সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন (!)

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২৯
ব্যক্তির চেয়ে দল, দলের চেয়ে দেশকে প্রাধান্য দিতে হবে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ও উদ্বেগের বিষয় হলো এই দেশের নির্বাচন। আর এই নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে হবে— নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নাকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেটিই এখনো স্থির হয়নি। এদিকে নির্বাচন অত্যাসন্ন। দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া অন্য কোন সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন করবে মর্মে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তারা আরও বলেছে নির্বাচনে কে এলো না এলো তা তাদের দেখার বিষয় নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া ক্ষমতাসীন দল নির্বাচন সম্পন্ন করে এবং সেই নির্বাচনে বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি অংশগ্রহণ না করে তাহলে নিঃসন্দেহে সেই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে গ্রহণযোগ্য হবে না। এতে করে দেশে একটি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে; এরই মধ্যে ঝরে পড়বে অনেক প্রাণ; স্থবির হয়ে পড়বে দেশের অর্থনীতি যা দেশবাসীর কাম্য নয়, এই সুযোগে আর একটি ওয়ান ইলেভেনের সৃষ্টি হতে পারে। তাই আমাদের ছাত্র সমাজের প্রত্যাশা উভয় রাজনৈতিক দল দেশের স্বার্থে নিজ অবস্থান থেকে সরে এসে সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা চূড়ান্তকরত এই অপার সম্ভাবনার সোনার বাংলাকে অনিশ্চিত অন্ধকার ভবিষ্যত্ থেকে বাঁচিয়ে আলোকিতের দিকে নিয়ে যাবে। মো. নাজমুল হুদা বিএসএস (সম্মান), শেষ বর্ষ অর্থনীতি বিভাগ চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ, চুয়াডাঙ্গা সমঝোতা করে পূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনুন বর্তমানে দেশে যে সংকট ঘনীভূত হয়েছে তা একমাত্র নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থাকে নিয়ে। দেশে প্রধান দুই সরকারি ও বিরোধী জোট দুই মেরুতে অবস্থান করছে। একদল বলছে তত্ত্বাবধায়ক, অন্যদল বলছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সমঝোতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। দেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ১/১১ এবং ৩য় শক্তি আসতে বাধ্য যদি প্রধান দুই দলের মাঝে নির্বাচন নিয়ে মতানৈক্য না হয়। নির্বাচনকালীন সহিংসতা জনগণের কাম্য নয়। সমঝোতার জন্য অবশ্যই সরকারি দল ও বিরোধী দলকে এগিয়ে আসতে হবে। একদল অন্য দলকে ছাড় দিতে হবে জনগণের স্বার্থে। সংসদের বাইরে ও ভিতরে নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সরকারি দল ও বিরোধী দলকে বলল, আপনারা নির্বাচনকালীন কোন ব্যবস্থা হবে তা নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করুন। সমঝোতা অবশ্যই প্রয়োজন বলে মনে করছি। আ. রহমান অনার্স ৩য় বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা ওয়ান ইলেভেন নয়, জনতা এখন স্বস্তি চায় সত্যিকার অর্থে রাজনীতি বলতে যা বুঝায়, বর্তমানে মনে হচ্ছে তার বিপরীতটাই যেন রাজনীতিবিদদের ধর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ জনতার কথা ভাবার মত সময়ই যেন তাদের হয়ে ওঠে না। যে যার স্বার্থ নিয়ে সদা সর্বদা ব্যস্ত। ক্ষমতা ধরে রাখাই সকলের প্রধান দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাতে দেশের পরিস্থিতি যাই হোক এ নিয়ে কারও কোন মাথাব্যথা নেই। একজন বলছেন সংবিধান থেকে একচুলও নড়ব না, অন্যজন বলছেন জনতার ঝড়ে সব চুল উড়ে যাবে। এ যেন প্রাইমারী স্কুলের বিতর্ক প্রতিযোগিতা চলছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে বলতে হয়, দেশে কোন প্রকার সহিংসতার ঘটনা ঘটলে ক্ষতি সাধারণ জনতার। প্রাণ হারাতে হয় সাধারণ জনগণের। স্বপ্ন ভেঙে যায় অধীর আগ্রহে বুকবাঁধা খেটে খাওয়া সাধারণ জনতার ,বাবা-মায়েদের। একটি গণতান্ত্রিক দেশের কথা চিন্তা করে, খেটে খাওয়া সাধারণ জনতার কথা বিবেচনা করে হলেও একটি সুশৃঙ্খল সিদ্ধান্তে পৌঁছান যাতে কোন প্রকার সহিংসতা না ঘটে। দেশের মানুষ সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করতে পারে। মো. সফরুল ইসলাম সম্মান ৪র্থ বর্ষ,বাংলা বিভাগ। সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন আসবে এ কথাটা ঠিক নয় দু’টি দলই তাদের নিজ নিজ সিদ্ধান্তে অটল, কেউ কাউকে ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। উভয় দলই তাদের স্ব স্ব সিদ্ধান্তকে টিকিয়ে রাখার জন্য মনে হয় এক শতবর্ষী মহারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু আপনারা কি একবারও ভেবে দেখেছেন এদেশের সাধারণ জনসাধারণ তাদের মহামূল্যবান ভোট দিয়ে আপনাদের দু’টি দলকে একের পর এক নির্বাচিত করে আসছে, কেন? শুধু এই নাটকীয় মঞ্চ দেখার জন্য, নাকি একটি সুন্দর শান্তিময় বাংলাদেশ দেখার জন্য। তবে আমি মনে করি, আপনারা উভয়ই রাজনীতিতে অনেক বিজ্ঞ। এদেশের সুন্দর ভবিষ্যত্ আপনাদের ন্যূনতম স্বদিচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তাই আমি উভয় দলের নেত্রীকে সবিনয় অনুরোধ জানাব, যেন তারা তাদের ব্যক্তিস্বার্থের কথা চিন্তা না করে দেশের জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় এনে সমঝোতার বৈঠকে বসে একটি সুন্দর নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়ে সেই ১/১১’র মতো ভয়ানক পরিস্থিতির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে। মো. মঞ্জুরুল হক এমএস, হর্টিকালচার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন