জনগণ দেখতে চায় সঠিক গণতন্ত্রের বাস্তবায়ন
স্বাধীন বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশী যুদ্ধের পূর্বে বলেছিলেন: ‘বাংলার আকাশে আজ কালো মেঘের ঘনঘটা, কে আমাকে আশা দেবে, কে আমাকে ভরসা দেবে?’ নবাবের সেই বাক্য আজ আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের মুখে ও অন্তরে জায়গা করে নিচ্ছে। তারাও যেন নবাবের সেই বাক্য আজ মুখ ফুটে উচ্চারণ করতে চায়। কারণ বর্তমান বাংলাদেশের অবস্থা সংঘাতময় ও সংঘাতমুখী। সর্বক্ষেত্রে অগণতান্ত্রিক ও অনিয়মের যাঁতাকলে দেশের মানুষ আজ ভীত। কারণ তাদের মনে সেই ১/১১-র কালো ইতিহাস উঁকি দিয়ে ওঠে। তারা দেশের দুই প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতার করল। সারাদেশে অস্থিরতা বিরাজ করতে লাগল। শুধু তাই নয়, দেশ সার্বিকভাবে অন্ধকারের অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে লাগল। সেই খেসারত দিতে হলো দেশের জনগণকে। মানুষ আর ঐ পরিস্থিতি দেখতে চায় না। জনগণ দেখতে চায় গণতন্ত্রের বাস্তবায়ন।
সাদিক সাত্তার আকন্দ
বিবিএ প্রোগ্রাম, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
দেশের কথা চিন্তা করে প্রধান দু’দলের মধ্যে সমঝোতা খুবই জরুরি
সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় নেতা-নেত্রীরা যে ভাষায় কথা বলছে তাতে মনে হয় না সমঝোতা আদৌ সম্ভব আর সমঝোতা যদি না হয় তাহলে আর এক ওয়ান ইলেভেনের মুখোমুখি হতে হবে বলাই বাহুল্য। অর্থাত্ একটি মারাত্মক সহিংস পরিস্থিতির পূর্বাভাস। সরকার যদি কঠোরহস্তে সেই সহিংসতা দমন করেও নির্বাচন দেয়, বিএনপি যোগ দেবে বলে মনে হয় না। তখন আহত বাঘের ন্যায় বিএনপি-জামায়াত সর্বস্ব দিয়ে প্রতিবাদী ও ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠবে। আওয়ামী লীগ চেষ্টা করবে কর্মীদের মাঠে নামিয়ে তা প্রতিকার করার জন্য। ফলে দু’দল মুখোমুখি অবস্থানে চলে যাবে। এই সুযোগে তৃতীয় পক্ষ গ্রহণ করে আবার একটা অগণতান্ত্রিক ১/১১’র সরকার যে আসবে না তা বলা যায় না। তাই দেশের কথা চিন্তা করে প্রধান দু’দলের মধ্যে সমঝোতা খুবই জরুরি।
আশরাফুল ইসলাম ঠাকুর
অনার্স ৪র্থ বর্ষ, ব্যবস্থাপনা বিভাগ
রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ফরিদপুর
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওতায় নির্বাচন কামনা করছি
সংবিধানের ১২৩ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে একথাও বলা হয়েছে যে, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অন্য কোন কারণে সংসদ ভেঙ্গে গেলে, ভেঙ্গে যাওয়া দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সংসদ ভেঙ্গে দেয়া না হলে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী সময়েই নির্বাচন হলে, মন্ত্রী-এমপিরা তাদের পদে বহাল থেকেই নির্বাচনে যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তাহলে তারা সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অনেক কর্মকর্তাও মনে করেন সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচন করা হয় তাহলে রাজনৈতিক দলগুলো সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। আমরা জনগণ একটি কথাই বলবো যে, অংশ নেয়া যেহেতু গণতান্ত্রিক একটি অধিকার আর সেই অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে ভোগ করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওতায় নির্বাচন কামনা করছি।
মো. লুত্ফর রহমান
ইংরেজি বিভাগ (মাস্টার্স)
নর্দান ইউনিভার্সিটি
শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে গণতন্ত্রের পথে
বর্তমান রাজনীতিতে এক ধরনের অশান্তি, অস্থিরতা কাজ করছে। আমাদের রাজনীতিকদের গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চায় ব্যর্থতা ২০০৭-এ ডেকে এনেছে এক এগারো। একথা কারোই ভুলার নয়। কথায় বলে সুখগুলো মুছে যায়, দুঃখগুলো রয়ে যায়। গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ডেকে এদেশের মানুষ কবরের শান্তি খুঁজবে না। শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে গণতন্ত্রের পথে। বড় বড় দলগুলোর আচরণ অনেককে বিরক্ত ও হতাশ করে। কেউ কেউ এক এগারোর প্রতিচ্ছবি ফিরে পেতে চাচ্ছে মন্দের ভালো হিসেবে। এমন মনোভাব রাজনীতিকদের জন্য লজ্জার কথা। গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তিতে রাখতে চাইলে বৃহত্ দলগুলোকে সমঝোতার মাধ্যমে সংলাপে আসতে হবে। অন্যকোন বিকল্প নেই।
মো. রুবেল রানা
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু
চাই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড
উভয় দল লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পেলে তথা সত্ ও নিরপেক্ষ রেফারি পেলে (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে। জনগণও সেই নিরপেক্ষ সরকারের রায় মেনে নিবে। তাই সরকারকে বলবো- আর সংবিধানের অজুহাত দেখিয়ে সময় নষ্ট করবেন না। ১৯৭১ সালেও সংবিধান ছিল, বিগত এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনেও দেশে সংবিধান ছিল। কিন্তু জনগণের ইচ্ছার উপর কোন সংবিধান হতে পারে না। অচিরে সংবিধান সংশোধন করে সরকারি দলের উচিত পরবর্তী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা। সেটাই হবে দেশবাসীর জন্য উত্তম প্রত্যাশা।
জান্নাত আলী ফেরদৌস মানিক
৪র্থ বর্ষ, আইপিই, অমর একুশে হল,
কুয়েট, খুলনা
