আন্তর্জাতিক

মালালা :নারী শিক্ষা আন্দোলনের এক অপরাজিতা

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৩, ২০:৫৮
বিশ্বময় আলোচনা-সমালোচনার অনেক বিষয়বস্তু রয়েছে। বিশ্বে বহুজাতিক নেতৃবৃন্দের সম্মেলন মাত্রই শেষ হয়েছে আমেরিকার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে। বাংলাদেশসহ বিশ্বনেতাদের মিলন মেলায় সেখানে স্থান করে নিয়েছেন এক অকুতোভয় কিশোরী মালালা ইউসুফজাই। পাকিস্তান একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশ হলেও এর শাসন ব্যবস্থার দুর্নীতি, দেশটির রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। বিশেষ করে একটি তালেবান আশ্রয়ী রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের যথেষ্ট বদনাম রয়েছে। দেশটিতে অহরহই চলছে দুর্বৃত্তায়ন, বোমা হামলা, নৃশংসতা ও নারীশিক্ষা বিদ্বেষী আচার-আচরণ। এর মধ্যে এদের সাথে আশ্রয় নিয়েছে তালেবান নামক সশস্ত্র এক জঙ্গী গোষ্ঠী। এদের সত্যিকার উদ্দেশ্যে ও লক্ষ্যে যাই হোক্ মানব কল্যাণ বিরোধী কার্যক্রম করে এরা যথেষ্ট নিন্দিত ও ঘৃণিত হয়েছে। বিশ্ববাসী আজ এদেরকে ভাল চোখে দেখেন না। তাদের নীতি আদর্শ মানব সম্পদ উন্নয়নের পক্ষে নয় তা যথেষ্ট প্রমাণিত হয়েছে। এরা নারী শিক্ষা বিদ্বেষী মনোভাব নিয়ে এক নিরীহ স্কুলগামী কিশোরীর মাথায় গুলি ছুঁড়েছিল। কিন্তু রাখে আল্লাহ্ মারে কে? মালালা ইউসুফজাই তালেবান জঙ্গীদের গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হননি বরঞ্চ এই কিশোরীই আজ বিশ্বনন্দিত নেতাদের পাশে বসার অধিকার অর্জন করেছেন। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ মালালার ভাষণ শুনে অভিভূত। বাম পাশে পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই আর ডান পাশে আমাদের বাংলাদেশের বেগম রোকেয়া (বিশ্বে নারী শিক্ষার দুই অগ্রপথিক) বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের কাতারে মালালা নির্ভয়ে বলেছেন, অস্ত্র নয় আমরা ‘বই’ চাই! ট্যাঙ্ক নয় আমরা ‘কলম’ চাই!! সৈনিক নয় আমরা উপযুক্ত ‘শিক্ষক’ চাই!!! বিশ্ব আজ যেখানে যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে মৌমাছির মতো সৈন্য ছিটিয়ে দিচ্ছে দেশে দেশে। ধ্বংস করেছে ইরাক, আফগানিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ। এক গণতন্ত্রের নামে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করছে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ। কিন্তু মালালা এতে হতাশ নন। তিনি তাঁর প্রাণঘাতীদের বিচার চাননি। মালালা নিজের আত্মবিশ্বাস, অদম্য সাহস, বুদ্ধিমত্তা ও উদার মন-মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের দরবারে। চমক লাগিয়েছেন বিশ্বকে। আজকের এক মালালা লক্ষ কোটি কিশোরীর পথ প্রদর্শক হয়ে থাকেব যুগে যুগে। বাংলাদেশের নারী শিক্ষার অগ্রপথিক ছিলেন বেগম রোকেয়া। তাঁর জীবন কাহিনী আমরা জানি। শতাব্দী পর পাকিস্তানের এক কোণে জন্ম নিয়েছে মালালা ইউসুফজাই। তবে, মালালা দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বের আইকন হয়েছেন। মুসলমানের পূর্ণ লেবাসে কিশোরী মালালা জাতিসংঘে খুবই দৃঢ়তার সংগে ইংরেজি ভাষায় বক্তব্য রেখেছেন যা সারাবিশ্বে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মালালা আজ শুধু পাকিস্তানের অগ্রপথিক নন। তিনি বিশ্বের নারী শিক্ষার অগ্রপথিক। শত প্রতিকূলতার মাঝে তিনি নিজেকে বাঁচিয়ে, নিজের অস্তিত্বের কথা ভুলে গিয়ে, স্বদেশের কথা ভুলে গিয়ে, জঙ্গীবাদী সন্ত্রাসী খুনীদের কথা ভুলে গিয়ে বিশ্ব নেতাদের বলে দিয়েছেন- আর সন্ত্রাসের উস্কানি নয়, আর অস্ত্রের মহড়া নয়, আর সৈনিকদের অবাধ বিচরণ নয়। আসুন এক কাতারে বিশ্বে শান্তির কথা বলি, শিক্ষার কথা বলি। অসির চেয়ে মসিই বড়। এই শ্লোগান নিয়ে এগিয়ে যাই। ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক বোমা ও অন্যান্য অস্ত্র, গোলাবারুদ, ট্যাঙ্ক কামান পরিহার করে বই, খাতা, কলম নিয়ে বিদ্যায়তনে যাই। মানুষকে আলোর পথ দেখাই। আদর্শের কথা বলি। মানব সেবায় আত্মনিয়োগ করি। সবার ঘরে ঘরে আজ মালালার মত মেয়েদের জন্ম হোক্ এই আমাদের প্রত্যাশা। যুদ্ধ নয়, শান্তির বার্তা নিয়ে এগিয়ে চলুক বিশ্বনেতারা। গণতন্ত্রের নামে কায়েমী স্বার্থবাদীদের অবসান হোক। সাম্রাজ্যবাদের পতন হোক। গণতন্ত্র তার সত্যিকার রূপ নিয়ে জনগণের কল্যাণে আসুক এই আমাদের প্রত্যাশা। জনগণকে মিথ্যা প্রবঞ্চনা না দিয়ে, জনগণকে জিম্মি না করে সত্যিকারের গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেই। এ হোক আগামীদিনের ধ্যান-ধারণা। লেখক: অধ্যক্ষ, বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী নার্সিং কলেজ, সিলেট ইমেইল: [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন