২০০৮ সালে ‘গ্র্যান্ড থেফট অটো’ গেমটির সর্বশেষ সংস্করণ আসে বাজারে। এরপর থেকেই জনপ্রিয় এই গেমের পরবর্তী সংস্করণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে ছিল গেমাররা। অবশেষে তাদের প্রত্যাশা পূরণে গত সেপ্টেম্বর মাসের ১৭ তারিখে বাজারে আসে নতুন পর্ব ‘গ্র্যান্ড থেফট অটো ৫’। নতুন এই সংস্করণটি নিয়ে গেমারদের প্রত্যাশার পারদ কতটা উঁচুতে ছিল, সেটা টের পাওয়া যায় গেমটি মুক্তি পাওয়ার পরপরই। গেমটির মুক্তির প্রথম দিনেই আয় করে ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর প্রথম তিন দিনেই এটি পেরিয়ে যায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ল্যান্ডমার্ক। এখন পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া গেমগুলোর মধ্যে এটি একটি বিশ্বরেকর্ড। কেবল গেম হিসেবেই নয়, যেকোনো ধরনের সিনেমা কিংবা বিনোদনের অন্য কোনো মাধ্যমের বিবেচনাতেও এটি একটি রেকর্ডই বটে। গেমের ক্ষেত্রে এর আগের রেকর্ডটি ছিল ‘কল অব ডিউটি :ব্ল্যাক অপস ২’-এর। তারা প্রথম দিনে আয় করে ৫০০ মিলিয়ন ডলার। আর ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে তাদের সময় লাগে ১৫ দিন।
এই সাফল্যের পেছনে অবশ্য শ্রমও কম দিয়ে হয়নি এর নির্মাতাদের। টেক-টু ইন্টার্যাকটিভ পরিবেশিত গ্র্যান্ড থেফট অটো’র পঞ্চম এই পর্ব নিয়ে তারা কাজ করেছে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে। রকস্টার গেমস স্টুডিওতে তৈরি হওয়া এই গেমটির পেছনে ২শ থেকে আড়াইশ মিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন গেম বিশেষজ্ঞরা।
নতুন এই পর্বটিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গেমের গ্রাফিক্সকে আরও বেশি বাস্তবমুখী করে তোলার দিকে। এর আগের পর্বে ঘটনাস্থল নিউইয়র্ক থাকলেও এই পর্বের স্থানকে ডিজাইন করা হয়েছে লস অ্যাঞ্জেলসকে। নতুন পর্বে সিঙ্গেল প্লেয়ার মোডেই রয়েছে তিন মূল চরিত্র। এরা হলো মাইকেল, ফ্র্যাংকলিন এবং ট্রেভর। এই চরিত্রগুলো খেলার সময় অবিকল মানুষের মতো করেই আচরণ করবে। আর আগের পর্বগুলোর তুলনায় গেমটিতে যুক্ত করা হয়েছে নতুন সব সুবিধা। প্রতিটি মিশনকেই আগের চাইতে জটিল করা হয়েছে। ফলে হার্ডকোর গেমাররা অনেক বেশি উপভোগ করতে পারবেন জিটিএ ৫।
ওপেন রিয়েল ওয়ার্ল্ডের অনুভূতি যুক্ত হয়েছে এই গেমে। অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার এই গেমটি সিঙ্গেল প্লেয়ার মোড ছাড়াও অনলাইনে মাল্টি-প্লেয়ার মোডে খেলা যাবে একসাথে ১৬ জন মিলে। প্লেস্টেশন ৩ এবং এক্সবক্স ৩৬০তে খেলা যাবে গেমটি।
