কিনা কে জানে— বেশি ‘ফ্রন্ট’ খুলে ফেলেছে সরকার। দেশ পরিচালনায় সাফল্য আর জনপ্রিয়তা বজায় থাকলেও কোনো সরকারের কি উচিত একসঙ্গে এত যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া? দেশের বাইরেও কিছু ফ্রন্ট খুলেছে সরকার— কী এক জেদের বশবর্তী হয়ে! নোবেলবিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সরকারপ্রধান ও তার সহকর্মীদের লড়াই যেন থামতেই চাইছে না। পদ্মা সেতু নিয়ে দাতাগোষ্ঠীর অভিযোগ ঠেকাতে গিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরা মাঝে হঠাত্ করেই যেন হয়ে উঠলেন পশ্চিমাবিরোধী। সারাদেশে তারা কিন্তু মুক্তবাজার নীতিই প্রয়োগ করছেন বিএনপির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। এর অংশ হিসেবেই হয়তোবা গার্মেন্টস খাতে তারা বজায় রাখতে চাইছেন উগ্র শ্রম শোষণ তথা ‘পুঁজির আদি সঞ্চয়ন’। সাধারণ মানুষ এসব মেলাতে পারছেন না আর সচেতন মানুষ সরকারের ওপর ক্রমে হচ্ছেন বিরক্ত। উদাহরণ আর না বাড়ালেও চলবে। এত উন্নয়ন কাজ করেও সরকার কেন জনপ্রিয়তা হারিয়েছে, সেটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পথেঘাটেও লোকজন টেনে আনছে ওইসব উদাহরণ। রাজনীতিসচেতন মহল এও বুঝতে অক্ষম, জনপ্রিয়তা হারানোর প্রক্রিয়ায় ঢুকে পড়ার পরও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকার তথা সরকারপ্রধানের জেদ কেন নামছে না। সন্দেহ নেই, শুধু এ কারণে গত এক-দেড় বছরে জনপ্রিয়তা আরও কমেছে সরকারের। এমনটি না ঘটলে আরও মনোযোগ ও দৃঢ়তার সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজ এগিয়ে নিতে পারত সরকার। এ প্রশ্নে বিএনপি-জামায়াত ঐক্যেও হয়তো ফাটল ধরানো যেত। হেফাজতে ইসলামও হয়তো সামনে চলে এসে দেশের উদারপন্থী মানুষদের উদ্বিগ্ন করে তুলতে পারত না। এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, অনেকেই বলছেন— বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচন হলেও বিরোধী জোট নাকি জিতে যাবে। এ তত্ত্বও বাজারে রয়েছে যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায় কাঁধে নিতে না হলে সেটি ক্ষমতাসীনদের জন্য সবচেয়ে ভালো। সময়মতো জাতীয় নির্বাচন না হওয়া বলতে আমরা যেমন পরিস্থিতি বুঝি, তাতে কিন্তু গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা থাকে না। প্রশ্ন হলো, সে পরিস্থিতিতেও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কি অব্যাহত থাকবে? কমবে কি ধর্মীয় উগ্রবাদীদের দাপট? ভালো হতো বিএনপি এসব প্রশ্নে তার অবস্থান এরই মধ্যে জাতির কাছে স্পষ্ট করলে। তাহলে ভালোয় ভালোয় নির্বাচনটা হয়ে গিয়ে তারা ক্ষমতায় এসে গেলেও দেশ মোটামুটি কোন ধারায় চলবে, সে বিষয়ে একটা পূর্বধারণা পেতাম। আমরা তো জানি, অর্থনীতি পরিচালনার প্রশ্নে দুই শাসক দলে বড় কোনো মতপার্থক্য নেই। লেখক :সাংবাদিক [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন