নিউজিল্যান্ড দলের অগ্রবর্তী বাহিনী আজই বাংলাদেশে পৌঁছে যাবে। জানুয়ারিতে আসবে শ্রীলঙ্কা দল। ফেব্রুয়ারিতে এশিয়া কাপ এবং মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বাংলাদেশে আগামী প্রায় ছয় মাস ধরে যে ক্রিকেট মহাযজ্ঞ চলতে থাকবে, স্বভাবতই তার কেন্দ্রে থাকবে ‘হোম অব ক্রিকেট’ ডাক নামের মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম।
কিন্তু এই শেষ সময়ে এসে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বিখ্যাত এই স্টেডিয়ামই শেষ পর্যন্ত কালির দাগ একে দিতে পারে সব আয়োজনের মধ্যে। মিরপুর স্টেডিয়ামের নতুন ব্যবস্থাপনায় নানারকম ত্রুটি অনেকদিন ধরেই আলোচিত ছিল। এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরুও হয়েছে এই স্টেডিয়ামের এক ত্রুটির ভেতর দিয়ে। গতকাল শেখ জামাল বনাম আবাহনীর নির্ধারিত দিনের খেলা পরিত্যক্ত হওয়ার ভেতর দিয়ে মাঠ নিয়ে প্রশ্নটা তীব্রতর হয়ে উঠল।
সারারাত দেশের আর সব জায়গার মতোই বৃষ্টি হয়েছে মিরপুরে। সকাল ১১টার আগেই সে বৃষ্টি থেমেও গেছে; কিন্তু বিস্ময়করভাবে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে যখন ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়, তখনো মাঠ খেলার উপযুক্ত হয়নি। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ম্যাচ রেফারি বেলায়েত হোসেন বললেন, ‘এটা একটু অদ্ভুত ব্যাপারই বলতে হবে। পুরো মাঠ রেডি হয়ে গিয়েছিল; কিন্তু মূল উইকেটের পাশে যে উইকেটগুলো থাকে, ওই জায়গাটা কিছুতেই শুকানো সম্ভব হয়নি। কেন, ঠিক বলতে পারি না। তবে পাশের উইকেটে হাত দিলে আঙুল ডেবে যাচ্ছে বলে আম্পায়াররা বলেছেন। এ অবস্থায় খেলা চালালে, সেটা ঝুঁকিপূর্ণ হতো। তাই দিনের খেলা পরিত্যক্ত করা হয়েছে।’
মিরপুর স্টেডিয়ামের সুনাম পৃথিবী জুড়ে নানা কারণেই। একটা সময় ছিল, মূলত অত্যাধুনিক পানি নির্গমন ব্যবস্থার জন্য এই স্টেডিয়াম নিয়ে গর্ব করতো বাংলাদেশ। সঙ্গে আধুনিক সুপার-সপার মেশিনও মাঠটিকে দ্রুত খেলার উপযোগী করে তোলার জন্য কাজ করে থাকে। বৃষ্টি থামার এক ঘণ্টার মধ্যে বহুবার এখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচও শুরু হয়েছে।
কিন্তু গতকাল বিকেএসপি, ফতুল্লার মতো স্টেডিয়ামে বৃষ্টি থামার পর খেলা শেষ হলো; সেখানে মিরপুর কী করে পিছিয়ে রইল!
মিরপুর নিয়ে এই বিড়ম্বনা গত বেশ কিছুদিনেরই। মাঠটি গত এক বছরে বেশ কিছু সংস্কারের ভেতর দিয়ে গেছে। পরে এবার লিগে মিরপুরে প্রথম ম্যাচটাও এক পাশে ঘাস বড় থাকায় সময়মতো শুরু করা যায়নি। এসব ব্যাপার যার সামলানোর কথা, বাংলাদেশের সেই প্রধান কিউরেটর গামিনি সিলভা গতকাল সিলেটে ছিলেন। সেখান থেকেই ফোনে বললেন, ‘ঠিক কী পরিস্থিতিতে কী হয়েছে, আমি বলতে পারছি না।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গ্রাউন্ডস ও ফ্যাসিলিটিস বিভাগের ম্যানেজার আব্দুল বাতেন অবশ্য দাবি করলেন, দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে ম্যাচ চালানো সম্ভব হয়নি, ‘বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও অল্প সময়ের জন্য বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে মাঠ উপযুক্ত করা সম্ভব হয়নি। আর রিজার্ভ ডে হাতে থাকায় হয়তো দুই অধিনায়ক ও ম্যাচ রেফারি এদিন আর খেলতে চাননি।’
অবশ্য ম্যাচ রেফারি নিশ্চিত করলেন, ম্যাচ বাতিলের ক্ষেত্রে রিজার্ভ ডে নয়, মাঠের উপযুক্ততাই তাদের বিবেচ্য ছিল।
এসব কথা-বার্তার মধ্যে দুশ্চিন্তার বিষয় একটাই—মিরপুর এখন চট্টগ্রামের মতো হয়ে উঠবে না তো! সামান্য বৃষ্টিতেই মিরপুর কোনো লজ্জায় ফেলে দেবে না তো?
অবশ্য এই দুশ্চিন্তার কোনো কারণই দেখছেন না বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির প্রধান লোকমান হোসেন ভুঁইয়া। তিনি বলছেন, ‘না, তেমন কোনো দুশ্চিন্তার সুযোগই নেই। এখনো মিরপুরের ড্রেনেজ সিস্টেম অসাধারণ আছে।’
