বদলে যাচ্ছে শুল্ক আইন

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৩৭
বিদ্যমান ১৯৬৯ সালের শুল্ক আইনে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পরিবর্তিত আইনটি আগামী বাজেটে পাস করার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আইনে কী কী পরিবর্তন আসতে পারে এবং এর কাঠামো ঠিক করতে উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে যাচ্ছে এনবিআর। আইনটি পাস হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষত আঞ্চলিক বাণিজ্যে গতি বাড়বে। বিশেষ করে সার্কভুক্ত দেশ ভারত, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে মনে করে এনবিআর। এ বিষয়ে সহায়তা দিচ্ছে এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গতকাল এডিবির কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে। এর আগে গত বছর নতুন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আইন পাস করেছে এনবিআর। আইনটি ২০১৫ সাল থেকে পূর্ণ মাত্রায় চালু হওয়ার কথা রয়েছে। আর নতুন আয়কর আইনও পাস হওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ প্রসঙ্গে এনবিআর সদস্য (শুল্ক নীতি) ফরিদ উদ্দিন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, বিদ্যমান আইনটিকে আরো সহজ করার লক্ষ্যে শুল্ক আইনে এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এটি আসলে বিদ্যমান আইনের সহজীকরণ। দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের শুল্ক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ আইনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আইনটি আগামী বাজেটে পাস করার লক্ষ্যে আমাদের কাজ চলছে। এর ফলে এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আলোচ্য দেশগুলোর শুল্ক আইনে ব্যাপক ভিন্নতা রয়েছে। দেশগুলো কেবল তাদের নিজস্ব সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে শুল্ক আইন করেছে। ফলে শুল্ক বাধার পাশাপাশি নানামুখী অশুল্ক বাধার কারণে এসব দেশের বাণিজ্য কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বাড়েনি। দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাসহ (ডব্লিওটিও) উন্নয়ন সহযোগিরা কাজ করে যাচ্ছে। আবার শুল্ক আইনের নানামুখী জটিলতার কারণে দেশের ব্যবসায়ীদেরও এ নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। আইনটি সহজ হওয়ার ফলে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বৃদ্ধিতেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন এনবিআরের কর্মকর্তারা।