ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন তাপস-শতাব্দি

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২৬
দলের বিরুদ্ধে কথা বলায় পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন রাজ্যসভার এমপি কুনাল ঘোষ। শনিবার কলকাতার তৃণমূল ভবনে একথা ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি। তিনি বলেন, দলবিরোধী কাজ করায় কুনাল ঘোষকে সাসপেন্ড করা হলো। তবে যে অপরাধে কুনালকে সদর দরজা দেখিয়ে দিলেন মমতা ব্যানার্জি, সেই একই অপরাধ করেও বহাল তবিয়তে আছেন পশ্চিমবঙ্গের টলিউডের এক সময়কার সুপারহিট হিরো তাপস পাল এবং সুপারহিট হিরোইন শতাব্দি রায়। তাহলে কি তারা যাদু জানেন? এ প্রশ্ন জাগতেই পারে মনে। আসলে যাদুটাদু কিছু না। গায়ের জোরে পেরে না উঠলে ঝগড়া মিটানোর সবচে’ সহজ দাওয়াই হলো ‘ক্ষমা চাওয়া’। তাপস পাল এবং শতাব্দি রায় সেই দাওয়াই প্রয়োগ করেছেন-মানে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে চিঠি লিখে ক্ষমা চেয়েছেন। তাই তারা এ যাত্রায় রক্ষা পেয়েছেন। তৃণমূল মহাসচিব সংবাদ মাধ্যমকে একথা জানিয়েছেন। তাপস ও শতাব্দির বুদ্ধির তারিফ করতে হয়। তারা বুঝতে পেরেছিলেন জলে বাস করে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে জেতা যায় না। তেমনি তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি হয়ে দলের শীর্ষনেত্রী মমতার সঙ্গে শত্রুতা করা যায় না। কয়েকদিন আগে তাপস পাল ও শতাব্দি রায় তৃণমূলে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন প্রকাশ্যে। মমতা ব্যানার্জি তাদের দলে যোগ্য সম্মান দিচ্ছিলেন না, অভিমানটা ছিল এ কারণেই। অভিমান হওয়ারই কথা। সিনেমায় অভিনয় করার সময় তাদের দেখার জন্য দর্শকদের ঢল নামতো, সেই ঢলের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করেই গটগট করে হেঁটে চলে যেতেন তারা। তাদের একটু ছুঁয়ে দেখার জন্য কতই না কাকুতি-মিনতি করতেন দর্শকরা। আর এখন! রাজনীতিতে নাম লেখানোর পর ছোট নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আর বড় নেতারা তাদের দিকে ফিরেও তাকায় না! অভিনয় জগত্ আর রাজনীতির জগতের মধ্যে এত ফারাক তা জানলে এই মাঠে পা দিতেন কি না সন্দেহ! তবে সাসপেন্ড হওয়া কুনাল ঘোষ বলেছেন, বিচার না করেই শাস্তি দেয়া হয়েছে তাকে। তিনি মমতা ব্যানার্জির কাছ থেকে শোকজের কোনো চিঠি পাননি। তাই জবাব দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সমপ্রতি পশ্চিমবঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে তাপস পাল, শতাব্দি রায়, কুনাল ঘোষরা বলেন, যারা তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছেন, দলে তাদের সম্মান নেই। যারা শীর্ষ নেতাদের তৈল মর্দন করে না তাদের অবহেলা করা হয়। তারা অভিযোগ করেন, দলে বেশি অবদান রাখলেও একটুও সম্মান পাচ্ছেন না। সাবেক নায়ক-নায়িকাদের এত ‘স্পর্ধা’ মেনে নিতে রাজি হননি তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। তারা এক সময়কার রূপালী পর্দার তারকা হতে পারেন, কিন্তু মমতা তো এখনকার রাজনীতির তারকা। তাই তিনি তাদের শক্ত ভাষায় শোকজ লেটার পাঠান। জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কুনাল সাসপেন্ড। আর ক্ষমা চাওয়ায় ‘সাত খুন মাপ’ দুই নায়ক নায়িকার।