সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন (!)

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২৬
সমঝোতা না হলে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ও মহান জাতীয় সংসদের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি একটি অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক হলেও আমাদের প্রধান বিরোধী দল তত্ত্বাবধাযক সরকার পদ্ধতি সংবিধানে পুনঃস্থাপন ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এই পদ্ধতিতে দেয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন করছে। শুধু তাই নয়, তারা বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন সরকারের প্রতি চাপ প্রয়োগের জন্য যা একটি স্বাধীন দেশে কখনোই হওয়া উচিত নয়। বর্তমানে যে রাজনৈতিক সংকট বিরাজ করছে তার জন্য সরকার ও প্রধান বিরোধী দল প্রত্যেকেই দায়ী। আর এর সমাধান তাদেরকেই করতে হবে না হয় তৃতীয় শক্তির উত্থান ও ১/১১-এর মত কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে তাহলে গণতন্ত্র আবারও হুমকির মুখে পড়বে। এজন্য দেশের জনগণ সরকারি ও বিরোধী দল কাউকেই ক্ষমা করবে না। হাবিবুর রহমান স্নাতক (সম্মান), ইতিহাস বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ০০০০০ সমঝোতার মাধ্যমেই শান্তি ফিরে আসবে ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস প্রাণপণ যুদ্ধ করে ৩০ লাখ মা-বোনের ইজ্জত হারিয়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে আর স্বাধীন করেছে এ দেশের শান্তিপ্রিয় সাধারণ জনগণ। একমাত্র বাঙালি জাতির পক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সমঝোতায় না আসার কারণেই বিশ্ব জানে বাংলাদেশ সমঝোতাকে সম্মান করে, সমঝোতার বাইরে যারা তাদের বিরুদ্ধে লড়তে জানে। এদেশ তো ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়েছে এখন কেন সমঝোতার কথা আসছে? আর এর জন্য কে বা কারা দায়ী? দিনের পর দিন মানুষের জীবন বিষিয়ে তুলছে ক্ষমতাসীনরা, একমাত্র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে (তত্ত্বাবধায়ক) দেশে অরাজকতার সৃষ্টি করছে। পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়ে আতংকিত করছে দেশের সাধারণ মানুষের জীবন। অনুসরণ করতে ভুলে যাচ্ছে আল্লাহর কুরআন, আল্লাহর রসূলের আদর্শকে। নিজের ক্ষণিক পরাজয়কে তারা চিরকালের পরাজয় মনে করছে। আমরা যার উম্মত আমরা কেন তাঁর পথে তাঁর করা কাজের পথে পা দিব না? কেন আমরা সমঝোতার বলে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হবো। এদেশে শান্তি হেঁটে হেঁটে আসবে না। সমঝোতায় এসে শান্তিকে কিনতে হবে। নিজের লজ্জা ঢেকে। দেশের জন্য কাজ করতে হবে নিজের স্বার্থের কথা ভুলে। তবেই এদেশে শান্তি আসবে। এদেশে সমঝোতাই জনগণের শান্তির শেষ ভরসা। সাইদুল হাসান সাদ্দাম, অনার্স (পদার্থ বিজ্ঞান) সরকারী তিতুমীর কলেজ ০০০০০০ বর্তমান রাজনীতি আঁধারের পথে, উত্তরণের উপায় নেই কি? দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য দুই দলকেই কাজ করতে হবে। এর জন্য চাই আলোচনা বা সমঝোতা। আমরা স্বাধীন দেশের সচেতন নাগরিক। তাই সকল দলকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসা উচিত। এক্ষেত্রে সরকার বিরোধীদের প্রস্তাব দিতে পারে এতে কোন ক্ষতি হবে না, লাভ হবে। বিরোধী দলের উচিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং দেখা উচিত নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হয়। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু না হয় তখন আন্দোলন করা উচিত। কেননা আমরা গণতন্ত্রের পূজারী। আমাদের সকল অর্জনই আন্দোলনের ভিতর দিয়ে। তাই সাধারণ নাগরিকরা যাতে সুবিধা বঞ্চিত না হয় সেজন্য সমঝোতায় আসার প্রয়োজন। বর্তমান রাজনীতিকে অন্ধকার থেকে উত্তরণের উপায় ২টি। যথা-(১) প্রধান দুই দল বা সকল দলের সমঝোতা করা। (২) আরেকটি পথ হল “হ্যাঁ” “না” ভোটের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক নাকি নির্দলীয় সরকার দরকার তা জরিপ বা যাচাই করা। আমি মনে করি, এ সকল পদ্ধতি যদি আমরা অনুসরণ করি তাহলে স্বপ্নের ডিজিটাল সোনার বাংলা গড়তে পারব। কাজী মনির হোসেন নিউ মডেল বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স ১ম বর্ষ ফাইনাল ০০০০০ প্রধান দু’টি দল চেয়ারকে যেভাবে ভালবাসে সেভাবে দেশকে ভালবাসে না সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা না হলে দেশে ওয়ান ইলেভেনের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। একটা স্বাধীন দেশে ওয়ান ইলেভেনের মত ঘটনা ঘটে কোন্ সময়? যখন বিরোধী দল ক্ষমতাসীন দলের নিকট যৌক্তিক দাবি আদায় করতে না পারে বা বিরোধী দল এবং ক্ষমতাসীন দল যখন সমঝোতায় না আসতে পারে, বিরোধী দল তখন হরতালের মত বিভিন্ন কর্মসূচি দিতে থাকে। একপর্যায়ে যখন দেশ অচল হয়ে পড়ে, শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জেও যখন অরাজকতার সৃষ্টি হয় তখন দেশের সেনাবাহিনী বা তৃতীয় কোন লোক/দল দেশ চালাতে বাধ্য হন। ১/১১ সংকট থেকে মুক্ত হতে হলে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ভাষা হতে হবে দেশের জন্য, ক্ষমতা বা চেয়ারের জন্য নয়। ‘কিয়ামত হলেও ইলেকশন হবে, আমাদের সিদ্ধান্তের বাইরে এক চুলও সরব না’ এ সমস্ত কথা বললে বিরোধী দলের জেদ আরো বেড়ে যায়। এ থেকে সরে এসে সমঝোতার পথ বেছে নিলেই ১/১১ সংকট উত্তরণ সম্ভব। মো. আল-আমিন ট্রেড: সিভিল (১ম বর্ষ) ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ঢাকা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন