নির্বাচন করছেনই না সাবের হোসেন

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৩৮
গত দু’ দিন ধরেই এই সম্ভাবনাটার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত গুঞ্জন সত্যি হল—গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে জেলা ও বিভাগীয় কয়েকজন সংগঠককে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান প্রক্রিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার কথা জানিয়ে দিলেন সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী। সিদ্ধান্তটা অনুমিত হলেও কারণটা একেবারেই নতুন। সংবাদ সম্মেলনে সাবের হোসেন বললেন, এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া হচ্ছে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের নির্দেশনা অমান্য করে। ফলে তিনি এবং তার সঙ্গীরা এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে আদালত অবমাননা করতে চান না। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি), নির্বাচন কমিশন ও বিসিবিকে আহ্বান জানালেন, অনতিবিলম্বে এই নির্বাচনী কার্যক্রম বাতিল করতে। নাজমুল হাসান পাপনের সভাপতিত্বে এডহক কমিটি নির্বাচনের দায়িত্ব নিয়ে বিসিবি পরিচালনার ভার নেয়ার পর থেকেই নির্বাচন নিয়ে অনেক জটিলতা চলছে। জটিলতা মূলত গঠনতন্ত্রে এনএসসির পক্ষ থেকে করা কিছু সংশোধনী নিয়ে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলাও হয়েছে। সে মামলায় এসব সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন উচ্চ আদালত। পরে আপিল বিভাগ পূর্ণাঙ্গ শুনানির আগেই বিসিবির আবেদনের ফলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেন। তবে শর্ত থাকে যে, আপিল বিভাগের শুনানি শেষে রায়ের ওপর নির্ভর করবে এই নির্বাচনের বৈধতা। কাল সংবাদ সম্মেলনে সাবের হোসেন দাবি করলেন, সেই নির্দেশনারই পরিষ্কার লংঘন হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের বর্তমান প্রক্রিয়ায়। সাবের হোসেন চৌধুরী বিসিবি নির্বাচন বিষয়ে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের নির্দেশনার সত্যায়িত অনুলিপি সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন। সেখানে তিনি দেখান যে, আদালত বলেছেন, বিসিবি নির্বাচন শর্তসাপেক্ষে হবে ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর সংশোধিত গঠনতন্ত্রের আলোকে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নাকি বলেছে, এই নির্বাচন হচ্ছে ২৯ নভেম্বর, ২০১২ সংশোধনীর আলোকে। যদিও ২১ নভেম্বরের সংশোধনীটি কী, তা কেউ বলতে পারলেন না। এমনকি এই তারিখে কোনো সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে কি না, তাও বলতে পারলেন না সর্বশেষ বিসিবির গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির প্রধান ও সাবের হোসেনের ঘনিষ্ঠজন দেওয়ান সফিউল আরেফীন টুটুল। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে মনোনয়নপত্র ক্রয় না করা এবং নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন সাবের হোসেন ও তার সঙ্গীরা। তবে এর আগে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আরও অনেক অভিযোগ আবারও করা হল। বিশেষ করে জেলা ও বিভাগীয় সংগঠক পরিষদের সভাপতি ইউসুফ জামিল বাবু, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু, সাবেক পরিচালক ও সাবেক খেলোয়াড় জিএস হাসান তামিমরা পরিষ্কার করে একটার পর একটা অভিযোগ করলেন। এসব অভিযোগের মধ্যে যথারীতি বিভিন্ন জেলা-বিভাগের কাউন্সিলর মনোনয়নে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং ক্লাব পর্যায়ে টাকার বিনিময়ে কাউন্সিলর কেনার কথা উঠল। অভিযোগ করতে করতে এক পর্যায়ে সংগঠকরা বিসিবির গন্ডি ছাড়িয়ে এনএসসি ও নির্বাচন কমিশনের দিকেও আঙুল তুললেন। সাবের হোসেন চৌধুরী বললেন, ‘আমরা শুরু থেকে বলছি, এখানে ছক চলছে। এখন মনে হচ্ছে সে ছকে এনএসসিও হয়তো জড়িত।’ বিশেষ করে এনএসসি কাউন্সিলশিপ নিয়ে কোনো অভিযোগ গ্রহণ না করায় এই সন্দেহ করছেন সংগঠকরা।