জাতির বৃহত্তর স্বার্থে দু’দলকেই প্রয়োজনীয় অনুপাতে ছাড় দিতে হবে
আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনীতির মাঠ ক্রমেই গরম হয়ে উঠছে। আমরা খুবই হতভাগা জাতি যে, স্বাধীনতার ৪২ বছর পরেও আমরা কোন স্থায়ী নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি তৈরি করতে পারিনি। প্রতি পাঁচ বছর পরপর নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে রাজনীতির মাঠ সরগরম হয়ে ওঠে। গত ১/১১’র দুঃসহ স্মৃতি মনে পড়লে স্বাধীন জাতি হিসাবে আজও মুখ ঢাকতে ইচ্ছে করে। আগামী প্রজন্মের কথা বিবেচনা করে সুন্দর ভবিষ্যত্ নির্মাণের উদ্দেশ্যে প্রধান দু’রাজনৈতিক শিবিরকে স্থায়ী একটি উদ্যোগ নিতে হবে। সংলাপ, সমঝোতা সমন্বয়ের মাধ্যমে কঠিন এ বিপদ থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব। তবে এর জন্য প্রধান দু’রাজনৈতিক দলকে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজন অনুপাতে ছাড় দিতে হবে। আর তাতেই আগামী প্রজন্ম ১/১১ নামক এ শব্দটির করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাবে।
মো. জামালউদ্দিন
এল.এল.বি (অনার্স), আইন বিভাগ (২য় বর্ষ),
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
অগণতান্ত্রিক শক্তিকে রুখতে সমঝোতা দরকার
আগামী সংসদ নির্বাচন বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নিজেদের অধীনে করতে চায়, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সদস্যপদ বহাল থাকা অবস্থাতেই তারা নির্বাচন করতে পারবে। ফলে নির্বাচনী ‘Level Playing field’ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে, যা কখনই প্রধান বিরোধীদল বিএনপি ও তার জোট মেনে নিবে না, ফলে রাজনৈতিক সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়বে। আবার দেশে অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান হবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণতন্ত্র। তাই ক্ষমতাসীল দল আওয়ামী লীগের উচিত জনমত অনুযায়ী নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের ব্যবস্থা করা, আর তা হতে পারে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ও অন্য রাজনৈতিক দলের সমঝোতার ভিত্তিতে, যা অগণতান্ত্রিক শক্তিকে রুখতে এবং গণতন্ত্র অব্যাহত রাখতে কার্যকরি হবে।
ইমরান ফয়সাল
সরকার ও রাজনীতি বিভাগ (১ম বর্ষ),
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
চাই শান্তি ও সমঝোতা ওয়ান ইলেভেন পরিস্থিতি চাই না
দেশে বিদ্যমান বড় দল দুটি কেউ কাউকে কোন ছাড় দিচ্ছে না। তাদের মধ্যে আজ ব্যক্তিগত স্বার্থ নিজেদের ইচ্ছা, ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার বাসনা ইত্যাদি দেশ ও মানুষের স্বার্থের চেয়ে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে। দল দুটির মধ্যে বিরাজ করছে চরম অবিশ্বাস। যে অবিশ্বাসের কারণে তারা কোন সমঝোতায় আসতে পারছে না। তাই তাদের কাছে আমাদের অনুরোধ, দেশ ও দশের স্বার্থে দেশকে ধ্বংসের দুয়ারে না ঠেলে দিয়ে, নিজেদের মধ্যকার বিদ্যমান সব অবিশ্বাস দূর করে সমঝোতা করুন এবং দেশকে শান্তির পথে পরিচালিত করুন। অন্যথায় দেশের শান্তিকামী জনগণ আপনাদের কাউকে ক্ষমা করবে না।
মাহমুদ শান্ত
বিবিএ(সম্মান), হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ,
সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ, মানিকগঞ্জ
সমঝোতা ছাড়া সম্ভাব্য সংঘাতের দায়ভার নেবে কে?
আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই এক ধরনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে যেটা আমাদের সকলেরই নখদর্পণে। এই টানাপোড়েনের পিছনে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলই দায়ী। বিদ্যমান সমস্যার সমাধান না হলে দেশে যে সংঘাতের সৃষ্টি হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। আদালত থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিপক্ষে রায় হয়েছে ঠিক, কিন্তু সেখানে উল্লেখ রয়েছে যে, “চাইলে পরবর্তী একটি বা দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়কের অধীনে হতে পারে”, আমি মনে করি বিদ্যমান সমস্যা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে এই আশার বাণীটুকুই অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করে দু’দলকেই রাজনৈতিক টেবিলে পরস্পরের করমর্দন করে দেশকে সম্ভাব্য সংঘাতের হাত থেকে রক্ষা করা উচিত। আর যদি তা না হয় তাহলে সেই সম্ভাব্য সংঘাতের দায়ভার কার? দায়ভার যারই হোক না কেন ভুক্তভোগী হবো যে আমরা সাধারণ জনগণ হাতে কি কোন সন্দেহ আছে!!
মুহা. রবীউল ইসলাম
৪র্থ বর্ষ, বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিন,
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা
১/১১ সংকট উত্তরণে আস্থা ও বিশ্বাস অপরিহার্য
গত জোট সরকারের শাসন আমল অবসানের মধ্যদিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে যে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি অর্থাত্ ১/১১ সৃষ্টি হয়েছিল তা আবারও মহাজোট সরকারের শাসন আমলে সম্ভাব্য রূপ ধারণ করতে পারে। সম্ভাব্য এই বিভীষিকাময় পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য রাজনীতিবিদদেরই সমাধান টানতে হবে। যেহেতু তারা উভয়ই সরকারি দলে থাকা অবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিপক্ষে নির্বাচন করতে চায়। আর এ নিয়ে সহজ-সরল জনসাধারণকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়। আর নয় প্রাণ বিসর্জন, আর নয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, চাই এবার সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন। যেহেতু বিরোধী দল সংসদকে কার্যকর করতে পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করাটা দেশবাসীর জন্য কল্যাণকর হবে। তাই সরকারের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখেই সকল দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটা যথোপযুক্ত।
মো. কবিরুল ইসলাম
অর্থনীতি বিভাগ (২য় বর্ষ),
দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর
