বাংলাদেশের ক্রিকেটের চলমান এই সময়টাকে ইতিহাসের সবচেয়ে ঘটনাবহুল সময় বলে চিহ্নিত করে রাখা যায় সম্ভবত। একদিকে মাঠে লিগের খেলা চলছে, চলছে জাতীয় দলের অনুশীলন, সিরিজ খেলতে ঢাকায় পা রেখে ফেলেছে নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়রা, আইসিসি প্রতিনিধিদল আবারও এসেছেন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি দেখতে। তবে এসবের কিছুই না; ক্রিকেট মাঠ গরম করে রেখেছে নির্বাচনী হাওয়া। বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে সাবের হোসেন চৌধুরী জানালেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধার কারণে তিনি ও তার সমর্থকরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। এর আগে সকালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলন করে বিসিবি সভাপতি, সাংসদ নাজমুল হাসান পাপন প্রতিপক্ষের বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দিলেন। সেই সঙ্গে ঘোষণা দিলেন, আজই তিনি ‘অনেকের মুখোশ খুলে দেবেন’। গতকাল সন্ধায়ই বিসিবি থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হল, আজ আবার সংবাদ সম্মেলন করবেন পাপন। সে সংবাদ সম্মেলনে মুখোশ উন্মোচিত হবে, নাকি নতুন কোনো চমক থাকবে; সেটার অপেক্ষা এখন।
পাপন তার সংবাদ সম্মেলনে শুরু থেকে আবারও পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বললেন। কেন নির্বাচন বিলম্বিত হচ্ছে, কিভাবে তারা আইসিসির কাছ থেকে নির্বাচনের জন্য সময় চেয়ে নিচ্ছেন; সেসব বললেন। সেই সঙ্গে নির্বাচন বন্ধ করতে ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে একটি বিশাল ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে দাবি করলেন পাপন, ‘শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অনেকেই অপপ্রচার করে ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এই যে আবার আইসিসির প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসেছে, তাদের কাছে দেখবেন আবার কতো কী বলা হয়! আমি সবাইকে অনুরোধ করবো, আমাকে পছন্দ না হতে পারে বা আমার প্যানেলের কাউকে পছন্দ না হতে পারে কিন্তু ক্রিকেটটা তো সবার। অপপ্রচার করে দেশের ক্রিকেটের ক্ষতি করার চেষ্টা করবেন না।’
এই সংবাদ সম্মেলনে পাপন জবাব দিলেন সাবের হোসেন চৌধুরীদের তোলা বেশ কিছু আপত্তিরও। তিনি বলছেন, সাবের হোসেন নির্বাচন নিয়ে যেসব আপত্তি তুলেছেন, তা একেবারেই ভিত্তিহীন। পয়েন্ট ধরে ধরে তিনি উত্তর দিলেন, ‘উনি বলেছেন, ‘কাউন্সিলর বিসিবি কেন চেয়ে পাঠালো? গঠনতন্ত্রে তাই বলা হয়েছে। আর চিরকাল তাই করা হচ্ছে। সাবের ভাইয়ের সময়, লবি সাহেবর সময় বা লোটাস কামাল সাহেবের সময় তাই করা হয়েছে। যদি কেউ দেখাতে পারে যে, অন্য কিছু হয়েছে; তাহলে ওনারা যা বলবেন, তাই মেনে নেব। এরপর নির্বাচনের সময় নিয়ে কথা বলেছেন। গত নির্বাচনেও যে কয়দিন সময় দেয়া হয়েছিল, এবার হুবহু সেই কয়দিন সময় দেয়া হয়েছে। এরপর ওনারা লিখিতভাবে অনেকগুলো ধারা উল্লেখ করে সেগুলো লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে বলেছেন। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হল, আমি দেখলাম, এই সব ধারার কোনো অস্তিত্বই নেই। তাহলে কেন এই মিথ্যাচার!’
কথাবার্তার এই পর্যায়ে সাবের হোসেনের প্রতি পাপন যথেষ্ট সম্মান দেখিয়ে বললেন, তিনি বিশ্বাস করেন, সাবের হোসেনকে কেউ বা কারা ভুল বোঝাচ্ছে, ‘ওনার মাপের একজন মানুষ, সংগঠক এসব অপপ্রচার ও মিথ্যা বলবেন, এটা আমার বিশ্বাস হয় না। আমার এখনও মনে হয়, ওনার আশেপাশের মানুষ ওনাকে ভুল বোঝাচ্ছে। আর উনি সেসব বিশ্বাস করছেন।’
